বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

রোদেনের কথাগুলো আসছে পিএসজি কোচ মরিসিও পচেত্তিনোর এক কথার সূত্র ধরে। করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় নতুন বছরে পিএসজির প্রথম ম্যাচে ফ্রেঞ্চ কাপের শেষ ৩২-এ ভানের বিপক্ষে খেলেননি মেসি। অবশ্য সুস্থ থাকলেও সে ম্যাচে মেসির না খেলার আশঙ্কাই বেশি থাকত। কিন্তু করোনার কারণে আজ বাংলাদেশ সময় রাত ১টা ৪৫ মিনিটে লিগে লিওঁর বিপক্ষে ম্যাচেও খেলা হচ্ছে না মেসির।

ভানের বিপক্ষে ম্যাচের পরই মেসির ব্যাপারে জানতে চাইলে সংবাদ সম্মেলনে পচেত্তিনো জানিয়ে দেন, তিনি কিছু জানেন না। স্বদেশি মহাতারকার সঙ্গে তাঁর কথা হয়নি বলেই তখন জানান পিএসজির আর্জেন্টাইন কোচ।

এ কথার সূত্র ধরেই রোদেনের এখনকার মন্তব্যগুলোকে কিছুটা বাড়াবাড়িই মনে হতে পারে অনেকের। তবে সত্যি-মিথ্যা তো আর জানা সম্ভব নয়, আপাতত তাই রোদেনের কথাকে উড়িয়েও দেওয়া যায় না।

পিএসজির সাবেক ফরাসি এই উইঙ্গার ফ্রান্সেরই সংবাদমাধ্যম আরএমসি স্পোর্তে বলেছেন, ‘একজন কোচ বড় তারকা হোন বা না হোন, তিনিই সবার ওপরে। তাঁর (পচেত্তিনো) কথায় তিনি এটা পরিষ্কার বুঝিয়ে দিয়েছেন যে তিনি জানেন না মেসি কোথায় আছে। এটার অর্থ হচ্ছে মেসি পচেত্তিনোর ফোন ধরেনি, কথা বলেনি। মেসির দিক থেকে এমন কিছু আমাকে অবাকই করছে। এসব ক্ষেত্রে কোচের যা করার ভাবনা আসে, তা-ই করা উচিত।’

পিএসজিতে নেইমারের নৈশজীবন, ফুটবলের বাইরের আমুদে জীবনযাপন পদ্ধতি নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়। এমবাপ্পেও মাঝেমধ্যে এমন পার্টিতে যান। মেসি অবশ্য এবার বড়দিন আর নববর্ষে যা পার্টি করেছেন কাছের মানুষের সঙ্গে, সেটিকেও এখন বাঁকা চোখে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ফুটবলবিষয়ক ওয়েবসাইট গোলডটকম।

গত আগস্টেই পিএসজিতে যোগ দেওয়া মেসি খেলোয়াড়দের ক্ষমতার খেলার মূলে নন, তবে তিনিও এসবের অংশ বলেই মনে করছেন অনেকে।

রোদেনের কথা, পিএসজিতে আসলে কোচকে সম্মান করেন না খেলোয়াড়েরা। আর কোচকে সম্মান না করার এ মনোভাব আসলে বোর্ডের কর্তাদের কারণেই হয়েছে বলে মনে করছেন তিনি। ‘আপনি যদি আপনার কোচকে সম্মান না করেন, তাহলে আপনি মাঠে যে সাফল্য পেতে চান, সেটা কখনোই পাবেন না। এ কারণেই গত কয়েক বছরে পিএসজি ভুগেছে’—বলছেন রোদেন।

নেইমারের আচরণ আর পিএসজির দিক থেকে সেটি মেনে নেওয়ার প্রবণতারও সমালোচনা করেছেন রোদেন। গত নভেম্বরে সেঁত এতিয়েনের বিপক্ষে ম্যাচে চোট পাওয়ার পর থেকেই মাঠের বাইরে নেইমার। চোটে বলেই এবার বড়দিনে তাঁকে বেশি ছুটি দেওয়া হয়েছে।

সময়টা কেমন উপভোগ করছেন, সেটি নিয়মিতই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়ে দেন নেইমার। কখনো দেখা যাচ্ছে, পোকার খেলছেন, তো কখনো পার্টি করছেন বন্ধুদের সঙ্গে।

default-image

এখানেও আপত্তি অনেকের। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ইনস্টাগ্রামে তাঁর অনুশীলন আর জিমে সময় কাটানোর ছবিই বেশি থাকে বলে তাঁর জীবনে ফুটবল আর অনুশীলনের গুরুত্ব বেশি বলে ধরে নেন সবাই। নেইমারের ক্ষেত্রে তেমনি সাধারণ্যে ধারণা, ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ‘পার্টিময় জীবন’ই কাটান।

কিন্তু নেইমারের এসব কর্মকাণ্ড পিএসজির ক্রীড়া পরিচালক ও ১৯৯৪ বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিল দলের মিডফিল্ডার লিওনার্দো প্রশ্রয় দিচ্ছেন বলেই অভিযোগ রোদেনের। লিওনার্দোকেও ধুয়ে দিয়েছেন তিনি, ‘একজন খেলোয়াড়ের এমন আচরণ আপনি কীভাবে মেনে নেন! এটা স্বাভাবিক আচরণ হতে পারে না। কারণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেইমারের ফালতু কর্মকাণ্ডের জন্য পিএসজিকে এখনো ভুগতে হয়। (নেইমারের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে) কখনো পার্টি, কখনো পোকার, কখনো নববর্ষের উদ্‌যাপন।’

অনেক বড় তারকাকে দলে টানলেও লিওনার্দো আসলে ভালো ক্রীড়া পরিচালক নন বলেই মনে হচ্ছে রোদেনের। ইউরোপের সেরা পাঁচ ফুটবল লিগের (ইংল্যান্ড, স্পেন, ইতালি, জার্মানি ও ফ্রান্স) অন্য কোনোটির ক্লাবে গেলেই লিওনার্দোর দৈন্য ফুটে উঠবে বলে মনে করেন তিনি, ‘সে দাবি করে, সে ইউরোপের সেরা ক্লাবগুলোর একটির ক্রীড়া পরিচালক। সে চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতাতে চায়। তাঁর দলে (চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতানোর মতো) খেলোয়াড় অনেক আছে, সেটা ঠিক। কিন্তু সে জার্মানি বা ইংল্যান্ডে গিয়ে দেখুক তো, দেখা যাবে, সে কেমন করে!’

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন