পিএসজি তারকা নেইমার।
পিএসজি তারকা নেইমার।ছবি: এএফপি

মিনো রাইওলা ও আলফি হরলান্ডের ইউরোপ ভ্রমণ শেষ হয়নি এখনো। গত সপ্তাহে আর্লিং হরলান্ডের জন্য ইউরোপের সব পরাশক্তির দরজায় ঠক ঠক করার সিদ্ধান্ত নিয়ে পথে বের হয়েছিলেন সুপার এজেন্ট রাইওলা। নিজের খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ বেতন ও নিজের আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য বেশ বিখ্যাত এই এজেন্ট তাঁর হাতে থাকা সেরা তরুণ প্রতিভার সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে চাইছেন। প্রথমেই চলে গেছেন বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদের কাছে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই ক্লাবের বৈরিতা কাজে লাগিয়ে দর বাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টাকে সূক্ষ্ম বলারও উপায় নেই।

হরলান্ডকে নিলামে তোলার এই চেষ্টা শুধু বার্সা-রিয়ালে আটকে রাখার ইচ্ছা নেই রাইওলার। তাই হরলান্ড সিনিয়রকে নিয়ে ইংল্যান্ডের সেরা দলগুলোতেও পায়ের ধুলা দেওয়ার কথা তাঁর। চেলসি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, ম্যানচেস্টার সিটি ও লিভারপুলের সামনেও টোপ ফেলতে চাইছেন রাইওলা। পরিপূর্ণ স্ট্রাইকারের আকালের দিনে সর্বোচ্চ পর্যায়ের ফুটবলে ম্যাচপ্রতি অন্তত এক গোল করা একজনকে পেতে সব দলের আগ্রহের কথা ভালোই জানা তাঁর।

এর মধ্যেই যে কথা রটেছে, তাতে আগ্রহী ক্লাবের সংখ্যা এক ধাক্কায় কমে যাওয়ার কথা। আগেই বলা হয়েছে, নিজের ক্লায়েন্টের সর্বোচ্চ সুবিধা আদায় করার জন্য বিখ্যাত রাইওলা। হরলান্ডের মতো এক তারকার জন্য যথোপযুক্ত বেতন আদায় করতে চাইছেন রাইওলা। কিন্তু বেতনের অঙ্কটা কত? ইউরোপের সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, অঙ্কটা পিএসজির ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড নেইমারের বেতনের প্রায় দ্বিগুণ!

বিজ্ঞাপন
default-image

যে সংবাদমাধ্যম এ দাবি তুলেছে, তাদের খবর নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা যায়। ইংলিশ ট্যাবলয়েড মিরর দাবি করেছে, হরলান্ডের বেতন হিসেবে সপ্তাহে ১ মিলিয়ন বা ১০ লাখ পাউন্ড দাবি করেছেন রাইওলা। অর্থাৎ কর–পূর্ব বার্ষিক ৫ কোটি ২০ পাউন্ড বেতন চাওয়া হচ্ছে। ইউরোপে খেলোয়াড়দের দলবদলের অঙ্ক ও বেতনের ক্ষেত্রে ইউরোর মূল্যমানই সবার কাছে গ্রহণযোগ্য। সে হিসাব অনুযায়ী, ২০ বছর বয়সী নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকারকে বার্ষিক ৬ কোটি ইউরো দিতে হবে, এমনটাই দাবি তুলেছেন রাইওলা।

স্ট্রাইকারের আকালের যুগে এমন দাবি রাইওলা তুলতেই পারেন। তবে এই বেতন শুনে অধিকাংশ দলই হয়তো পিছু হটবে। ইংলিশ প্রিমিয়ার দলগুলো এমন বেতনের কথা কল্পনাও করতে পারে না। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে সবচেয়ে বেশি বেতনভোগী ফুটবলারের নাম দাভিদ দে হেয়া। স্প্যানিশ গোলকিপারকে ইউনাইটেড বছরে ২ কোটি ২২ লাখ ইউরো বেতন দেয়।

হরলান্ডের সঙ্গে ইংল্যান্ডের অন্য যে তিন দলের নাম জড়িয়ে দলবদলের গুঞ্জন শোনা যায়, সে তিন দলের সর্বোচ্চ বেতনের হিসাবও হতাশ করবে রাইওলাকে। সিটি সবচেয়ে বেশি বেতন দেয় কেভিন ডি ব্রুইনাকে। নতুন চুক্তিতে কত পাচ্ছেন, সেটা এখনো জানা না গেলেও এই বছর পর্যন্ত বছরে ১ কোটি ৮৯ লাখের একটু বেশি পেতেন বেলজিয়ান মিডফিল্ডার। লিভারপুলের সর্বোচ্চ বেতনভোগী ফুটবলারও ১ কোটি ৩০ লাখ ইউরোর বেশি পান না। চেলসির ক্ষেত্রেও অঙ্কটা লিভারপুলের কাছাকাছি।

default-image

এদিক থেকে রিয়াল বা বার্সেলোনার কাছে যাওয়াটাই বেশি যুক্তিযুক্ত হবে রাইওলার জন্য। কিন্তু বাস্তবতা বলছে, হরলান্ডের জন্য এত বেতন হয়তো রিয়ালও দিতে রাজি হবে না। জুভেন্টাসে বর্তমানে ৫ কোটি ৪৩ লাখ ইউরো বেতন পান ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। রিয়ালকে পাঁচ বছরে চারটি চ্যাম্পিয়নস লিগ এনে দেওয়া পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড রিয়ালে বেতন পেতেন ৪ কোটি ইউরোর একটু বেশি। রিয়াল সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ সেই বেতন বাড়াতে রাজি হননি বলেই স্পেন ছেড়েছেন রোনালদো।

সেখানে করোনা–পরবর্তী পৃথিবীতে হরলান্ডকে ছয় কোটি ইউরো দেবেন পেরেজ, এটা একটু অবিশ্বাস্য। রিয়ালে বর্তমানে সর্বোচ্চ বেতনভোগী দুজন। গ্যারেথ বেল ও এডেন হ্যাজার্ডের পেছনে যৌথভাবেই ছয় কোটি ইউরো ব্যয় করা রিয়াল এমনিতেই বেলের বেতনের হাত থেকে মুক্তির উপায় খুঁজছে।

বার্সেলোনা অবশ্য একজন ফুটবলারের পেছনে এত বেতন খরচ করতেই পারে। ক্লাবের ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড় মেসিকে তারা বছরে ১২ কোটি ৬০ লাখ ইউরো বেতন দেয়। এ মৌসুম শেষে মেসি চলে গেলে হরলান্ডকে ছয় কোটি ইউরো বেতন দিতে তাই কষ্ট হবে না বার্সেলোনার।

কিন্তু মেসির জন্য ১২ কোটির বেশি খরচ করে বলেই যে হরলান্ডের জন্য বার্সেলোনা ৬ কোটির প্রস্তাবে রাজি হবে, এমনটা নয়। বার্সেলোনার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেতনভোগী আঁতোয়ান গ্রিজমান যেমন আপাতত ৩ কোটি ৪৮ লাখ ইউরোতেই সন্তুষ্ট হচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন

সেদিক থেকে আর একটিই পথ খোলা আছে হরলান্ড ও রাইওলার সামনে। সেটি আর্থিকভাবে ইউরোপের বাকি সব দলকে ছাপিয়ে যাওয়া পিএসজি। কাতারের অর্থে বলীয়ান এই ক্লাবের পক্ষেই সম্ভব হরলান্ডদের দাবি মেনে তাঁকে টেনে আনা। তবে সেটাও আপাতত দূর কল্পনা মনে হচ্ছে। বিশ্ব ফুটবলে হরলান্ড ছাড়া আর যে দুজন ফুটবলারকে যেকোনো দল পেতে চাইবে, সে দুজনই এখন পিএসজিতে খেলেন। কোন দুজন আবার, নেইমার আর কিলিয়ান এমবাপ্পে!

default-image

ফুটবলের দলবদলের বিশ্ব রেকর্ডের শীর্ষ দুইয়ে থাকা এ দুজন পিএসজিতে ভালোই বেতন পান। কিন্তু হরলান্ডের জন্য রাইওলা যে বেতন চাইছেন, তা পিএসজিতে এ দুজনের মোট বেতনের সমান! পিএসজি নেইমারকে ৩ কোটি ৬৭ লাখ ইউরো দিচ্ছে আপাতত। নতুন চুক্তিতে নেইমারের সমান বেতন দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে এমবাপ্পেকেও। আপাতত বছরে ২ কোটি ৫১ লাখ ইউরো বেতন পাচ্ছেন ২২ বছর বয়সী ফ্রেঞ্চ ফরোয়ার্ড। অর্থাৎ এমবাপ্পের দ্বিগুণ তো বটেই, নেইমারেরও প্রায় দ্বিগুণ বেতনের আশা করছেন রাইওলা।

রাইওলা ও হরলান্ড সিনিয়রের স্পেন–যাত্রার পরই পেপ গার্দিওলাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল হরলান্ডকে পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে। হাজার হলেও পূর্ব ইতিহাস, ক্লাবের প্রয়োজন ও অর্থশক্তি মিলিয়ে সিটি ও হরলান্ডের মিলনই দেখছেন সবাই। আরেকটা যোগসূত্র তো হরলান্ডের পারিবারিক। আর্লিং হরলান্ডের বাবা আলফি হরলান্ড অনেক বছর খেলেছেন সিটিতে, তখনো অবশ্য সিটি আজকের সিটি হয়নি। আলফি হরলান্ড সিটিতে আসার পরই জন্ম হয়েছিল আর্লিং হরলান্ডের।

কিন্তু জুনিয়র হরলান্ডেরও সিটিতে যাওয়ার ব্যাপারে গার্দিওলা বলেছিলেন, ‘আমি জানি না কী হবে, তবে এই মূল্যে কোনো স্ট্রাইকার কিনব না আমরা।’ হরলান্ডের বেতন হিসেবে যা দাবি করছেন রাইওলা, তাতে এমন কথা হয়তো সব ক্লাবের পক্ষ থেকেই জানিয়ে দেওয়া হবে।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন