মাঝরাতে কি দুঃস্বপ্ন দেখে ধড়ফড় করে জেগে ওঠেন অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়া? গগনবিদারী চিৎকারে প্রকম্পিত মারাকানা স্টেডিয়াম, হঠাৎ মারিও গোটশে স্থবির করে দিলেন আকাশি-নীলের উচ্ছ্বাস। অক্ষম ডি মারিয়া মাঠের বাইরে থেকে দেখছেন জার্মানদের উল্লাস। কিছু করার নেই, চোটের কারণে চাইলেও যে মাঠে নামতে পারছেন না! ক্যারিয়ারে অনেক কিছু জিতেছেন, আরও অনেক কিছু জিতবেনও। কিন্তু ডি মারিয়ার ওই আক্ষেপ হয়তো কখনোই ঘুচবে না।
অনেক আর্জেন্টাইনের আফসোস, বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ডি মারিয়াকে পেলে ফাইনালের ফলটা অন্য রকমও হতে পারত। কিন্তু তিনি নিজেও কি তাই মনে করেন? ফিফাডটকমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের আর্জেন্টাইন উইঙ্গার নিয়তিকেই মেনে নিলেন, ‘হয়তো ঈশ্বরেরই ইচ্ছা ছিল আমি ফাইনালে খেলতে পারব না। সে জন্যই হয়তো আমি ওখানে থাকতে পারিনি। খেলোয়াড়েরা তো নিজেদের সেরাটাই ঢেলে দিয়েছিল। ওই ম্যাচ জেতার অনেক সুযোগ আমরা পেয়েছিলাম, কিন্তু বল যেন ভেতরেই ঢুকতে চাচ্ছিল না। ওরা শুধু দুটি সুযোগ পেয়েছিল—একটা পোস্টে লেগেছিল, আরেকটা গোল হয়ে যায়। এটাই ফুটবল।’
গত বছরটাই অবশ্য এই উইঙ্গারের ঘটনাবহুল গেছে। বিশ্বকাপ ফাইনালে হেরে যাওয়ার অতৃপ্তি যেমন আছে, রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে লা ডেসিমা জয়ের অর্জনও আছে গলাগলি করে। মজার ব্যাপার, ডি মারিয়া কিন্তু ফাইনালে হেরে যাওয়ার চেয়ে ওঠাটাকেই দেখলেন বড় করে, ‘অদ্ভুত শোনাতে পারে, কিন্তু বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠাটাকেই আমি গত বছরের স্মরণীয় মুহূর্ত বলব। কখনোই চিন্তা করিনি এ রকম একটা কিছুর অংশ হতে পারত। আমার ক্যারিয়ারেরই সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত এটা।’
জাতীয় দলে খেলার সুবাদে লিওনেল মেসিকে দেখেছেন খুব কাছ থেকে। আবার ক্লাবে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে পেয়েছেন সতীর্থ হিসেবে। ডি মারিয়া কাকে এগিয়ে রাখবেন? ২৬ বছর বয়সী উইঙ্গার কূটনৈতিকই হলেন এ ক্ষেত্রে, ‘দেখুন, ওরা কিন্তু পুরোপুরি ভিন্ন ধরনের খেলোয়াড়। লিও প্রতিটা ম্যাচেই দারুণ সব ড্রিবল করে, দু-তিনজনের মধ্যে থেকেও বল নিয়ে বেরিয়ে আসতে পারে। ক্রিস্টিয়ানো নির্ভর করে শক্তির ওপর, দূরপাল্লার শটের ওপর। আমি ফিফা হলে দুটি ব্যালন ডি’অর রাখতাম। একটা ওদের দুজনের জন্য, অন্যটা বাকিদের জন্য।’
মেসির ক্লাব ছাড়ার গুঞ্জনটা বেশ কয়েক দিনই বাতাসে ভেসেছিল। ডি মারিয়া অবশ্য মনে করেন, আর্জেন্টাইন সতীর্থ বার্সেলোনাতেই থেকে যাবেন। তবে হোসে মরিনহোর সঙ্গে পুনর্মিলনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। তার মানে কি মরিনহোকেই বার্সায় দেখছেন ডি মারিয়া! ফিফাডটকম।

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন