বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

এই মাসে, অর্থাৎ অক্টোবরে আবার বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে নামবে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। করোনার কারণে ইংল্যান্ডে ঢোকার ক্ষেত্রে ‘লাল তালিকা’য় থাকা দেশের তালিকা থেকে গতকাল শুক্রবার আর্জেন্টিনার নাম কাটা পড়ায় মেসিদের আর দুশ্চিন্তা নেই, কিন্তু ব্রাজিল তো এখনো ইংল্যান্ডের ‘লাল তালিকায়’ আছে। সে ক্ষেত্রে অক্টোবরে বাছাইপর্বের ম্যাচগুলোতে ব্রাজিল তাদের ইংল্যান্ডে খেলা আট ফুটবলারকে পাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় ছিল।

তবে নেইমার ও ব্রাজিলের সে দুশ্চিন্তা আপাতত কাটতে যাচ্ছে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ ঘোষণা দিয়েছে, ইংল্যান্ডের লাল তালিকায় থাকা দেশের খেলোয়াড়েরা এই মাসের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে নিজেদের জাতীয় দলে খেলার জন্য ছাড়পত্র পাচ্ছেন।

default-image

তবে সেখানেও একটা শর্ত আছে। যে খেলোয়াড়েরা করোনার টিকার দুই ডোজই নিয়েছেন, শুধু তাঁরাই ইংল্যান্ড ছেড়ে দেশের হয়ে খেলতে যেতে পারবেন।


খেলোয়াড়েরা কীভাবে ভ্রমণ করবেন, তাঁর কাছে কারা আসতে পারবেন, কত ঘন ঘন টেস্ট করতে হবে, জৈব সুরক্ষাবলয়ে কী করতে হবে—এসবের নিয়মও ঠিক করে দিয়েছে প্রিমিয়ার লিগ। যুক্তরাজ্যে ঢোকার পর অবশ্য ‘পূর্বনির্ধারিত জায়গায়’ ১০ দিনের কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে খেলোয়াড়দের। তবে কোয়ারেন্টিনে থাকার সময়েই দিনে একবার খেলা বা অনুশীলনের জন্য বের হতে পারবেন ফুটবলাররা!

default-image

এ নিয়ে যুক্তরাজ্য সরকারের মুখপাত্র বলেছেন, ‘ফুটবল নিয়ন্ত্রকদের সঙ্গে মিলে আমরা এ নিয়ে কাজ করেছি, যাতে ক্লাব ও জাতীয় দল—দুটিরই স্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রে ভারসাম্য থাকে, পাশাপাশি সম্ভাব্য সবচেয়ে সেরা উপায়ে স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়। ভাইরাসটির বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত আমাদের সম্ভাব্য সবচেয়ে সেরা ঢাল হচ্ছে টিকা নেওয়া, আর আমাদের এই পদক্ষেপগুলো দুই ডোজ টিকা নেওয়া খেলোয়াড়দের সবচেয়ে নিরাপদ, সবচেয়ে প্রায়োগিক উপায়ে তাঁদের জাতীয় দলের দায়িত্ব পালনে সাহায্য করবে।’


এই সপ্তাহে ইউরোপজুড়ে লিগের ম্যাচের পর থেকেই শুরু হবে অক্টোবরের আন্তর্জাতিক বিরতি। ব্রাজিল সেখানে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে খেলবে ভেনেজুয়েলা, কলম্বিয়া ও উরুগুয়ের বিপক্ষে। আর্জেন্টিনার তিন ম্যাচ প্যারাগুয়ে, উরুগুয়ে ও পেরুর বিপক্ষে।

গত মাসে দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ব্রাজিলসহ বেশ কয়েকটি দেশের ইংল্যান্ডভিত্তিক খেলোয়াড়দের নিয়ে ঝামেলার পর এবার যুক্তরাজ্যের সরকার করোনাসংক্রান্ত বিধি কিছুটা শিথিল করেছে। সেবার ব্রাজিল, আর্জেন্টিনাসহ বেশ কয়েকটি দেশ যুক্তরাজ্যের ‘লাল তালিকায়’ থাকায় সেসব দেশের খেলোয়াড়দের ইংল্যান্ডে ফেরার পর ১০ দিনের কোয়ারেন্টিনে থাকতে হতো, যে কারণে ক্লাবগুলো খেলোয়াড়দের ছাড়তে চায়নি। ক্লাব ও জাতীয় দলে তাই দ্বন্দ্ব বাড়ে।


