চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে ম্যানচেস্টার সিটির সবচেয়ে বড় বাধা নেইমার-এমবাপ্পের জুটি।
চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে ম্যানচেস্টার সিটির সবচেয়ে বড় বাধা নেইমার-এমবাপ্পের জুটি। ছবি: রয়টার্স

পেপ গার্দিওলা ইদানীং এ কাজ খুব করছেন—যাদের বিপক্ষে খেলা, ম্যাচের আগের দিনের সংবাদ সম্মেলনে সেই দলকে প্রশংসায় ভাসানো! এই যেমন লিডসের বিপক্ষে খেলা হলে তিনি প্রশংসায় ভাসান দলটির কোচ মার্সেলো বিয়েলসাকে। এভারটনের বিপক্ষে খেলা হলে তাদের কোচ কার্লো আনচেলত্তিকে। আগামীকাল চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে পিএসজির বিপক্ষে খেলবে গার্দিওলার ম্যানচেস্টার সিটি। এর আগে তিনি কাকে প্রশংসায় ভাসাতে পারেন?

নেইমার ও কিলিয়ান এমবাপ্পে, পিএসজির দুই ভরসার নাম। পিএসজির বিপক্ষে ম্যাচের আগে গার্দিওলাও এই দুই তারকার প্রশংসা করতে ভোলেননি। নেইমার আর এমবাপ্পের মতো বিশ্বমানের খেলোয়াড়দের নিয়ে ভাবতে গেলে তিনি নাকি ঘুমাতেই পারেন না! এরপর নেইমারকে নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, নেইমার আরও কিছুদিন ন্যু ক্যাম্পে থাকলে বার্সেলোনার সাফল্যের ঝুড়িতে আরও কিছু বড় শিরোপা যোগ হতে পারত।

বিজ্ঞাপন
default-image

গার্দিওলা ম্যান সিটির দায়িত্ব নিয়েছেন ২০১৬ সালে। সেই থেকে ইতিহাদে পাঁচ মৌসুমে এই প্রথম ইউরোপিয়ান শ্রেষ্ঠত্বের টুর্নামেন্ট চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে উঠেছেন দল নিয়ে। সিটিকে নিয়ে তাঁর প্রথমবারের মতো ফাইনালে ওঠার স্বপ্নের পথে বড় বাধা নেইমার-এমবাপ্পে জুটি। জুটিকে আটকাতে গার্দিওলা কী ছক এঁকে রেখেছেন? অথবা তিনি কি মনে করেন তাঁর ডিফেন্ডাররা নেইমার-এমবাপ্পেকে আটকাতে পারবেন?

নেইমার-এমবাপ্পেকে নিয়ে এমন প্রশ্নের উত্তরে একটু যেন মজাই করেছেন গার্দিওলা। ম্যানচেস্টার সিটির কোচের উত্তর ছিল এ রকম, ‘গত রাতে আমি একটা ভালো ঘুম দিতে চেয়েছিলাম। কিছুতেই তা হচ্ছিল না। কিন্তু আমি যখন তাদের মানের খেলোয়াড়দের নিয়ে ভাবা বন্ধ করে দিলাম, তখনই ভালো ঘুম দিতে পেরেছি।’ একটু মজা করে নেওয়ার পরই আসল কথাটা বলেছেন গার্দিওলা, ‘আমরা তাদের দল হিসেবে ভালো খেলে আটকাতে চেষ্টা করব।’

default-image

নেইমার-এমবাপ্পেকে আটকানো যে সহজ ব্যাপার নয়, সেটি বলে হয়তো তাঁর ডিফেন্ডারদের সতর্ক করে দিতে চাইলেন গার্দিওলা, ‘অবশ্যই আমাদের কিছু জায়গায় মানিয়ে নিতে হবে। আর মানিয়ে নেওয়াটা স্বাভাবিক ব্যাপারই। আমাদের তো ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে যেমন জাহাকে আটকাতে আমরা কিছু বিষয় মানিয়ে নিয়েছিলাম। আমরা প্রতি–আক্রমণে গোল খেতে পারি। তাদের দলে অস্ত্রের অভাব নেই।’

নেইমার-এমবাপ্পেকে আটকানোর বিষয় নিয়ে বলার পর গার্দিওলা একচেটিয়া নেইমারের প্রশংসা করে গেছেন। গার্দিওলা যখন বার্সেলোনার কোচ, নেইমার ছিলেন ব্রাজিলের ক্লাব সান্তোসে। তবে ২০১৩ সালে একবার সান্তোসের খেলা দেখেছিলেন গার্দিওলা। আর দেখেছিলেন সান্তোসে খেলার সময় নেইমারের ভিডিও ক্লিপস। সব মিলিয়ে সেখানেই নেইমারকে দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন ম্যান সিটির কোচ, ‘আমার মনে আছে, নেইমারের ক্লিপস দেখেছি। আর সেগুলো দেখে আমার মনে হয়েছে, সে সান্তোসের রাজা।’

বিজ্ঞাপন
default-image

নেইমারের প্রশংসা করতে গিয়ে এখানেই থামেননি। ২০১৭ সালে বার্সেলোনা ছেড়ে পিএসজিতে নাম লেখান নেইমার। ওই সময়ে প্যারিসে পাড়ি না জমিয়ে নেইমার যদি আরও কিছুদিন ন্যু ক্যাম্পে থাকতেন, তাহলে খুশিই হতেন গার্দিওলা। কেন, সেই ব্যাখ্যাও দিয়েছেন বার্সেলোনার সাবেক খেলোয়াড় ও কোচ, ‘নেইমার যদি বার্সেলোনায় থাকত, ক্লাবটি তাহলে আরও দুই বা তিনটি চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতত। সে, মেসি আর সুয়ারেজ ছিল সেই সময়ের বিশ্বের সেরা আক্রমণভাগ।’

নেইমার পিএসজিতে নাম লিখিয়ে যে খারাপ করেননি, গার্দিওলা বলেছেন তা–ও, ‘নেইমারের পিএসজিতে যাওয়াও খারাপ সিদ্ধান্ত নয়। এটা ভালো একটি ক্লাবই। শহরটাও সুন্দর। অন্তত আমার কাছে ভালো লাগে। আর নেইমার তো ফুটবলটাকে আনন্দময় বানিয়ে ফেলে।’

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন