বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গত সপ্তাহে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও টটেনহাম ম্যাচ সম্প্রচারের সময় নারী রেফারিকে বারবার সেন্সর করা হচ্ছিল। আর সরাসরি সম্প্রচারে কাঁচি চালানো হলে সেটি যে দর্শকদের জন্য খুব সুখকর কিছু নয়, সেটি তো বলা বাহুল্য। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ব্যাপারটি নিয়ে চলছে এখন বিতর্ক। অনেকেই ফুটবল খেলা সরাসরি সম্প্রচার করতে দিয়ে তাতে কাঁচি চালানোকে দেখছেন বাঁকা চোখে।

ব্যাপারটা মেনে নিতে পারছেন না ইরানের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন কুস্তিগির সর্দার পাশাই। তিনি টুইটারে এর সমালোচনা করে লিখেছেন, ‘গত রাতে ইরানের টিভি চ্যানেলটি কেবল ম্যাচে নারী রেফারি থাকার কারণে বেশ অনেকবার ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও টটেনহামের ম্যাচটি সেন্সর করে। লিঙ্গের ভিত্তিতে এই বিভক্তিকরণের বিরুদ্ধে ফিফা কি কোনো প্রতিবাদ জানাবে না?’

একটি নারী অধিকার রক্ষাকারী সংস্থার দাবি, ম্যাচের নারী রেফারি স্বাভাবিকভাবেই হাফ প্যান্ট পরেছিলেন। আর সেটিই এই সেন্সরের মূল কারণ। সম্প্রচারকারী টেলিভিশন চ্যানেলটি ম্যাচে যখনই নারী রেফারিকে দেখানো হয়েছে, তখনই বাইরে ফুটেজ জুড়ে দিয়ে সেটি সেন্সর করেছে। ব্যাপারটা এমন দাঁড়িয়েছিল যে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড আর টটেনহামের মধ্যকার ম্যাচটি দেখার মধ্যেই দর্শকেরা বিভিন্ন ভ্রমণবিষয়ক জ্ঞান লাভ করেছেন। কারণ, জুড়ে দেওয়া ফুটেজগুলোর বেশির ভাগই ছিল ইংল্যান্ডের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানের।

default-image

ইরানের এমন কিছু অবশ্য নতুন নয়। ২০১৮ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগের সময় ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেল ইতালীয় ক্লাব এএস রোমার জার্সিতে থাকা ব্যাজ ঝাপসা করে দিয়েছিল। বার্সেলোনার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের সেই ম্যাচে রোমার ব্যাজ ইরানের দর্শকেরা ঝাপসা দেখেছেন, কারণ সেটি ইরানের সরকারের কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল না।

মহিলা অধিকার রক্ষার্থে সক্রিয় মাই স্টেলদি ফ্রিডম আবার এক ধাপ এগিয়ে দাবি করে, মহিলা রেফারির উন্মুক্ত পা ম্যাচ সেন্সর হওয়ার আসল কারণ, ‘সম্প্রচারকারী সংস্থা শর্টসে এক মহিলা রেফারির উপস্থিতিতে ঘাবড়ে যায়। সমস্যার সমাধান করতে তারা ম্যাচের সম্প্রচার বিঘ্নিত করে লন্ডনের রাস্তাঘাটের ছবি দেখায়। ম্যাচের শেষে এক ধারাভাষ্যকার মজার ছলে জিজ্ঞেস করেন দর্শকেরা ভৌগোলিক অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেছেন কি না। এমন ধরনের মতাদর্শের বিরুদ্ধে আমাদের তীব্র প্রতিবাদ জানানো উচিত।’

বর্তমান সময়ের সমাজ পুরুষ ও মহিলার সমান অধিকারের দাবিতে উত্তাল। ইউরোপের বিভিন্ন খেলায় মহিলা রেফারির উপস্থিতি এই মতাদর্শের এক বিশাল উদাহরণ। এমনকি গত মৌসুমের আইপিএলে মহিলা আম্পায়ারের উপস্থিতি দেখায় যে ইউরোপীয় দেশগুলোর পাশাপাশি ভারত এবং এশিয়ার বিভিন্ন দেশও এই বিষয়ে সচেষ্ট। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের এই ঘটনা প্রমাণ করে যে পরিবর্তন আসতে এখনো অনেকটা পথ হাঁটা বাকি।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন