default-image

আগামী দিনের তারকাদের দিকে প্রতিটি বড় ক্লাবেরই নজর থাকে। অনেকে আগেভাগে তাঁদের কিনেও রাখে, যাতে পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর যেন তাঁদের আকাশচুম্বী দামে কেনা না লাগে। এমন সংস্কৃতির সঙ্গে রিয়াল মাদ্রিদও অপরিচিত নয়। যে কারণে দলটায় যেমন জিদান, ফিগো, কাকা, রোনালদোদের মতো প্রতিষ্ঠিত তারকারা এসেছিলেন, তেমনি আসেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রদ্রিগো, মার্কো আসেনসিও, মার্টিন ওডেগার্ডদের মতো আগামী দিনের তারকারাও।

তবে সবাই যে সফল হন রিয়ালের জার্সি গায়ে, তা কিন্তু নয়। রবার্তো কার্লোস, মার্সেলো, সের্হিও রামোস, গঞ্জালো হিগুয়েইনদের কথাই চিন্তা করুন, তাঁরা প্রত্যেকেই পুড়ে খাঁটি সোনা হয়েছেন রিয়ালে খেলার পর, আগে থেকে কেউ প্রতিষ্ঠিত তারকা ছিলেন না। ওদিকে প্রতিভা দেখিয়ে রিয়ালে এলেও পরে বিভিন্ন কারণে নিজেদের প্রতিভার প্রতি সুবিচার করতে পারেননি রবিনিও, নিকোলাস আনেলকা, ক্লাস ইয়ান হুন্টেলার, আলভারো নেগ্রেদো কিংবা নুরি সাহিনের মতো তারকারা।

আন্তোনিও কাসানো নিঃসন্দেহে দ্বিতীয় দলের যাত্রী। বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে বড় প্রতিভাবান ইতালিয়ান ফরোয়ার্ড মনে করা হতো কাসানোকে। এককালে এএস রোমায় খেলতেন ফ্রান্সেসকো টট্টির সঙ্গে। নজরে পড়লেন রিয়ালের। ব্যস, সাদা জার্সি গায়ে চাপাতে বেশি দেরি হলো না। কিন্তু ওই যে, প্রতিভা থাকলেই কী আর সবাই সফল হন? কাসানোও হননি। কেন হননি? এত দিন পর এসে তার একটা সম্ভাব্য কারণ জানালেন রিয়ালের পর এসি মিলান, ইন্টার মিলান, সাম্পদোরিয়ায় খেলা এই স্ট্রাইকার। তাঁর মতে, অতিরিক্ত নাটেলা (চকলেট স্প্রেড) খাওয়ার ফলে ওজন বেড়ে গিয়েছিল তাঁর, যে কারণে রিয়ালের মূল দলে আর খেলা হয়নি কাসানোর।

default-image
বিজ্ঞাপন

প্রথমে ভালো খেললেও আস্তে আস্তে ফর্ম হারিয়ে ফেলেন কাসানো, ‘আমি যখন রিয়ালে গেলাম, সঙ্গে সঙ্গে ১২ কেজি ওজন কমিয়ে ফেলেছিলাম। তারপর আর হলো না। তখন দলের কোচ ছিলেন ফাবিও ক্যাপেলো। টানা দুই ম্যাচে দুই গোল করে তখন আমি নিজেকে অনেকটা রাজা–বাদশাহ মনে করছি। কিন্তু লিওঁর বিপক্ষে এক ম্যাচে প্রথমার্ধের পরেই আমাকে উঠিয়ে নেওয়া হয়। এ নিয়ে কোচের সঙ্গে আমি অনেক ঝগড়া করেছি। লাভ হয়নি।’

পরে জায়গা না পাওয়ার আক্ষেপ থেকেই কি না, সমানে নাটেলা খাওয়া শুরু করে দেন কাসানো, ‘ওই সময় রিয়ালের এক পৃষ্ঠপোষক ছিল নাটেলা। প্রতি মাসে ওরা আমাদের পাঁচ কেজি করে নিউটেলা পাঠাত। পরে আমাকে মূল একাদশে তেমন খেলানো হতো না। তখনই আমি নিয়মিত নাটেলা খাওয়া শুরু করলাম। চামচভর্তি করে নাটেলা খেতাম। ওজন বেড়ে গেল ১৪ কেজি।’

হয়তো এই কারণেই সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ২৯ ম্যাচ খেলার পর আর রিয়ালের হয়ে খেলার সুযোগ পাননি কাসানো!

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন