ওয়েলশের হয়ে খেলতে গিয়েই দেখালেন তাঁর চুলের বাহার।
ওয়েলশের হয়ে খেলতে গিয়েই দেখালেন তাঁর চুলের বাহার। ছবি: রয়টার্স

দেড় মাস আগেই জোনাথন বার্নেট বলে দিয়েছেন, দরকার হলে দুই মৌসুম বসে থাকবেন তবু রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়বেন না গ্যারেথ বেল। গতকাল সে সুরেই কথা বলেছেন বেল নিজেই। রিয়ালে গত এক মৌসুম প্রায় ব্রাত্য বনে যাওয়ার পরও নিজ থেকে ক্লাব ছাড়ার ইচ্ছা নেই ওয়েলশ ফরোয়ার্ডের। নিয়মিত খেলার স্বপ্ন এখনো আছে, কিন্তু তা পূরণ করার জন্য রিয়ালের কাজটা সহজ করার ইচ্ছে নেই এক সময়কার সবচেয়ে দামি ফুটবলারের। কারণ, তাঁর চোখে ব্যাপারটা জটিল করে তুলেছে রিয়াল মাদ্রিদই।

রিয়ালের সর্বশেষ ১২ ম্যাচে মোটে ১০০ মিনিট মাঠে ছিলেন বেল। শেষ আট ম্যাচে তো নামাই হয়নি তাঁর।
বিজ্ঞাপন

বহুদিন পর হাসি ফুটেছে গ্যারেথ বেলের মুখে। রিয়ালের হয়ে বেঞ্চে বা করোনা বিরতির পর গ্যালারিতেও তাঁর মুখে বেশ কয়বার হাসি দেখা গিয়েছিল। তবে সে সব কাষ্ঠ হাসি নয়, জাতীয় দলের হয়ে খেলতে যাওয়া বেলের মুখে এখন স্বতঃস্ফূর্ত হাসি। আজ ফিনল্যান্ডের বিপক্ষে উয়েফা নেশনস কাপের ম্যাচ খেলবে ওয়েলশ। তবে সে ম্যাচ নিয়ে আগ্রহ খুব একটা দেখা যায়নি, বরং এ ম্যাচের সবচেয়ে বড় তারকা বেলের ভবিষ্যৎ নিয়েই চিন্তিত সংবাদমাধ্যম।

স্কাই স্পোর্টসের সঙ্গে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আশার কথা জানিয়েছেন বেল। বলেছেন প্রিমিয়ার লিগে ফিরে আসার সম্ভাবনার কথাও, ‘এখনো যদি সে সুযোগ আসে (দলবদলের), আমি অবশ্যই সেটা ভেবে দেখব। দলবদলের মৌসুমের এখনো যথেষ্ট বাকি। আরও বেশ কিছু দলবদলের মৌসুম হাতে আছে। সময়ই সব বলে দেবে।’
এ দল বদলে রিয়াল না ছাড়লে জাতীয় দল ছাড়া বেলকে মাঠে দেখার সম্ভাবনা খুবই কম। গত মৌসুমেই বেলকে ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন জিদান। কিন্তু ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ মুফতে ছাড়তে রাজি হননি রেকর্ড গড়ে আনা খেলোয়াড়টিকে। মাঠের পারফরম্যান্সে এ মৌসুমেও জিদানকে সন্তুষ্ট করতে পারেননি বেল। ফলে বিরতির পর ১২ ম্যাচে মোটে ১০০ মিনিট মাঠে ছিলেন বেল। লিগের শেষ সাত ম্যাচে তো নামাই হয়নি তাঁর।

বিজ্ঞাপন

চ্যাম্পিয়নস লিগে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে শেষ ষোলোর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে স্কোয়াডেই রাখা হয়নি বেলকে। এ ব্যাপারে জিদান বলেছেন, বেল নিজেই নাকি নাম কেটে দিতে বলেছেন।। তবে বেলের দাবি, তাঁর এমন আচরণের পেছনে ক্লাবেরই দায় বেশি। গত মৌসুমে চীন থেকে সপ্তাহে ১০ লাখ ইউরো বেতনের প্রস্তাব পেয়েছিলেন বেল। কিন্তু তাঁকে ছাড়েনি রিয়াল। তাই বেলের দাবি তাঁর দলবদলের ব্যাপারে ক্লাবের কাছে প্রশ্ন রাখাই ভালো, ‘আমার ধারণা এ প্রশ্নের উত্তর ক্লাবেরই দেওয়া উচিত। কারণ গত বছর আমি তো যেতেই চেয়েছিলাম। একদম শেষ মুহূর্তে সব থামিয়ে দিয়েছে ক্লাব। গত বছর একটা প্রকল্প নিয়ে খুব আশাবাদী হয়েছিলাম। কিন্তু তা তো আর হলো না। তাই, এটা ক্লাবের ওপরই নির্ভর করছে, আমি কিছুই করতে পারব না। আমার এখনো চুক্তি বাকি আছে।’

default-image

৫ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে এবারের দলবদলের মৌসুম। তবে বেলের বার্ষিক ২ কোটি ইউরোর বেতনের কথা চিন্তা করে সম্ভাব্য দলবদলের চিন্তা অন্তত এ মৌসুমে করতে পারছেন না কেউই। বেল নিজে বেতন কমাতে রাজি নন, সে জন্য রিয়ালে আগামী দুই মৌসুম বসে কাটাতেও খুব একটা আপত্তি দেখাচ্ছেন না। তাই নতুন মৌসুমেও ভাগ্য বদলানোর আশায় নেই বেল। ক্লাবের সবার সঙ্গে অনুশীলন করা আর সুযোগ পেলে খেলার আশায় বসে থাকাতেই সন্তুষ্ট বেল, ‘আমি যা করছি সেটাই করতে পারি। আর আশা করতে পারি নতুন কিছু হবে। কিন্তু যা বলছিলাম, সবকিছু ক্লাবের হাতে। ওরাই সবকিছু জটিল করে তুলেছে।’

রিয়ালের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্টে বেলের অবদানও দেখেন অনেকে। খেলা শেষ হওয়ার আগে স্টেডিয়াম শেষে বাড়ির দিকে রওনা দিয়েছেন, কখনো গ্যালারিতে বসেই ঘুমানোর ভান করেছেন। আবার যেদিন জিদান আর তাঁকে নামাবেন না নিশ্চিত হয়েছেন, সেদিন দুরবিন বানিয়ে খেলা দেখার অভিনয় করেছেন। বেলের দাবি, সম্পর্কের অবনতিও হলেও রিয়ালের হয়ে খেলার তাগিদ কমেনি তাঁর, ‘আমি ফুটবল খেলতে চাই এবং এখনো খেলার জন্য যথেষ্ট অনুপ্রাণিত। আমার বয়স মাত্র ৩১ বছর এবং এখনো দারুণ ফিট আমি।’

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন