default-image

রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে তিনটি চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা কেইলর নাভাস আগে থেকেই ছিলেন পিএসজিতে। কিন্তু ৩৫ বছর বয়সী এই গোলরক্ষকের পাশাপাশি দোন্নারুম্মাকেও টেনেছে পিএসজি। কারণটা অবশ্য পরিষ্কার। ভবিষ্যতের জন্য দল গঠন। এমবাপ্পে, হাকিমি, মেন্দেজ—এঁরা সবাই ২০–এর আশপাশে। দলে থাকলে ও ফর্ম ধরে রাখতে পারলে নিশ্চিতভাবে আরও ১০ বছর খেলতে পারবেন পিএসজিতে। মাত্র ১৬ বছর বয়সে এসি মিলানের মূল গোলরক্ষক হয়ে ওঠা দোন্নারুম্মার বয়সও এখন ২৩।

কিন্তু দলে আগে থেকেই ভালো একজন গোলরক্ষক থাকলে যা হয়, সেটাই হয়েছে। গত মৌসুমে দুজনের মধ্যে ম্যাচ ভাগ করে দিয়েছেন কোচ। দোন্নারুম্মা বলছেন, নাভাসের সঙ্গে তাঁর দারুণ সম্পর্ক। তাই বলে এভাবে মাঝে মাঝে বেঞ্চে বসে থাকা আর মেনে নিতে রাজি নন। এএফপিকে বলেছেন, ‘না, আমার মনে হয় না এমনটা আর হবে। কারণ, আমার ধারণা ক্লাব সিদ্ধান্ত নেবে এই ব্যাপারে। আমরা দুজনেই ভালো মানুষ, পরিস্থিতিটা বুঝি। কিন্তু এটা খুব কঠিন। তাঁর জন্যও। তবে দুজনেই ব্যাপারটা ভালোমতো সামলেছি।’

default-image

এই মৌসুমেও চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা হলো না পিএসজির। যে কারণে প্রতি মৌসুমে দলবদলের বাজারে আলোড়ন তুলছে, সে শিরোপাই বারবার হাতছাড়া হচ্ছে তাদের। গত মৌসুমে তো লিগ শিরোপাও জেতা হয়নি তাদের। এবার লিগ জিতলেও এখন আর পিএসজি সমর্থকদের এই শিরোপায় আর হচ্ছে না। চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে ছিটকে পড়ার পর নেইমার ও মেসিকে দুয়ো দিয়েই তাঁদের অতৃপ্তির কথা জানিয়েছেন সমর্থকেরা।

দোন্নারুম্মার অবশ্য ফ্রেঞ্চ লিগ আঁ জিতেই অনেক আনন্দ হচ্ছে। ক্যারিয়ারে যে এটাই তাঁর প্রথম লিগ শিরোপা! তাই সমর্থকদের যতই অরুচি ধরুক, নিজের প্রথম লিগ শিরোপা পেয়ে আনন্দিত দোন্নারুম্মা, ‘এটা দারুণ, আমার প্রথম লিগ শিরোপা। আমি খুবই খুশি এবং প্যারিস সেন্ট–জার্মেইয়ের জার্সিতে আমার প্রথম শিরোপা। এতটা উচ্চাভিলাষী ও দারুণ ক্লাব, যারা সব সময় আরও বেশি চায়, এমন ক্লাবে আছি ভেবে অনেক গর্বিত।’

default-image

লিগ জিতলেও নিজের প্রথম মৌসুমকে সফল বলতে পারছেন না দোন্নারুম্মা, ‘আমি জানি আরও ভালো করতে পারতাম। আমি অত বেশি ম্যাচ খেলিনি, মাত্র অর্ধেক ম্যাচ খেলেছি। ব্যাপারটা সহজ না। যে পরিস্থিতিতে খেলেছি, আমার সেরাটা দিতে পারিনি। কিন্তু আমি নিশ্চিত এই ক্লাব ও দলকে আমি আরও অনেক কিছু দিতে পারব।’

২০২২ সালটা এক দিক থেকে খুব বাজে কেটেছে দোন্নারুম্মার। চ্যাম্পিয়নস লিগে তাঁর এক ভুলেই প্রত্যাবর্তনের সুযোগ পেয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। পরে তো পিএসজি ছিটকেই গেছে। এর আগে বিশ্বকাপের প্লে-অফ থেকেও বাদ পড়েছে ইতালি। ফলে টানা দুটি বিশ্বকাপ খেলা হচ্ছে না ইতালির। রাশিয়ার পর কাতার বিশ্বকাপেও তাই দশক হিসেবে কাটাতে হবে দোন্নারুম্মাকে, ‘এটা খুব, খুবই কঠিন। (হারের) পরের দিনগুলো খুব কঠিন ছিল। কিন্তু এ ঘটনা তো আর বদলানো যাবে না। ইউরোতে যা করেছি, তা ইতিহাসে লেখা থাকবে। আমরা দুর্দান্ত কিছু অর্জন করেছি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা বিশ্বকাপে যেতে পারিনি। কিন্তু আমাদের সামনে তাকাতে হবে এবং নতুন করে শুরু করতে হবে।’

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন