পেনাল্টির রেকর্ডগড়া ইউনাইটেডকে খোঁচা মরিনহোর

বিজ্ঞাপন
default-image

ভাগ্যিস, টটেনহাম মরিসিও পচেত্তিনোর রেখে যাওয়া শূন্যস্থান হোসে মরিনহোকে দিয়ে পূরণ করেছিল! না হলে, দুদিন পর পর এমন মজার সব মন্তব্য কোথায় মিলত? মাঠে ও মাঠের বাইরে প্রতিপক্ষকে এক বিন্দু ছাড় দিতে রাজি নন এই পর্তুগিজ। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে স্বদেশি ব্রুনো ফার্নান্দেজের সাফল্যের ব্যাপারে কথা বলতে গিয়েই যেমন দিলেন দুর্দান্ত এক খোঁচা।

এই মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে জায়গা করে নিয়েছে ইউনাইটেড। যদিও মৌসুমের প্রথম ভাগটায় এমন কিছু হবে বলে খুব একটা আশা করা যাচ্ছিল না। জানুয়ারির দলবদলে ইউনাইটেডে যোগ দেন ফার্নান্দেজ। এরপরই ইউনাইটেডের খেলা বদলে যায়। বদলে যায় ভাগ্যও। পর্তুগিজ মিডফিল্ডারের পারফরম্যান্সের ওপর ভর করে লিগে তৃতীয় হয়েছে দলটি।

ইংল্যান্ডের মাটিতে আবারও এক স্বদেশির সাফল্য গর্বিত করছে পর্তুগিজদের। এ কারণেই পর্তুগিজ পত্রিকা রেকর্ড তাঁর কাছে ফার্নান্দেজের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করতে বলেছিলেন। খোঁচা মারায় ওস্তাদ মরিনহো সুযোগটা হাতছাড়া করেননি। সাবেক ইউনাইটেড কোচ সঙ্গে সঙ্গে বলেছেন, 'ব্রুনো প্রিমিয়ার লিগে এল, ভালো ফিট ছিল, খুবই ভালো খেলল এবং ইউনাইটেড দলটার বেশ উন্নতি করল। এবং সবাইকে দেখিয়ে দিয়েছে সে দুর্দান্ত পেনাল্টি নিতে পারে, বিশ্বের অন্যতম সেরা সে। কারণ সে প্রায় ২০টির মতো পেনাল্টি নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে।'

ছুটি কাটাতে গিয়েও মরিনহোর এমন খোঁচা বুঝিয়ে দেয় এ মৌসুমে ইউনাইটেডের পক্ষে যাওয়া বিতর্কিত সব সিদ্ধান্ত এখনো ভোলেননি তিনি। সপ্তাহের শুরুতে চ্যাম্পিয়নস লিগের ভাগ্য যখন দুলছিল পেন্ডুলামের মতো, তখন লিগের শেষ ম্যাচে লেস্টারের মুখোমুখি হয়েছিল ইউনাইটেড। সে ম্যাচে হারলেই লিগের অবস্থান দিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের স্বপ্ন শেষ হয়ে যেত। কিন্তু ৭০ মিনিটে ব্রুনোর পেনাল্টি গোল চিন্তা দূর করে ইউনাইটেডের।

এমনই এক পেনাল্টিতেই টটেনহামের বিপক্ষে দলের হার এড়িয়েছিলেন ফার্নান্দেজ। সে ম্যাচে আরেকটি পেনাল্টি আদায়ের জন্য পড়ে যাওয়ার ভান করার পর ফার্নান্দেজের ওপর চটেছিলেন মরিনহো। কারণ মৌসুমের দ্বিতীয় ভাগে বেশ কিছু প্রশ্নবিদ্ধ পেনাল্টির সিদ্ধান্ত ইউনাইটেডের পক্ষে গিয়েছিল। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভুলগুলো রিপ্লেতে চোখে পড়েছে কিন্তু ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি ইউনাইটেডের পক্ষেই রায় দিয়েছে। এর ফলেই অনন্য এক রেকর্ডের মালিক হয়েছে ইউনাইটেড। এ মৌসুমে ১৪টি পেনাল্টি পেয়েছে দলটি। প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ এটি।

তবে এর সবই ফার্নান্দেজ নেননি। পর্তুগিজ মিডফিল্ডারের আগে এ দায়িত্ব ভাগাভাগি করে নিয়েছিল ইউনাইটেডের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়েরা। কিন্তু তাতে চারবার গোল বঞ্চিত হয়েছে তারা। ফার্নান্দেজ দায়িত্ব পেয়ে কখনো হতাশ করেননি, চারবারই গোল করেছেন। ইউনাইটেডে যোগ দেওয়ার পর সব প্রতিযোগিতা মিলে ১০ গোল করা এই মিডফিল্ডারের ছয়টি গোলই পেনাল্টি থেকে। ফলে মরিনহোর খোঁচাটা আপাতত নীরবেই হজম করতে হবে তাঁকে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন