বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

ম্যাচের আগেই উত্তেজনা ছড়িয়েছিলেন ইউনাইটেড কোচ উলে গুনার সুলশার। তাঁর দল প্রিমিয়ার লিগের প্রথম পাঁচ ম্যাচে কোনো পেনাল্টি পায়নি। এ নিয়ে প্রশ্ন করতেই দায়টা লিভারপুল কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপের ঘাড়ে দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, ক্লপ এ নিয়ে অনুযোগ করাতেই তাঁরা প্রাপ্য পেনাল্টি পাচ্ছেন না।

কাকতাল বলতেই হবে। গতকাল সুলশার আশা করেছেন, এখন থেকে তাঁর দল প্রাপ্য পেনাল্টি পাবে। আর আজই তাঁর দল পেনাল্টি পেল। সেটাও কখন, নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষ। ঘরের মাঠে ইউনাইটেড তখন ০-১ ব্যবধানে পিছিয়ে। ৮৮ মিনিটে গোল করেছিলেন ডিফেন্ডার কোর্টনি হস। যোগ করা সময়ে সেই হসই পেনাল্টি উপহার দিলেন প্রতিপক্ষকে!

default-image

এমন মুহূর্তে পেনাল্টি নেওয়ার ক্ষেত্রে রোনালদোর নামই সবার মুখে আসবে। ক্যারিয়ারজুড়ে এমন সব স্নায়ুচাপের মুহূর্তে পেনাল্টি নেওয়ার জন্য বিখ্যাত এই ফরোয়ার্ড। কিন্তু সবাইকে বিস্মিত করে ফার্নান্দেজ এগিয়ে এলেন। ফার্নান্দেজও পেনাল্টির জন্য বিখ্যাত। ইউনাইটেডে যোগ দেওয়ার পর দলটির এ নিয়ে দুশ্চিন্তা দূর করেছেন এই পর্তুগিজ। কিন্তু আজ তাঁর শট ঠেকাতে এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে কোনো কষ্টই করতে হলো না। বারের অনেক ওপর দিয়ে মেরে বল বাইরে পাঠালেন এই মিডফিল্ডার। পেশাদার ক্যারিয়ারে এই প্রথম পেনাল্টি থেকে শট পোস্টে রাখতে পারেননি ফার্নান্দেজ।

ওল্ড ট্রাফোর্ড তখন স্তব্ধ। মুখ চুন করে দাঁড়িয়ে ফার্নান্দেজ। তাঁকে সান্ত্বনা দিতে এগিয়ে গেলেন রোনালদো নিজেই। কিন্তু সর্বনাশ যা হওয়ার ততক্ষণে হয়ে গেছে। ওদিকে চড়া হাসি ফিরল হসের মুখে। সতীর্থ এক্সেল তুয়ানজেবে সুস্থ থাকলে আজ মাঠে নামা হতো না। সেখানে শুধু মাঠেই নামেননি, গোলও করেছেন হস। যেটি প্রিমিয়ার লিগে প্রতিপক্ষের মাঠে তাঁর প্রথম গোল। আর সে গোলেই ২০০৯ সালের পর ইউনাইটেডের মাঠ থেকে প্রথম জয় এনে দিল ভিলাকে।

default-image

শুধু ইউনাইটেডের মাঠেই নয়, গত ১৮ বারের মুখোমুখিতে লিগে এই প্রথম জয় পেয়েছে অ্যাস্টন ভিলা। আর ১৯৮৩ সালের পর ওল্ড ট্রাফোর্ডে দলটির মাত্র দ্বিতীয় জয় এটি! ইউনাইটেডের জার্সিতে অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে এর আগে ১৪ বার মাঠে নেমে কখনো না হারা রোনালদোও পেলেন প্রথম হারের দেখা!

ইউনাইটেড আজ যেভাবে দাপট দেখিয়ে শুরু করেছিল, তাতে এ ম্যাচ এভাবে শেষ হবে ভাবা যায়নি। প্রথম থেকে সুযোগ পেলেই শট নেওয়ার চেষ্টা করেছেন রোনালদো, পল পগবারা। কিন্তু ২৮টি শটের মধ্যে ১৩টিই প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের গায়ে লেগে ফিরেছে। বাকি ১৫টি শটের মধ্যে মাত্র ৪টি ছিল গোলবারে। সে চার শট ঠেকাতে খুব একটা কষ্ট হয়নি মার্তিনেজের। রোনালদো নিজে চারটি শট নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, পেনাল্টিসহ ফার্নান্দেজ নিয়েছিলেন ৬টি শট। কোনোটিই পোস্তে ছিল না। ওদিকে ম্যাসন গ্রিনউডের ৮ শটের মধ্যে ২টি ও পগবার ৭ চেষ্টার একটি ছিল পোস্টে।

default-image

এ হারে লিগে চারে নেমে গেছে ইউনাইটেড। ওদিকে ম্যানচেস্টারের অন্য দল সিটি প্রতিপক্ষের মাঠ থেকে জয়ে উঠে এসেছে দুইয়ে। চেলসির টমাস টুখেলের কাছে টানা তিন ম্যাচ হেরে যাওয়ায় পেপ গার্দিওলার ট্যাকটিকস নিয়ে প্রশ্ন উঠে যাচ্ছিল। এমনকি সময়ের সেরা কোচ এখন টুখেল—এমন আলোচনাও শুরু হয়েছিল। দাপুটে ফুটবলে সব আলোচনা থামিয়ে দিয়েছে গার্দিওলার সিটির।

চেলসির মাঠেই পুরো ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করেছে সিটি। পুরো ম্যাচে পোস্টে কোনো শট ছিল না রোমেলু লুকাকু ও টিমো ভেরনারদের। তবে একজন পরিপূর্ণ স্ট্রাইকারের অভাব আবার টের পেয়েছেন গার্দিওলা। একের পর এক সুযোগ সৃষ্টি হলে বক্সের ভেতরে সেটা কাজে লাগাতে পারছিলেন না কেউ। ৫৩ মিনিটে পুরো ম্যাচ দারুণ খেলা গ্যাব্রিয়েল জেসুস জটলা থেকে গোল আদায় করে নিয়েছেন একটি। সেটিই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিয়েছে।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন