দুজনকে একই জার্সিতে দেখা যাবে?
দুজনকে একই জার্সিতে দেখা যাবে?ছবি: রয়টার্স

গুঞ্জনগুলো সত্যি হয়ে গেলে পিএসজি–ভক্তদের চেয়ে খুশি আর কেউ হবেন না। ভাবুন একবার, আগামী মৌসুমে পিএসজির জার্সিতে একই সঙ্গে মাঠে নামছেন লিওনেল মেসি, নেইমার, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও সের্হিও রামোস!

নেইমার আর এমবাপ্পে তো পিএসজিতে আছেনই, আগামী মৌসুমে মুফতেই মেসি ও রামোসকেও নিয়ে যাচ্ছে পিএসজি; এমনই গুঞ্জন ইউরোপের সংবাদমাধ্যমে। বার্সেলোনায় মেসির আর রিয়াল মাদ্রিদে রামোসের চুক্তি এই মৌসুমেই শেষ। নবায়নের ক্ষেত্রেও আছে নানা জটিলতা। সে কারণে আগামী মৌসুমে মেসি-রামোসের ঠিকানা কোথায় হবে, সেটি এখন ইউরোপিয়ান ফুটবলে বড় আলোচনার বিষয়। আর সে আলোচনায় দুজনেরই গন্তব্য হিসেবে পিএসজির নাম আসছে বারবার।

আসলেই কি যাচ্ছেন তাঁরা পিএসজিতে? সেটি নিয়েই এবার কথা বলেছেন পিএসজির নতুন কোচ মরিসিও পচেত্তিনো। উত্তরে সরাসরি হ্যাঁ কিংবা না কিছুই বলেননি আর্জেন্টাইন কোচ, বলার কথাও নয়। তবে উত্তরের অন্তর্নিহিত ইঙ্গিতে পিএসজি–ভক্তদের আশার পারদ চড়তে পারে।

বিজ্ঞাপন
default-image

মেসিকে পিএসজি চায়, এটিও সম্ভবত এখন আর গোপন কিছু নয়। প্যারিসের ক্লাবটির ক্রীড়া পরিচালক লিওনার্দো গত সপ্তাহেও মেসিকে পিএসজির কিনতে চাওয়ার ইচ্ছার প্রশ্নে বলেছেন, ‘সেরা খেলোয়াড়দের পিএসজি সব সময়ই চায়।’ সেটি নিয়ে আবার খেপেছেন বার্সার আগামী সভাপতি নির্বাচনের প্রার্থী হোয়ান লাপোর্তা। তাঁর চোখে পিএসজির এভাবে সরাসরি মেসিকে কিনতে চাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ বার্সাকে অপমান করা।

সে কারণেই কি না, পচেত্তিনো কথা বলেছেন অনেক রাখঢাক রেখে। স্প্যানিশ দৈনিক মার্কায় সাক্ষাৎকারে মেসির পিএসজিতে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে পচেত্তিনোর কথা, ‘আমি যা-ই বলব, সেটিকে ভুল বোঝা হবে। আর এখানে (পিএসজি) আমার হাতে যা আছে, তাতেই আমি খুশি।’ কিন্তু পরের কথাতেই আবার ইঙ্গিত, ‘গ্রেট ফুটবলাররা যেকোনো লিগে, যেকোনো দলেই মানিয়ে নিতে পারে। আমি অন্য দলের খেলোয়াড়দের সম্মান করি। আর এসব নিয়ে কথা বললে তারা (ক্লাব কর্তৃপক্ষ) খেপে যাবে। সেটার কারণও আমি বুঝি। তবে এটাও বুঝি, ফুটবলে কেউই সাধু নয়। কেউ নিজের দলের শক্তি বাড়াতে চাইলে, সেটি নিয়ে অন্য কেউ অভিযোগ করতে পারে না।’ এতটুকু বলে নিজেই আবার বলে দিলেন, ‘তবে এটা দিয়ে আমি কিন্তু কোনো গোপন বার্তা দিচ্ছি না।’

মেসির ক্ষেত্রে অনেক ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে দ্ব্যর্থবোধক কথা বললেও রামোসকে নিয়ে প্রশ্নে ‘কূটনীতি’র আশ্রয় আরেকটু কমই নিয়েছেন পচেত্তিনো, ‘আমরা যখন রোনালদিনিওকে দলে এনেছিলাম, তখন থেকেই আমাদের কৌশল একই আছে। দলবদলের বাজারে সুযোগ খুঁজতে থাকা আর দলকে আরও উন্নত করতে পারবে এমন কাউকে পেলে নিয়ে আসা। (রামোসের ক্ষেত্রে) কী হয়, সেটা আমরা আগামী কয়েক মাসে বুঝতে পারবে। তবে এখানে রামোস এমন একটি অসাধারণ ক্লাব পাবে, যারা সব সময় জিততে চায়।’

default-image

আরেকটি প্রসঙ্গেও রিয়াল মাদ্রিদের কথা উঠে এসেছে সাক্ষাৎকারে। মাঝে গুঞ্জন ছিল, পচেত্তিনোকে কোচ হিসেবে চায় রিয়াল। কিন্তু দুইয়ে দুইয়ে মেলেনি। তবে কি পচেত্তিনোই ফিরিয়ে দিয়েছেন রিয়ালকে, রিয়াল সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজকে? পচেত্তিনোর উত্তর, ‘এমনটা কখনো হয়নি (তিনি রিয়ালকে প্রত্যাখ্যান করেননি)। হ্যাঁ, সে সময় অনেক কথা হয়েছে এ নিয়ে। আমাদের কোচিং স্টাফকে নেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ আছে, এমন সব ক্লাবকেই আমরা সম্মান করি। কিন্তু (রিয়ালের ক্ষেত্রে) এমন কিছু ঘটেনি। আমাকে অনেক ক্লাবই প্রস্তাব দিয়েছে, তবে পিএসজির প্রস্তাব ভালোবেসেই গ্রহণ করেছি। এই প্রকল্পও আমাদের জন্য আদর্শ।’

এই প্রকল্পে কিলিয়ান এমবাপ্পে কত দিন আছেন, সেটা অবশ্য আরেক প্রশ্ন। ইউরোপে গুঞ্জন, এমবাপ্পে পিএসজি ছেড়ে যেতে পারেন। সে ক্ষেত্রে রিয়াল মাদ্রিদ আর লিভারপুলকেই তাঁর সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে ধরা হচ্ছে। তবে সাক্ষাৎকারে এমবাপ্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে পচেত্তিনো জানালেন নিজের আশা, ‘অনেক গুঞ্জনই আছে। তবে আমার মনে হয় ও পিএসজিতে আরও অনেক বছর থাকবে। ক্লাবও সেটাই চায়। আমরা যত দিন এখানে আছি, ওর ওপর নির্ভর করব। এটা সত্যি, ও (চুক্তি নবায়ন নিয়ে) এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে ওকে এই প্রকল্পে খুশি আর নিবেদিত মনে হচ্ছে।’

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন