default-image

সাকিব, না নারাইন—এই দ্বৈরথ আজকের নয়।

এর আগে সাকিব যখন কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে খেলতেন, তখনো কলকাতার মূল একাদশে ঢোকার জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই অলরাউন্ডারের সঙ্গে লড়াই করতে হতো তাঁকে। সে লড়াইয়ে কখনো সাকিব জিততেন, কখনো নারাইন। এবার যখন তিন বছর পর আবারও কলকাতায় ফিরেছেন সাকিব, ফিরেছে এ দুইয়ের (সাকিব-নারাইন) মধ্যকার দ্বৈরথও।

সেই আগের মতো এখনো কলকাতার একাদশে জায়গা করে নেওয়ার জন্য লড়ে যাচ্ছেন দুজন। যে লড়াইয়ে প্রথম তিন ম্যাচে জয়ীর পাতায় নাম লেখা হয়েছিল সাকিবের। নারাইনের প্রশ্নবিদ্ধ বোলিং অ্যাকশনের কারণে নিষিদ্ধ হওয়ার শঙ্কা, বোলিংয়ের ধার কমে যাওয়া, ওপেনিংয়ে নেমে ব্যাট হাতে আগের মতো ঝড় তুলতে না পারা ইত্যাদি নারাইনের বিপক্ষে গেছে। একাদশে জায়গা হয়েছে সাকিবের। কিন্তু তিন ম্যাচ পর কলকাতার একাদশে সাকিবের জায়গা ধরে রাখতে পারবেন কি না, এ নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়।

প্রথম তিন ম্যাচ চেন্নাইয়ের চীপকে খেলেছে কলকাতা। যে স্টেডিয়ামের উইকেট ঐতিহ্যগতভাবেই স্পিন স্বর্গ হিসেবে পরিচিত। নারাইনের চেয়ে সাকিবের আঁটসাঁট বোলিংয়ের সামর্থ্য, উইকেট নেওয়ার ক্ষমতা ও ব্যাট হাতে নারাইনের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে থাকা সাকিবের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছিল। কলকাতা একাদশে আস্থা রেখেছিল সাকিবের ওপর। আপাতত চেন্নাই পর্ব শেষ।

default-image
বিজ্ঞাপন

অধিক নির্ভরশীলতার কারণে এই তিন ম্যাচে সাকিবের প্রতিই আস্থা রেখেছিল কলকাতা। কিন্তু আপাতত কলকাতার চেন্নাই পর্ব শেষ। আগামী ম্যাচ মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে খেলবে কলকাতা। যে পিচ চীপকের মতো অতটা স্পিনবান্ধব নয়। সে ব্যাপারটা মাথায় রেখেই পরের ম্যাচে দলের মূল একাদশে পরিবর্তন আনতে চলেছে কলকাতা। অন্তত গতকাল ম্যাচ শেষে সে ইঙ্গিতটাই দিয়েছেন দলটার কোচ ও সাবেক খেলোয়াড় ব্রেন্ডন ম্যাককালাম।

গতকাল বিরাট কোহলির রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে হেরে বসেছে কলকাতা। গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও এবি ডি ভিলিয়ার্সের রুদ্রমূর্তি ধারণ করার এই ম্যাচে কলকাতার অন্যান্য সতীর্থদের মতো হতাশ করেছেন সাকিবও। হায়দরাবাদের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে পর্যাপ্ত সুযোগ পাননি। মুম্বাইয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে দলকে জেতানোর সুবর্ণ সুযোগ হেলায় হারিয়েছেন। বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে সে দায় কাটানোর ভালো সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু ব্যাটসম্যান সাকিব আবার হতাশাই উপহার দিয়েছেন। যে ম্যাচে দলের জয়ের জন্য প্রায় দুই শ স্ট্রাইকরেটে রান তোলা দরকার, এমন ম্যাচেও ব্যাট করেছেন ওয়ানডে গতিতে। এর আগে বল হাতেও আলো ছড়াতে পারেননি। যে সাকিবের ওপর গত দুই ম্যাচে পুরো চার ওভার করে আস্থা রেখেছিলেন দলের অধিনায়ক এউইন মরগান, সে সাকিব প্রথম দুই ওভারে ম্যাক্সওয়েলের কাছে এমন পিটুনি খেয়েছেন, যে তাঁকে দিয়ে পরের দুই ওভার করানোর সাহস পাননি ইংলিশ অধিনায়ক।

default-image

ফলে ফিসফাস শুরু হয়ে গিয়েছে, হয়তো সাকিবের জায়গায় পরের ম্যাচেই ফিরতে পারেন নারাইন। গুঞ্জনের পালে হাওয়া দিয়েছেন খোদ কলকাতার কোচ ম্যাককালাম, ‘আমাদের প্রথম ম্যাচের আগে সুনীল নারাইনের চোট ছিল। ও শতভাগ ফিট ছিল না। ও অবশ্যই আমাদের হিসাবে আছে। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে ম্যাচে ও খেলার জন্য ফিট ছিল, কিন্তু আমরা ওর জায়গায় সাকিবকে খেলিয়েছি, কারণ আমাদের মনে হয়েছে ও আমাদের ব্যাটিংয়ের দিক দিয়ে আরেকটু সাহায্য করতে পারবে, যে এর আগে আমাদের সাহায্য করেছে।’

যদিও সম্ভাব্য এই পরিবর্তনের পেছনে চেন্নাইয়ের সঙ্গে মুম্বাইয়ের পিচের পার্থক্যের কথাই তুলে ধরেছেন এই কিউই কোচ, ‘তিন ম্যাচের পর যেটা মনে হচ্ছে, আমাদের ছেলেরা বেশ ভালোই খেলছে, কিন্তু আমার যেটা মনে হয়, মুম্বাইয়ের একটু ভিন্নতর পিচের জন্য আমাদের একাদশকে একটু নতুন করে সাজাতে হবে। হয়তো পরের ম্যাচে আমরা এক-দুজন খেলোয়াড় পরিবর্তন করব মূল একাদশ থেকে। কিন্তু সব মিলিয়ে আমার কাছে মনে হয়, এই টুর্নামেন্ট জেতার বেশ ভালোই সম্ভাবনা আছে আমাদের, যদি আমরা আরেকটু পরিকল্পিত খেলা খেলতে পারি।’

অপেক্ষা এখন বুধবারের, দেখা যাক সাকিব পরের ম্যাচে খেলার সুযোগ পান কি না!

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন