নেইমারকে ছাড়াই আরাম করে গোল উৎসব ব্রাজিলের
লিভারপুলে খেলার স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছিলেন ফিলিপ কুতিনিও।
ম্যাচের তখন ৬২ মিনিট। রক্ষণভাগ থেকে খানিকটা এগিয়ে কুতিনিওকে লম্বা পাস বাড়ান ব্রাজিল ডিফেন্ডার মার্কুইনহোস। বাকিটা চলতি মৌসুমে ধারে অ্যাস্টন ভিলায় যোগ দেওয়া ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডারের জাদু!
কুতিনিও বল ধরে একটু এগিয়ে বাতাসে ভাসানো শট নেন, লিভারপুলে থাকতে বক্সের বাইরে থেকে যেভাবে গোল করতেন, তেমনই এক গোল! প্যারাগুয়ে গোলকিপার আন্তনি সিলভার বাতাসে খামচি মারা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না।
তবে তিতে কোচ হয়ে আসার পর ব্রাজিলের জার্সিতে বক্সের বাইরে থেকে কুতিনিওর গোল করাটা একদম নতুন কিছু নয়। এ সময় বক্সের বাইরে থেকে ৬ গোল করেছেন কুতিনিও, তিতের সময়ে ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড়দের মধ্যে যা সর্বোচ্চ। ২০২০ সাল থেকে হিসাব করলে এই ম্যাচেই প্রথম তিতের একাদশে ঠাঁই পেলেন কুতিনিও। ফেরাটা স্মরণীয় করে রাখলেন দর্শনীয় এক গোলে।
চোটে পড়া নেইমারের অনুপস্থিতি বুঝতে না দিয়ে প্যারাগুয়ে রক্ষণকে ভালোই নাচিয়েছেন কুতিনিও-ভিনিসিয়ুস-রাফিনহারা। কাতার বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে প্যারাগুয়েকে ৪-০ গোলে হারিয়ে শীর্ষস্থান ধরে রাখল আগেই চূড়ান্ত পর্ব নিশ্চিত করা ব্রাজিল।
কুতিনিওর ছবির মতো সুন্দর গোলটির আগে রাফিনহার কাছ থেকে দারুণ ফিনিশিংয়ের দেখা পেয়েছে ব্রাজিল। ম্যাচের তখন ২৮ মিনিট এবং এবারও পাসদাতা মার্কুইনহোস।
তাঁর দূরপাল্লার পাস ডান প্রান্তে পায়ের ওপর নিয়ে চলন্ত অবস্থায় এক ডিফেন্ডারকে পরাস্ত করেন লিডস উইঙ্গার। আরেক ডিফেন্ডার ছুটে আসার আগেই বাঁ পায়ের শটে গোল করেন রাফিনহা।
কুতিনিওর গোলের এক মিনিট আগে ম্যাচে দারুণ খেলা ভিনিসিয়ুসকে তুলে আয়াক্স উইঙ্গার অ্যান্টনিকে নামান ব্রাজিল কোচ তিতে। ৮৬ মিনিটে এভারটন রিবেইরোর পাস থেকে তাঁর করা গোলটিও লেটার মার্কস পাবে।
বাঁ প্রান্তে বক্সের মধ্যে পাসটা ধরে ওই পায়েই লিওনেল মেসির মতো বাতাসে ভাসানো বাঁকানো শটে গোল করেন অ্যান্টনি। দুই মিনিট পর রদ্রিগোর গোলটি দলীয় আক্রমণের ফসল। ৮২ মিনিটে লুকাস পাকেতার বদলি হয়ে নামা রদ্রিগো চলতি দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইপর্বে ব্রাজিলের হয়ে সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা (২১ বছর ২৩ দিন)।
নির্ধারিত সময়ের শেষ চার মিনিটে ব্রাজিলের করা দুটি গোলের শেষটি আবার রদ্রিগোর জন্য স্মরণীয়। ব্রাজিলের হয়ে রিয়াল মাদ্রিদ স্ট্রাইকারের এটাই যে প্রথম গোল। বাছাইপর্বে ১৫ ম্যাচেই অপরাজিত থাকা ব্রাজিল ৩৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ঘরের মাঠে এ নিয়ে ৬১ ম্যাচ অপরাজিত রইল ব্রাজিল। ১৫ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট পাওয়া প্যারাগুয়ের এই হারে কাতার বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেল।
ম্যাচের ৯৩ সেকেন্ডেই গোল পেতে পারত ব্রাজিল। দলীয় আক্রমণ থেকে রাফিনহার গোল বাতিল করে দেয় ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর)। বিরতির পর তাঁর শটও প্যারাগুয়ের গোলপোস্টে লেগে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ব্রাজিলের আক্রমণভাগের দুই খেলোয়াড় ভিনিসিয়ুস ও ম্যাথিয়ুস কুনহাও গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন।
চূড়ান্ত পর্ব আগেই নিশ্চিত হওয়ায় এ ম্যাচে একাদশ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন ব্রাজিল কোচ তিতে। গোলপোস্টে এদেরসন, লেফটব্যাক হিসেবে অ্যালেক্স তেয়োস ও অভিজ্ঞ দানি আলভেজকে খেলান তিনি।