পিএসজি এবার লিগসেরা হতে পারবে তো?
পিএসজি এবার লিগসেরা হতে পারবে তো?ছবি : রয়টার্স

সেবার সদ্য দলে নতুন মালিক এসেছে। মালিকপক্ষ যত বড়লোকই হোক না কেন, খাপ খাওয়াতে একটু সময় তো লাগেই। পিএসজির বেলাতেও লেগেছিল। আর সে সুযোগে লিগ শিরোপা ঘরে তুলেছিল অলিভিয়ের জিরু, রেমি কাবেয়া, বেঞ্জামিন স্তাম্বুলিদের মঁপেলিয়ে। পরে দলটার অধিকাংশ ভালো পারফর্মারই পাড়ি জমিয়েছিলেন বড় ক্লাবে। জিরুর কথাই ধরুন, নাম লিখিয়েছিলেন আর্সেনালে।

টানা চারবার লিগ জেতার পর আবারও ছন্দপতন। এবার পিএসজির তাল কেটে দিল মোনাকো। রাদামেল ফালকাও, কিলিয়ান এমবাপ্পে, বের্নার্দো সিলভা, ফাবিনিওদের মোনাকোর কথা মনে হলে এখনো হয়তো কাঁপন ধরে পিএসজির মনে। গত নয় বছরে লিগ জেতার পথে এই দুবারই পা হড়কেছিল পিএসজি। বাকি প্রতিবার দোর্দণ্ড প্রতাপে ঘরোয়া লিগে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছিল প্যারিসের ক্লাবটি।

বিজ্ঞাপন
default-image

তবে এবার মঁপেলিয়ে, মোনাকোর পথ ধরে পিএসজিকে আরেকবার চমক দেওয়ার অপেক্ষায় আছে লিল। ফরাসি ম্যানেজার ক্রিস্তোফার গলতিয়ারের অধীনে বর্ষীয়ান তুরস্কের স্ট্রাইকার বুরাক ইলমাজ, আরও দুই তরুণ তুর্কি ইউসুফ ইয়াজিকি ও জেকি চেলিক, কানাডিয়ান স্ট্রাইকার জোনাথন ডেভিড, দেশীয় প্রতিভা মাইক মাইগনান, জোনাথন ইকোনে, বুবাকারি সুমাওরে, ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার লুইজ আরাউহো, বায়ার্নে দাম না পেয়ে ফ্রান্সে আলো ছড়ানো পর্তুগিজ মিডফিল্ডার রেনাতো সানচেস—সবাই মিলে এবার এককাট্টা, নেইমার-এমবাপ্পেদের লিগ-সিংহাসন থেকে নামাতেই হবে!

সে লক্ষ্যেই গত রাতে অলিম্পিক লিওঁকে দুর্দান্তভাবে হারিয়েছে তারা। প্রথমে দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও ৩৫ বছরের ‘বৃদ্ধ’ তারকা ইলমাজের কারণে পুরো তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছেড়েছে লিল। জোড়া গোল করেছেন আগে গ্যালাতাসারাইয়ের হয়ে এই স্ট্রাইকার, ডেভিডকে দিয়ে করিয়েছেন আরেকটা। এই জয় নিয়ে পিএসজিকে টপকে লিগের শীর্ষে উঠে এসেছে তারা। ৩৪ ম্যাচ শেষে নেইমারদের চেয়ে এক পয়েন্ট এগিয়ে আছে তারা। পিএসজির পয়েন্ট ৭২, তাদের ৭৩। বাকি চার ম্যাচে পা না হড়কালেই ১০ বছর পর লিগ জিতবে লিল। নিস, লেঁস, সেঁত এতিয়েঁ ও অজেঁ—এই চার দলকেই হারালেই লিল পাবে মোক্ষধাম।

default-image

তবে শুধু লিল নয়, পিএসজিকে ধাওয়া করছে মোনাকোও। ৭১ পয়েন্ট নিয়ে তাঁরা আছেন তৃতীয় স্থানে। মোনাকোর এই দলে এমবাপ্পে, ফাবিনিও কিংবা বের্নার্দোদের মতো ভবিষ্যতের তারকা হওয়ার মতো প্রতিভাবান তারকা নেই তেমন। এই মোনাকো গড়ে উঠেছে বিভিন্ন লিগে ফ্লপ খাওয়া একঝাঁক ফুটবলার ও অভিজ্ঞ তারকাদের সমন্বয়ে। সাবেক ম্যানচেস্টার সিটি স্ট্রাইকার স্তেভান ইয়োভেটিচের পাশাপাশি দলে আছেন সেভিয়ায় আলো ছড়াতে না পারা উইসাম বেন ইয়েদের, আছেন আতলেতিকোয় কিছু না করতে পারা পর্তুগিজ উইঙ্গার গেলসন মার্টিনস। লাৎসিওতে পাত্তা না পাওয়া কেইতা বালদে দিয়াও, এভারটনে সুযোগ না পাওয়া হেনরি ওনিয়েকুরু কিংবা বেনফিকায় সুযোগ না পাওয়া ফ্লোরেন্তিনো লুইসদেরও দেখা যাবে এখানে। এমনকি কোচের দায়িত্বে যিনি আছেন, সেই নিকো কোভাচও বায়ার্নে প্রত্যাশামাফিক ঝলক দেখাতে পারেননি।

অভিজ্ঞ তারকা হিসেবে এত ফ্লপ ফুটবলারকে ‘পথে আনার’ দায়িত্ব নিয়েছেন চেলসি, বার্সেলোনা ও আর্সেনালের সাবেক বিশ্বকাপজয়ী মিডফিল্ডার সেস ফ্যাব্রিগাস, বুন্দেসলিগার পোড় খাওয়া স্ট্রাইকার কেভিন ফলান্ড। বছর চারেক আগে পিএসজির হাত থেকে শিরোপা কেড়ে নেওয়া সে দলেরও সাক্ষী আছেন এখানে—সেন্টারব্যাক কামিল গ্লিক ও রাইটব্যাক জিব্রিল সিদিবে। সব মিলিয়ে সুযোগ আছে মোনাকোরও। সে ক্ষেত্রে লিওঁ, রিম, রেঁস, লেঁসের বিপক্ষে জেতার পাশাপাশি আশা করতে হবে পিএসজি বা লিল যেন পয়েন্ট হারায়।

বিজ্ঞাপন
default-image

এবার নেইমারদের অবস্থার দিকে একটু চোখ দেওয়া যাক। ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে মহাগুরুত্বপূর্ণ চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালের পাশাপাশি তাদের মাথায় রাখতে হবে রেঁস, লেঁস, ব্রেস্ত ও রিমের বিপক্ষে ম্যাচগুলোতেও। লিল যদি নিজেদের ম্যাচগুলোতে পয়েন্ট না হারায়, তাহলে এই চার ম্যাচে নেইমাররা জিতলেও কাজ হবে না যদিও।

সব মিলিয়ে স্প্যানিশ লা লিগার মতো জমে উঠেছে ফরাসি লিগ আঁও!

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন