বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পিএসজির আগে থেকেই তারকাবহুল স্কোয়াড ছিল। সেখানেই এই দলবদলের বাজারে মেসি-রামোসদের দলে টেনে রীতিমতো তারার হাট বানিয়ে ফেলেছে প্যারিসের দলটি।

করোনাকালে যেখানে অধিকাংশ ক্লাব ধুঁকছে, সেখানে এত তারকাকে কীভাবে তারা টানছে এবং বেতন দিচ্ছে, সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ভালোভাবেই। লা লিগার সভাপতি হাভিয়ের তেবাসের কাছে নাকি প্রমাণ আছে, আর্থিক সংগতি নীতিকে পাত্তা দিচ্ছে না পিএসজি।

ফরাসি পত্রিকা লে’কিপের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে লা লিগার ভবিষ্যৎ, মেসি-রোনালদো-নেইমারদের বিদায়ের পর লা লিগা নিয়ে দর্শক আগ্রহ এবং লিগের আর্থিক অবস্থা নিয়ে কথা বলেছেন। বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদের প্রস্তাবিত সুপার লিগ নিয়েও কথা বলেছেন। কিন্তু তেবাসকে পিএসজি ও তাদের আর্থিক অবস্থা নিয়ে কথা বলতেই বেশি আগ্রহী মনে হয়েছে। কেন সুযোগ পেলেই পিএসজির সমালোচনা করেন, সে প্রশ্ন করা হয়েছিল তাঁকে।

default-image

তেবাসের সোজাসাপ্টা উত্তর, ‘আমি পিএসজির সমালোচনা করেছি কারণ, ওদের যে স্কোয়াড তা ধরে রাখার মতো আয় তো করে না ওরা। ইউরোপের ফুটবল অর্থনীতিতেই এটা বৈষম্য সৃষ্টি করছে। সত্যিকারের স্পনসরদের কাছ থেকে টাকা পায় না ওরা। পিএসজি আমাদের ব্যাখ্যা করে বলতে পারবে, কীভাবে তারা ৬০ কোটি ইউরোর একটা দল বানাল? আপনি যদি লিগ আঁ জেতেন, তাহলেও আপনি সাড়ে চার কোটি ইউরোর বেশি পাবেন না। এটা অসম্ভব।’

গত মৌসুমে লিগ আঁ জেতেনি পিএসজি। চ্যাম্পিয়নস লিগেও সেমিফাইনাল থেকে ফিরেছে তারা। এরপরই দলবদলের বাজারে মেসি, রামোস, দোন্নারুম্মা, ভাইনালডম ও হাকিমিদের এনেছে। নতুন যোগ দেওয়া সদস্যদের বেতন বাদেই করসহ বছরে ১৫ কোটির বেশি ইউরো খরচ হবে পিএসজির।

কাতারের মালিকানায় থাকা পিএসজির এভাবে অর্থ খরচ নিয়ে বরাবরই প্রশ্ন তুলেছেন তেবাস। ফিফার আর্থিক সংগতি নীতি মানছে না প্যারিসের দল, এ দাবিও তাঁর নতুন নয়। লে’কিপের কাছে নতুন যা বলেছেন সেটা হলো, পিএসজির এই নিয়ম ভাঙার প্রমাণ আছে তাঁর কাছে।

কিন্তু ফ্রেঞ্চ লিগ নাকি এমন অভিযোগেও চোখ বন্ধ করার নীতি বেছে নিয়েছে, ‘আমি পিএসজির সভাপতি ও ফ্রেঞ্চ লিগের সভাপতিকে ডেকেছিলাম। বলেছিলাম, আমার কাছে এই তথ্য আছে এবং এই অনিয়ম চোখে পড়েছে। তারা কোনো জবাব দেয়নি। তারা আমার সমালোচনা করতে দেরি করে না, কিন্তু প্রশ্নের জবাব দেয় না।’

তেবাসের দাবি, চাইলে সবার কাছেই এটা তুলে ধরতে পারেন এই অনিয়ম এবং অনেকের চোখেই নাকি এটা ধরা পড়েছে, ‘আমি তথ্যপ্রমাণসহ দেখিয়ে দিতে পারব, আর্থিক সংগতি নীতির সঙ্গে কোথায় প্রতারণা করেছে। মেসি ও নেইমার পিএসজি থাকলেও আমার কিছু যায় আসে না। মূল ব্যাপার হলো এটা ইউরোপিয়ান ফুটবলের ক্ষতি করছি। আর এটা আমি ছাড়া আরও অনেকের চোখেই পড়েছে।’

default-image

এ ব্যাপারে অবশ্য আগস্টেই কথা বলেছেন পিএসজি সভাপতি নাসের আল খেলাইফি। তাঁর দাবি, সব নিয়ম মেনেই তারকার মেলা বসাতে পারছে পিএসজি, ‘আর্থিক দিকটা সবার কাছে পরিষ্কার করে দিই। আমরা আর্থিক সংগতি নীতি সম্পর্কে জানি এবং আমরা সব সময় নিয়ম মানি। কিছু করার আগে, আমরা আর্থিক, বাণিজ্যিক ও আইনের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে নেই। তাঁকে (মেসিকে) দলে নেওয়ার ক্ষমতা আমাদের আছে। যদি লিওকে নিয়ে থাকি, তার মানে আমাদের সামর্থ্য আছে। না হলে নিতাম না।’

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন