নেইমারের কারণে ২০ লাখ মানুষ হুমকি দিয়েছেন তাঁকে

নেইমারের সঙ্গে ঝামেলায় জড়িয়ে মৃত্যুর হুমকি পেয়েছেন গঞ্জালেস।ফাইল ছবি রয়টার্স

শরীরনির্ভর খেলায় মাঠে ঠোকাঠুকি হতেই পারে। সে সুবাদে ঝগড়া, বাদানুবাদ, এমনকি হালকা মারামারিও খুব একটা বিরল কিছু নয়। আলভারো গঞ্জালেস আবার একটু বেশিই আবেগপ্রবণ। মাঠে বরাবরই বড় তারকাদের খেপিয়ে তোলেন। জেরার্ড পিকে, লিওনেল মেসিদের খেপিয়ে আগেও খবরের শিরোনাম হয়েছেন। তাই নেইমারের সঙ্গে লিগ আঁতে গঞ্জালেসের গন্ডগোল পাকানোয় খুব একটা অবাক হয়নি কেউ।

অলিম্পিক মার্শেইয়ের বিপক্ষে খেলতে নেমে ম্যাচের শেষ দিকে গঞ্জালেসের মাথায় আঘাত করে লাল কার্ড দেখেছেন নেইমার। তবে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড দাবি করেছিলেন, তাঁর সঙ্গে বর্ণবাদী আচরণ করেছেন স্প্যানিশ ডিফেন্ডার। আবার নেইমারের বিরুদ্ধেও উঠেছিল বর্ণবাদের অভিযোগ। শেষ পর্যন্ত প্রমাণ না মেলায় দুজনই শাস্তি থেকে বেঁচে গেছেন। কিন্তু গত কয়েকটা দিন ভালো কাটেনি গঞ্জালেসের। নেইমারের সঙ্গে ঝামেলা পাকানোয় তাঁকে হুমকি দিয়ে মেসেজ পাঠিয়েছেন লাখ লাখ মানুষ!

সেই কবে ১৩ সেপ্টেম্বরে মারামারি হয়েছিল নেইমার-গঞ্জালেসের মধ্যে। এরপর গত কয়েক সপ্তাহ বেশ উৎকণ্ঠার মধ্যে পার করেছেন দুজন। নেইমার সময় কাটিয়েছেন নিষেধাজ্ঞার ভয় নিয়ে আর গঞ্জালেস জীবনের! অন্তত এই ডিফেন্ডার সে দাবিই করছেন। ড্রাগন স্পোর্ট ব্র্যান্ডের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘হোয়াটসঅ্যাপে আমাকে ২০ লাখের বেশি বার্তা পাঠানো হয়েছে। বিভিন্ন ভাষায় লেখা সব হুমকি পাঠানো হয়েছে। এর কিছুই আমি বুঝতে পারিনি।’

সব বার্তা যে বোঝেননি গঞ্জালেস, তা–ও নয়। কিছু কিছু হুমকি এত পরিষ্কারভাবে পাঠানো হয়েছে যে বুঝতে কোনো অসুবিধা হয়নি সাবেক এস্পানিওল তারকার, ‘আমরা যে গাড়িটা ব্যবহার করি, সেটার ছবি পাঠিয়েছে একজন। বলেছে আমার বাসায় এসে খুন করে যাবে। একদিন তো এমন বার্তাও দিল যে আমার মা–বাবা যে দোকানে কাজ করে, সেখানে যাবে এবং তাদেরও খুন করবে। আমি খুব ভয় পেয়েছি। আমার সঙ্গে এমন কিছু কখনো হয়নি। তারা যখন আমার কাছের মানুষদের লক্ষ্য বানাতে শুরু করল, ব্যাপারটা খুব কঠিন হয়ে উঠল।’

নেইমার সেদিন ভালোই খেপেছিলেন গঞ্জালেসের ওপর।
ফাইল ছবি রয়টার্স

নেইমারের সঙ্গে সে ঘটনার পরই বিপদ হতে পারে বুঝতে পেরেছিলেন গঞ্জালেস। নেইমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে বর্ণবাদের অভিযোগ তুলেছিলেন। কিন্তু ভিডিও রিপ্লেতে বরং নেইমারের বিরুদ্ধেই প্রমাণ খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল। নেইমারের মতো মহাতারকার সঙ্গে ঝামেলায় জড়ানো যে তাঁর জীবন কঠিন করে তুলবে, সেটা নাকি সে রাতেই টের পেয়েছিলেন গঞ্জালেস, ‘সে রাতে আমি ঘুমাতে পারিনি, কারণ, নেইমারের প্রভাব অনেক। আমার মনে হয় না সে নিজেও জানে যে সে যা করে, তার প্রভাব কত বেশি এবং সে কী করতে পারে, সেটা সম্পর্কে তার ধারণা আছে। আমরা এত ভয় পেয়েছিলাম, পরদিন আমার মা–বাবা আমাদের সঙ্গে থেকেছেন। সবাই একসঙ্গে থাকতে চেয়েছি এবং আমার বাসা থেকেই পুরো ব্যাপারটার শেষ দেখতে চেয়েছি।’

আরও পড়ুন

পরিস্থিতি এত খারাপ হয়েছিল যে ক্যারিয়ারের অনেক বড় এক সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেছিলেন প্রায়। ফ্রান্স ছেড়ে স্পেনে ফেরার চিন্তাভাবনা শুরু করে দিয়েছিলেন এই ডিফেন্ডার, ‘সময়টা আমাদের জন্য খুব কঠিন ছিল। আমার মা–বাবা দেখেছেন আমি প্রতিদিন কী অবস্থায় ঘরে ফিরছি, কতটা মন খারাপ আমার। আমি ক্লাব ছাড়ার কথা ভেবেছি। বর্ণবাদী (পরিচিত হওয়া) কারও এই শহরে থাকা কঠিন, অসম্ভব। আমি কোচ ও ক্লাব সভাপতিকে বলেছি, যদি তারা আমার কথা বিশ্বাস না করে, তাহলে আমি ক্লাব ছেড়ে দেব।’