ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে দামি চুক্তি করা এমবাপ্পেকে কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে নতুন স্বপ্নের নতুন রথ সাজাচ্ছে পিএসজি। মেসির বয়স ৩৪ বছর, বয়সই তাঁকে এখন আর কোনো ক্লাবের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখবে না। ৩০ বছর বয়সী নেইমারকে ২০১৭ সালে দলবদলের অঙ্কের ইতিহাস নতুন করে লিখিয়ে প্যারিসে এনেছিল পিএসজি। এই পাঁচ মৌসুমে লিগ এবং কিছু গোল ছাড়া পার্ক দে প্রিন্সেসের ক্লাবটিকে আর কী দিতে পেরেছেন নেইমার? চোট ও মাঠের বাইরের বিতর্ক।

গত মৌসুম চলাকালীন বহুবার খবর এসেছে, নেইমারের মাঠের বাইরের জীবনযাত্রায় বিরক্তি পিএসজি সভাপতি খেলাইফি। সংবাদমাধ্যম গোল ডটকম জানিয়েছে, ভালো দাম পেলে গ্রীষ্মকালীন দলবদলের মৌসুমেই নেইমারকে বিক্রি করতে চায় পিএসজি। ওদিকে ব্রাজিলিয়ান তারকা নিজেই বলেছেন, পিএসজিতেই থেকে যেতে চান। এখন এই দুই পক্ষের চিন্তাভাবনার প্রতি সমর্থনসূচক বেশ কিছু খবর ভাসছে ইউরোপিয়ান ফুটবলের বাতাসে।

পিএসজি যে নেইমারকে ছাড়তে চায়, প্রথমে এ ভাবনার পক্ষের একটা খবর দেওয়া যাক। স্প্যানিশ টিভি অনুষ্ঠান ‘চিরিনগিতো’ জানিয়েছে, পাঁচ কোটি ইউরোয় নেইমারকে বার্সার কাছে বেচার প্রস্তাব দিয়েছে পিএসজি। এই বার্সা থেকেই নেইমারকে ২২ কোটি ২০ লাখ ইউরোয় কিনে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছিল পিএসজি। তবে এ খবরের সত্যতা এখনো যাচাই করা যায়নি।

দলবদলের শুরু থেকেই শোনা যাচ্ছে, আক্রমণভাগের জন্য বায়ার্ন মিউনিখ থেকে রবার্ট লেভানডফস্কিকে আনার চেষ্টা করছে বার্সা। কিন্তু বায়ার্ন যেহেতু লেভাকে ছাড়তে নারাজ, তাই নেইমার...দুইয়ে দুইয়ে চার মিলিয়ে নিতে পারেন অনেকে!

তবে এ বিষয়ে দুইয়ে দুইয়ে চার না মেলানোর খবর দিয়েছে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘লে’কিপ’। সেটি আবার নেইমারের পিএসজিতে থেকে যাওয়ার পক্ষে। সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, নেইমারের সঙ্গে পিএসজির সর্বশেষ চুক্তিপত্রে একটি শর্ত ব্রাজিলিয়ানের প্যারিসের ক্লাবটিতে থেকে যাওয়ার পক্ষে কাজ করবে। দেড় বছর আগে নেইমার যখন ২০২৫ সাল পর্যন্ত চুক্তি নবায়ন করেন, তখন সেই চুক্তিপত্রে শর্ত ছিল, ২০২৫ সাল পর্যন্ত চুক্তির মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে পিএসজিতে তাঁর মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়বে, অর্থাৎ ২০২৭ সাল পর্যন্ত। আর এ শর্ত কার্যকর হবে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে। এখন পিএসজি যদি সত্যিই নেইমারকে ছেড়ে দিতে চায়, তাহলে চুক্তির সেই শর্ত নিয়ে ঝামেলায় পড়তে পারে।

default-image

খেলাইফি ‘মার্কা’, ‘লা পারিসিয়েন’ ও ‘গাজেত্তা দেল্লো স্পোর্টস’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেইমারকে বিক্রির কথা বলেননি, অন্তত সরাসরি এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্যই করেননি। কিন্তু ইঙ্গিতপূর্ণ কথা আছে প্রচুর। যেমন সাক্ষাৎকারের একপর্যায়ে তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, নতুন পরিকল্পনায় নেইমার থাকবেন কি না। খেলাইফির উত্তর, ‘সংবাদমাধ্যমে এসব নিয়ে কথা বলা ঠিক হবে না। অনেকে আসবে, অনেকে চলে যাবে। এসব ব্যক্তিগত দর-কষাকষির বিষয়।’

সাক্ষাৎকারে আরেকটি জায়গায় এসে খেলাইফি সামনের মৌসুম নিয়ে এমন কিছু কথা বলেছেন, যা নেইমারকে একরকম বার্তা দেওয়াই, ‘আমি আশা করি, সব খেলোয়াড় গত মৌসুমের চেয়ে নিজেকে বেশি করে নিংড়ে দেবে। আরও বেশি! বার্তাটা পরিষ্কার—প্রতিদিন ২০০ শতাংশ ঢেলে দাও। তারপর দেখা যাক, কী ঘটে। আমরা বিনয়ী থাকব। চোট, নিষেধাজ্ঞা ও অকারণে ফাউল পরিহার করব। আমরা এটা জিততে চাই, ওটা জিততে চাই—এসব বলাও থামাতে হবে। মাঠ ও মাঠের বাইরে শৃঙ্খলাপরায়ন থাকতে হবে। যারা আরাম-আয়েশে সময় কাটাতে চায়, তারা একঘরে হয়ে যাবে।’

ফরাসি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, নেইমারের জন্য সন্তোষজনক প্রস্তাব পেলে পিএসজি তাঁকে ছেড়ে দিতে দ্বিধা করবে না। তবে এ ক্ষেত্রে সমস্যা হলো তাঁর পারিশ্রমিক।

default-image

পিএসজিতে এমবাপ্পের পর নেইমারের বেতনই সবচেয়ে বেশি। ব্রাজিলিয়ান তারকাকে এমন বেতনে খেলানোর ক্লাব খুব কমই আছে ইউরোপে। এই হিসাব বলছে, পিএসজি যদি সত্যিই নেইমারকে বেচতে চায় এবং তাঁর চুক্তির ওই শর্ত সত্য হয়, তাহলে সামনে বড় ঝামেলাই অপেক্ষা করছে ক্লাবটির জন্য।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন