রিয়াল সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ।
রিয়াল সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ।ছবি: টুইটার

বছরের পর বছর ধরে খেটখুটে একটা পরিকল্পনা ফেঁদেছিলেন তাঁরা। বিশ্বব্যাপী ফুটবলপ্রেমীদের জোর আন্দোলন ও চারপাশ থেকে ধেয়ে আসা সমালোচনায় সেই পরিকল্পনা প্রায় ভেস্তে গেছে। এখন এই ব্যর্থতার দায় তো কাউকে না কাউকে নিতে হবে! ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ সেই দায় চাপালেন ইংলিশ ক্লাবগুলোর কাঁধে।

বলা হচ্ছে ইউরোপিয়ান সুপার লিগ নিয়ে। প্রস্তাবিত এই লিগ মাঠে গড়ালে পাল্টে যেত ইউরোপিয়ান ফুটবলের মানচিত্র। ঐতিহ্যের চ্যাম্পিয়নস লিগ হয়তো বিলুপ্তই হয়ে যেত। শুরুতে ১২টি ক্লাব একজোট হয়ে এই লিগ আয়োজন করতে চেয়েছিল। কিন্তু তুমুল সমালোচনার মুখে ইংল্যান্ডের ৬টি ক্লাব সুপার লিগের জোট থেকে বেরিয়ে আসে।

এরপর ইতালি ও স্পেন মিলিয়ে একে একে চারটি ক্লাব ইংলিশদের পথ অনুসরণ করে সরে দাঁড়ায় সুপার লিগ থেকে। বাকি রয়েছে শুধু দুটি ক্লাব—রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা।

সবকিছুর পতন এত দ্রুত হচ্ছে, বোঝাই যাচ্ছে, সুপার লিগের পরিকল্পনা শুধু কাগজেই থাকছে। মাঠে আর গড়াচ্ছে না। এখন এই ব্যর্থতা নিয়ে পেরেজ বলেছেন, সুপার লিগে অংশ নিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকার পরও নিজেদের অনিচ্ছা বাকিদের মধ্যে ‘সংক্রমিত’ করেছে ইংলিশ ক্লাবগুলো—তাতেই ভেঙে পড়েছে সব পরিকল্পনা।

বিজ্ঞাপন

আর্সেনাল, টটেনহাম, ম্যানচেস্টার সিটি, চেলসি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও লিভারপুল সরে এসেছে সুপার লিগের জোট থেকে। বিশ্বব্যাপী তাদের ভক্তকুল, স্পনসর ও অ্যাসোসিয়েশনের তুমুল নিন্দার কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নেয় ক্লাবগুলো। কারণ, সুপার লিগ বাস্তবায়িত হলে চ্যাম্পিয়নস লিগ গুরুত্ব হারাত। এত দিনের ঐতিহ্যবাহী এই টুর্নামেন্ট সম্ভবত বিলোপ হয়ে যেত।

সুপার লিগে প্রচুর টাকা আয়ের সুযোগ থাকায় ফুটবলপ্রেমীরা এই টুর্নামেন্টকে ‘লোভীদের লিগ’ আখ্যা দিয়েছিলেন। এদিকে পেরেজ তো সুপার লিগের সভাপতি, পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই তাঁর ফুঁসে ওঠার কথা। সেই রাগটাই তিনি ঝেড়েছেন ইংলিশ ক্লাবগুলোর ওপর। পেরেজের দাবি, ইংলিশ ক্লাবগুলো সুপার লিগ থেকে সরে এসে এই টুর্নামেন্টে থাকার যে আইনি চুক্তি করেছিল, তা লঙ্ঘন করেছে। সরাসরি বিশ্বাসঘাতকতার কথা না বললেও পেরেজ বুঝিয়ে দিয়েছেন, ইংলিশ ক্লাবগুলো কথা দিয়ে কথা রাখেনি।

default-image

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এল লারগুয়েরোকে পেরেজ বলেন, ‘একটি ইংলিশ ক্লাব আছে, যাদের (সুপার লিগে) তেমন আগ্রহ ছিল না এবং তারা এটা সংক্রমিত করতে পারে। ক্লাবটির নাম আমি প্রকাশ করব না, কিন্তু তারা আইনি চুক্তিপত্রে সই করেছিল। আমি বিশ্বাস করি, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত না হলে অন্য একটি হবে।’

পেরেজ প্রচ্ছন্ন হুমকিও দিয়ে রাখলেন ইংলিশ ক্লাবগুলোর প্রতি। শুরুতে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এবং সে জন্য চুক্তিপত্রে সই করেও পরে সরে আসায় ইংলিশ ক্লাবগুলোর বিপক্ষে আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন রিয়াল সভাপতি পেরেজ।

‘চুক্তিপত্রে বাধ্যবাধকতা ছিল। এমন আইনি চুক্তিপত্র করে পরে এভাবে চলে যাওয়া যায় না। এমন সব ব্যবসায়ীর সঙ্গে এই চুক্তি করা হয়েছিল, যাদের চেনে গোটা বিশ্ব,’ বলেন পেরেজ। সুপার লিগের যৌক্তিকতা নিয়ে এখনো ফুটবলবিশ্বকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন রিয়াল সভাপতি, ‘চ্যাম্পিয়নস লিগের ফরম্যাট সেকেলে। আমরা এমন এক ফরম্যাট নিয়ে আসতে চেয়েছি, যেখানে মৌসুমের শুরু থেকে ইউরোপের সেরা দলগুলো একে অপরের মুখোমুখি হবে। আমরা হিসাব করে বের করেছি, এখান থেকে আরও বেশি টাকা আয় করা সম্ভব, যা অন্যান্য দলও আয় করতে পারবে।’

ইংলিশ ক্লাবগুলো ‘পরিস্থিতির কারণে সরে দাঁড়িয়েছে’ বলে মনে করেন পেরেজ। সুপার লিগ ভালোভাবে ব্যাখ্যা করতে না পারার ব্যর্থতাকে এর কারণ বলে মনে করেন তিনি। পেরেজ দুঃখ করে বলেছেন, ‘২০ বছর ধরে ফুটবলের সঙ্গে আছি, কিন্তু এমন আগ্রাসী মনোভাব কখনো দেখিনি। মনে হচ্ছে আমরা যেন ফুটবলকে হত্যা করেছি। অথচ আমরা ফুটবলকে বাঁচাতে চেয়েছিলাম।’

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন