পুতিনের কাছের মানুষ হওয়াই এখন তাঁর বিপদের কারণ
যুদ্ধ করছে রাশিয়া আর ইউক্রেন, যুক্তরাজ্য-যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলো ইউক্রেনের পক্ষে গলা ফাটালেও গোলা ফাটাচ্ছে না। এ নিয়ে আলোচনা-সংশয় সবদিকে, পুরো বিশ্ব উদ্বিগ্ন। এর মধ্যে খেলাধুলার জগৎ নিয়ে আলোচনাই হয়তো অর্থহীন!
তবে যুদ্ধ নিয়ে মানুষ হিসেবে যে উদ্বেগ আছে, এর পাশাপাশি চেলসি সমর্থকদের কপালে বাড়তি একটা ভাঁজ ফেলছে সম্ভবত তাঁদের ক্লাবের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা। চেলসির মালিকানাই সে দুশ্চিন্তার কারণ।
চেলসির মালিক আব্রামোভিচকে প্রেসিডেন্ট পুতিনের অন্যতম ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি মনে করা হয়। অনেকেই বলেন, পুতিনের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখা ও তাঁর হাত শক্তিশালী করার পেছনে যাঁদের বড় অবদান, তাঁদের মধ্যে অন্যতম এই আব্রামোভিচ।
হাউস অব কমন্সে অনুষ্ঠিত এক বিতর্কে সাংসদ ব্রায়ান্ট ব্রিটিশ সরকারের প্রতি আব্রাহিমোভিচের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা এবং চেলসি ক্লাবের মালিকানা থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। ব্রায়ান্ট বলেন, তাঁর হাতে যে ফাঁস হওয়া নথি আছে, আর তাতে আব্রামোভিচ সম্পর্কে যা বলা হয়েছে, তাতে কোনোভাবেই ইংল্যান্ডে একটি শীর্ষ ফুটবল ক্লাবের মালিকানা রাখতে পারেন না রাশিয়ান ধনকুবের।
ব্রায়ান্ট ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সেই ফাঁস হওয়া নথি থেকে পার্লামেন্টে উদ্ধৃতও করেছেন। সেখানে বলা হয়েছে, ‘ব্রিটিশ সরকারের রাশিয়া নীতিতে বলা আছে তাদের অবৈধ অর্থ ও ক্ষতিকর কার্যক্রমকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর কথা।
আব্রাহামোভিচ রাশিয়ান সরকার ও এর অবৈধ কার্যকলাপের সঙ্গে সম্পর্ক থাকায় ব্রিটিশ সরকারের নজরে আছেন। আদালতেও তাঁর একটি স্বীকারোক্তির উদাহরণ এখানে আসতে পারে। তিনি সেখানে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের জন্য দেদার অর্থ খরচের বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
সুতরাং ব্রিটিশ সরকার মনে করে যারা এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত, তারা ব্রিটেনে থেকে সেগুলো করতে পারবে না। সরকার তার অধীনে থাকা অভিবাসন আইন ব্যবহার করে সেটি প্রতিহত করবে।’
‘ব্রিটিশ সরকারের উচিত রাশিয়ান ধনকুবের ও চেলসির মালিক রোমান আব্রামোভিচের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা। দুর্নীতির কারণেই এমনটা করা উচিত’—একজন লেবার পার্টি সাংসদ ব্রিটিশ পার্লামেন্টে এমনটাই বলেছেন।
লেবার পার্টির নেতা বলেছেন, ২০১৯ সালে সেই নথিটি তৈরি করা হয়, কিন্তু এত দিন কেটে যাওয়ার পরও রোমান আব্রাহামোভিচের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি। চেলসি মালিকের একজন মুখপাত্রকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলেও সাংসদ ব্রায়ান্টের এই অভিযোগের ব্যাপারে বিবিসির কাছে কোনো মন্তব্য করেননি।
সাংসদ ব্রায়ান্টের অভিযোগের ব্যাপারে পার্লামেন্টে জবাব দিতে গিয়ে ব্রিটিশ বরিস জনসন সরকারের একজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী মার্ক স্পেনসার বলেন, ব্রিটেনে যেসব রাশিয়ান ব্যক্তিদের ব্যাপারে উদ্বেগ আছে, তাদের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি অবশ্য কেবল আব্রামোভিচকে নিয়ে কথা বলতে চাননি, ‘আমি কোনো ব্যক্তিবিশেষের ব্যাপারে বলতে চাই না।’ তিনি কোনো প্রকার ফাঁস হওয়া গোপন নথির ব্যাপারেও কিছু বলতে রাজি হননি।
সম্প্রতি ব্রিটিশ সরকার জানায়, তারা ব্রিটেনে বসবাসরত তিন রাশিয়ান ধনকুবেরের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে যাচ্ছে। এই তিনজনই রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ। পুতিন গতকাল ইউক্রেনে হামলা শুরু করেছেন। প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে রাশিয়ার এমন আচরণের ঘোর বিরোধী ব্রিটেন সরকার।