সেপ্টেম্বরে তাই ইংল্যান্ডভিত্তিক নয় ব্রাজিলিয়ানকে ছাড়াই খেলেছে ব্রাজিল। এবার ওই নয়জনের মধ্যে চোটে পড়া রবার্তো ফিরমিনো ছাড়া বাকি আটজনকে রেখেই অক্টোবরের বাছাইপর্বের দল ঘোষণা করেছেন ব্রাজিল কোচ তিতে।

default-image

টটেনহাম ও অ্যাস্টন ভিলা অবশ্য বিকল্প ব্যবস্থায় সেপ্টেম্বরেই আর্জেন্টিনার চার খেলোয়াড়কে ছেড়েছে। সেখানে আর্জেন্টিনার বাছাইপর্বের তিন ম্যাচের শেষটি না খেলেই ফেরেন চার খেলোয়াড়। তবে সরাসরি যুক্তরাজ্যে নয়, তাঁরা ফেরেন ক্রোয়েশিয়া হয়ে। তাতে কোয়ারেন্টিন নিয়মে কিছুটা ছাড় পেয়েছেন তাঁরা। কিন্তু ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচে ইংল্যান্ড থেকে যাওয়া ওই চার আর্জেন্টাইনের খেলাকে কেন্দ্র করেই ঝামেলা বাধে।


ইংল্যান্ড থেকে গেলে ব্রাজিলে ১০ দিনের কোয়ারেন্টিনে থাকার নিয়ম ছিল তখন, ওই চার আর্জেন্টাইন ব্রাজিলে কোয়ারেন্টিনের নিয়ম মানেননি—এই অভিযোগ তুলে ব্রাজিলের স্বাস্থ্যবিষয়ক নিয়ন্ত্রক সংস্থা আনভিসার কয়েকজন কর্মকর্তা ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ম্যাচে ঢুকে পড়ে। পরে ম্যাচ স্থগিত হয়।

default-image

অক্টোবরের ম্যাচে ইংল্যান্ডভিত্তিক খেলোয়াড়দের পাওয়া নিয়ে আর্জেন্টিনা অবশ্য গতকালের পর থেকে দুশ্চিন্তামুক্ত থাকতে পারে। শুক্রবার থেকে নিয়ম করা হয়েছে, দুই ডোজ টিকা নেওয়া আর্জেন্টাইনরা ইংল্যান্ডে ঢোকার পর করোনা নেগেটিভ এলে তাঁদের আর কোয়ারেন্টিন করতে হবে না।


তবে ব্রাজিলের ফুটবলারদের জন্য নতুন যে নিয়ম করা হয়েছে, সেটি নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। লিভারপুল কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপের চোখে এটি সঠিক সমাধান নয়। কেন নয়, সেটির ব্যাখ্যাও দিয়েছেন ক্লপ, ‘(ইংল্যান্ডে ফেরার পর) ওদের ১০ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। সে সময়ে খেলতে পারবে, অনুশীলনে যেতে পারবে, কিন্তু নিজের বাড়িতে থাকতে পারবে না। ওদের তো কর্তৃপক্ষের ঠিক করে দেওয়া হোটেলে থাকার দরকার নেই, নিজেরা হোটেল বেছে নেওয়ার সুযোগও রাখা যেত। খাবারদাবার ওদের কক্ষের সামনে এনে পৌঁছে দিয়ে যাবে। কারও সঙ্গে ওরা দেখা করতে পারবে না। তার মানে হচ্ছে, আন্তর্জাতিক বিরতিতে যাওয়া খেলোয়াড়েরা জাতীয় দলে কাটাবে ১০ থেকে ১২ দিন, এরপর ১০ দিন থাকবে কোয়ারেন্টিনে। সব মিলিয়ে ২২ দিন। (সেটি শেষ হতেই) দুই সপ্তাহ পর আরেকটি আন্তর্জাতিক বিরতি আছে। আমার কাছে এটাকে সত্যিকারের সমাধান মনে হচ্ছে না।’

অক্টোবরের বিশ্বকাপ বাছাইয়ের জন্য ঘোষিত ব্রাজিল দলে লিভারপুলের আলিসন ও ফাবিনিও আছেন। সেপ্টেম্বরের জন্য ঘোষিত দলে এ দুজনের সঙ্গে ফিরমিনোও ছিলেন। তখনো ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড়দের প্রিমিয়ার লিগ ছাড়বে না, এ ঘোষণা আসার আগে কোয়ারেন্টিন নিয়ে আলোচনার সময়ে ক্লপ এ নিয়ে কথা বলেছিলেন। কোয়ারেন্টিনের সময়ে কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত যেনতেন হোটেলে খেলোয়াড়দের খাবারের মান নিয়ে প্রশ্ন ছিল ক্লপের।


লিভারপুল কোচের যুক্তি ছিল, একজন চূড়ান্ত পর্যায়ের পেশাদার ফুটবলারের ফিটনেসের জন্য প্রতিদিন, প্রতিবেলায় কঠোর অনুশীলনের পাশাপাশি খাবারের খুঁটিনাটি দিকেও নজর রাখা হয়। কিন্তু যেনতেনভাবে কোয়ারেন্টিনের সময়ে খাবারের মান ঠিক না থাকা মানে কোয়ারেন্টিন শেষে খেলোয়াড়দের ফিটনেস ফিরে পেতে আবার সপ্তাহ খানেকের বাড়তি অনুশীলন প্রয়োজন হবে, প্রতি দু-তিন দিন পরপর ম্যাচ খেলা ক্লাবগুলোর জন্য যা বড় ক্ষতি।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন