১৯৭৬ সালে প্রবর্তিত জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার অতীতে কখনোই রেফারিদের দেওয়া হয়নি। পুরস্কারটা সীমাবদ্ধ ছিল মূলত খেলোয়াড়, সংগঠক, কোচদের মধ্যে। কিন্তু এবার ২০১৩-২০২০ পর্যন্ত একসঙ্গে যে ৮৫ জনকে পুরস্কার দেওয়া হলো, তাঁদের মধ্যে দুজন রেফারিও আছেন।

তৈয়ব ছাড়া অন্যজন হলেন বাংলাদেশের রেফারিং জগতের গুরু জেড আলম, যাঁকে দেশের রেফারিংয়ের অগ্রপথিক বলেন তৈয়ব। জেড আলমকে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে ২০১৩ সালের ফুটবল সংগঠক হিসেবে। তবে তৈয়ব পুরস্কার পেয়েছেন ২০১৮ সালের, তাঁকে বিবেচনা করা হয়েছে রেফারি হিসেবেই।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তৈয়ব বিপুলভাবে সমাদৃত হয়েছিলেন দক্ষ হাতে খেলা চালিয়ে। বাংলাদেশের রেফারিদের মধ্যে তিনিই সবচেয়ে বেশি সময় (১০ বছর) এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন বা এএফসির এলিট প্যানেলে ছিলেন।

ফিফা রেফারি ছিলেন সর্বোচ্চ ১৮ বছর। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক ম্যাচ পরিচালনা করা রেফারিও তিনি। ম্যাচের সংখ্যা প্রায় এক শ। প্রথম দক্ষিণ এশিয়ান হিসেবে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে রেফারি ছিলেন তৈয়ব। একমাত্র বাংলাদেশি হিসেবে পেয়েছেন এএফসি ‘রেফারিজ মোমেন্টো অ্যাওয়ার্ড।’

default-image

এসবেরই স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার নিয়ে আজ বাসে করে বাড়িতে ফেরার পথে গোপালগঞ্জ থেকে ফোনে প্রথম আলোকে তৈয়ব হাসান বলেন, ‘পুরস্কারের টাকাটা সাতক্ষীরার আশাশুনি ও শ্যামনগরের উপকূলীয় এলাকায় অনূর্ধ্ব পাঁচ বছরের পুষ্টিহীন শিশুদের জন্য দেব। ওরা হয়তো মায়ের দুধ পায় না। কিন্তু পুষ্টির জন্য গরুর দুধও কিনতে পারে না, আমি হয়তো দুধ কিনে দিলাম। আমার এই এক লাখ টাকায় হয়তো কিছুই হবে না। তবে একটা প্রতীকী উদ্যোগ তো হতে পারে।’

তৈয়ব যোগ করেন, ‘আমি বৃত্তবানদের আহবান করব পুষ্টিহীন শিশুদের পাশে দাঁড়াতে। পুষ্টি না থাকলে আজকের শিশু খেলোয়াড় হতে পারবে না। তাই আমি ভেবেছি, পুষ্টিহীনদের পাশে দাঁড়াব। এটা ক্রীড়াবিজ্ঞানেরও অংশ। ক্রীড়াবিজ্ঞানের ধারণা থেকেই আমি এমন চিন্তা করেছি। এখানে মানবিক দিক যেমন আছে, ক্রীড়াবিজ্ঞানের ব্যাপারটাও এড়িয়ে যাওয়া যাবে না।’

এ উদ্যোগের উপদেষ্টা হিসেবে রাখবেন গতকালই জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কাপ্রাপ্ত বাংলাদেশ জিমন্যাস্টিকস ফেডারেশনের সভাপতি শেখ বশির আহমেদকে। সঙ্গে থাকবেন সাতক্ষীরার সমাজসেবক ডাক্তার আবুল কালাম (বাবলা)।

সাতক্ষীরায় একসময় সাংবাদিকতা করতেন তৈয়ব। সেই তিনি ২০১৩ সালের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ( ভারত বনাম আফগানিস্তান) নিজের পরা জার্সিটি নিলামে তোলেন ২০২০ সালে করোনাকালীন সময়ে।

জার্সিটি বিক্রি হয় ৫ লাখ ৫৫ হাজার টাকায়। সেই অর্থ বিতরণ করা হয় করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত খেলোয়াড়, সংগঠক, রেফারিসহ অনেকের মধ্যেই। খোদ ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো তাঁকে বিশেষ প্রশংসাপত্র পাঠিয়ছেন এ উদ্যোগ নেওয়ার জন্য।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন