পিটার হতে পারবেন কাসপার?

বেচারা কাসপার স্মাইকেল, দেখতে দেখতে ক্যারিয়ারটা গোধূলিলগ্নে চলে এসেছে, কিন্তু বাবার ছায়া থেকে আর বের হওয়া হলো না! আজ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ডেনমার্কের সেমিফাইনাল ম্যাচের আগে আবারও একবার কাসপারের ওপরে এসে পড়েছে বাবা পিটার স্মাইকেলের ছায়া! আপাতত ডেনিশ রূপকথার গল্প ছাপিয়ে আলোচনার পালে লেগেছে স্মাইকেল–বাতাস! সবার মুখে একটাই কথা—পিটার স্মাইকেল হতে পারবেন কাসপার স্মাইকেল?

ম্যাচটা সেমিফাইনাল বলেই বেশি করে আসছে এ প্রসঙ্গ। সময়ের চাকা ঘুরিয়ে ২৯ বছর পেছনে গেলে ফুটবলপ্রেমীদের চোখে ভেসে উঠবে ১৯৯২ ইউরো। সেবার উয়েফার ‘বিশেষ আমন্ত্রণ’ পেয়ে অতিথি হয়ে ইউরোতে খেলতে আসা ডেনমার্ক বাড়ি ফিরেছিল রূপকথা লিখে। ডেনিশদের লেখা ইউরো জয়ের সেই মহাকাব্যে অসাধারণ একটি অধ্যায় ছিলেন পিটার স্মাইকেল। বিশেষ করে সেমিফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে টাইব্রেকারে মার্কো ফন বাস্তেনের পেনাল্টি ঠেকিয়ে হয়ে গিয়েছিলেন বীর!

কোনো আমন্ত্রণ পেয়েটেয়ে নয়, এবারের ইউরোতে ডেনিশরা খেলতে এসেছে নিজেদের যোগ্যতায়, বাছাইপর্ব উতরে। এবার যে খুব ভালো দল নিয়ে ইউরো খেলতে এসেছে ডেনমার্ক, বিষয়টি তেমন নয়। তবে একেকটি অধ্যায় পেরিয়ে সেমিফাইনালে উঠে গেছে ডেনমার্ক। বিরানব্বইয়ের রূপকথা ছোঁয়া থেকে আর মাত্র দুই ম্যাচ দূরে তারা। দলকে এ পর্যন্ত আনতে দলীয়ভাবে দুর্দান্ত ফুটবল উপহার দিয়েছে ডেনিশরা। তবে প্রায় প্রত্যেক ম্যাচেই গোলবারের নিচে অসাধারণ ছিলেন কাসপার স্মাইকেল।

এত কিছুর পরও পিটার স্মাইকালের ছায়া থেকে বেরোতে পারছেন না কাসপার স্মাইকেল। ম্যাচটি সেমিফাইনাল বলেই ৯০ মিনিটের গণ্ডি পেরিয়ে অতিরিক্ত ৩০ মিনিট নিয়ে হিসাবনিকাশ হচ্ছে। কথা হচ্ছে সম্ভাব্য টাইব্রেকার নিয়েও। টাইব্রেকারের সেই হিসাবটা করতে গিয়েই সামনে চলে এসেছে পিটার স্মাইকালের সেই ফন বাস্তেনের পেনাল্টি ঠেকিয়ে দেওয়ার গল্প। আর এটা সামনে আসতেই আবার সেই দুই স্মাইকেলের তুলনা।

তবে বাবা পিটারের সঙ্গে সব সময় তুলনা টানাটা ভালো লাগে না কাসপারের। এটা ঠিক যে বাবার পথ অনুসরণ করে তিনিও ফুটবলে এসেছেন। শুধু ফুটবলে আসাই নয়, বেছে নিয়ে এসেছেন বাবার পজিশনটাও। হাতে গ্লাভস পরে দাঁড়িয়েছেন গোলবারের নিচে। কিন্তু বাবা পিটারের সঙ্গে তুলনা শুনতে শুনতে বিরক্ত কাসপারের এখন মনে হচ্ছে, ‘এখন তো মনে হচ্ছে অন্য কোনো খেলায় গেলেই আমার জন্য বিষয়গুলো সহজ হতো!’

এর আগেও একবার বাবা পিটারের সঙ্গে তুলনা নিয়ে কাসপার বলেছিলেন, ‘এটা নিশ্চিত যে আমার পদবি আমাকে কোনোভাবেই সাহায্য করবে না। কিন্তু এর সঙ্গে আমার কোনো প্রাসঙ্গিকতা নেই। এটা আমার নাম। কিন্তু সংবাদমাধ্যমই আমাকে সব সময় এমন প্রশ্ন করে এসেছে। আমার শুরুটাই তো হয়েছে এটা নিয়ে।’

কাসপারের বয়স হয়ে গেছে ৩৪ বছর। ক্যারিয়ারটা নিঃসন্দেহে সায়াহ্নবেলায় এসে পড়েছে। আর বেশি দিন হয়তো খেলা হবে না তাঁর। এর আগে এবারের ইউরোতে সেমিফাইনাল ও ফাইনালের বাধা পেরিয়ে ডেনমার্ক যদি বিরানব্বইয়ের রূপকথা আবার লিখতে পারে, তাহলে যে কাসপারের শেষটাও হবে শুরুর মতো! সবাই তখন বলবে—বাবার পথ ধরে গোলকিপার হয়েছেন কাসপার, বাবার মতোই রূপকথা লিখেছেন ইউরো জিতে!

কাসপার কি সত্যি পারবেন বাবার কীর্তি স্পর্শ করতে! তখন হয়তো বাবা পিটারের সঙ্গে নিজের তুলনায় আর আপত্তি থাকবে না কাসপারের। আর তাঁর নামের সঙ্গেও তো পিটার অংশটা আছেই। তখন হয়তো তিনি নিজেই গর্ব নিয়ে বলবেন—আমার নাম কাসপার পিটার স্মাইকেল!