default-image

গোল করতে পারুন বা না পারুন, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো বা লিওনেল মেসির মতো খেলোয়াড়েরা সুস্থ থাকলে অবশ্যই মূল একাদশে থাকবেন ও গোটা নব্বই মিনিট খেলবেন, এটাই যেন নিয়ম। কিন্তু গত দুই ম্যাচ ধরে সেই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে যাচ্ছেন জুভেন্টাসের কোচ মরিজিও সারি। রোনালদোকে গোটা ম্যাচ খেলতেই দিচ্ছেন না এই কোচ!

কয়েক দিন আগেও এমন হয়েছিল। সেদিন চ্যাম্পিয়নস লিগের গ্রুপপর্বের ম্যাচে লোকোমোটিভ মস্কোর মুখোমুখি হয়েছিল জুভেন্টাস। গোল করতে পারছিলেন না রোনালদো। নিজেদের মাঠে জুভেন্টাসকে ১-১ গোলে প্রায় আটকেই দিচ্ছিল লোকোমোটিভ। এরপর কোচ সারি হয়তো ভেবেছিলেন, রোনালদোকে মাঠে রাখলে ম্যাচ জেতা হবে না জুভেন্টাসের। যেই ভাবা সেই কাজ। যেখানে জুভেন্টাসের ম্যাচ জেতার জন্য গোল দরকার, তখনই ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে তুলে আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার পাওলো দিবালাকে মাঠে নামালেন সারি। সেই দিবালাই একদম শেষ মুহূর্তে পাওয়া জুভেন্টাসের গোলে রাখলেন ভূমিকা। ৯৩ মিনিটে সেদিন গোল করে জুভেন্টাসকে জিতিয়েছিলেন ব্রাজিলের উইঙ্গার ডগলাস কস্টা। জেতার জন্য সেদিন রোনালদোর দিকে তাকিয়ে থাকেনি তুরিনের দলটি।

>

এসি মিলানের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাত্র ৫৫ মিনিটেই রোনালদোকে তুলে নিলেন জুভেন্টাস কোচ মরিজিও সারি। আগের ম্যাচটিতে গোটা সময় খেলানো হয়নি তাঁকে।

গত রাতেও একই কাহিনি। যদিও এবারের ঘটনাটা রোনালদোর জন্য আরেকটু অস্বস্তির। সে দিন না হয় মাঠ থেকে তুলে নেওয়ার আগে রোনালদোকে ৮১ মিনিট খেলতে দিয়েছিলেন সারি। গত রাতে দিলেন আরও কম। মাত্র ৫৫ মিনিট! দ্বিতীয়ার্ধের মাত্র দশ মিনিট পার হতে না হতেই রোনালদোকে উঠিয়ে সেই পাওলো দিবালাকে নামালেন মরিজিও সারি। এবারে দিবালার ভূমিকাটা আরেকটু প্রচ্ছন্ন হলো। কোচের মুখ রাখলেন তিনি। স্বদেশি স্ট্রাইকার গঞ্জালো হিগুয়েইনের সঙ্গে বল আদান-প্রদান করে দুর্দান্ত এক বোঝাপড়ায় গোল করলেন তিনি। আর সে গোলেই পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ল জুভেন্টাস।

ওদিকে টানা দুই ম্যাচে আগে আগে মাঠ থেকে উঠে যাওয়াটা ভালোভাবে নেননি রোনালদো। খেলোয়াড় পরিবর্তনের সময় রোনালদোকে বেশ অসন্তুষ্টই দেখাচ্ছিল। পরিবর্তিত হওয়ার পর ডাগআউটে না বসে সরাসরি টানেল দিয়ে ভেতরে চলে যান। শোনা গেছে, গোটা ম্যাচ শেষ হওয়ার অপেক্ষাটুকুও করেননি রোনালদো। তার আগেই মাঠ ছেড়েছেন।

যেখানে এই সপ্তাহে দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিক করে নিজের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসি বার্সেলোনাকে জিতিয়েছেন, সেখানে গোল করা তো দূর, টানা দুবার পুরো ম্যাচটা না খেলতে পারলে রোনালদোর অভিমান হবে—এটাই তো স্বাভাবিক। তবে ফুটবল মাঠে ব্যক্তির চেয়ে দল অনেক সময় বড় হয়ে ওঠে। পর্তুগিজ তারকা সেটিই যেন নতুন করে বুঝছেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0