সমালোচকদের মুখ বন্ধ করলেন রোনালদো।
সমালোচকদের মুখ বন্ধ করলেন রোনালদো।ছবি: এএফপি

গল্পের শেষ দেখেছিলেন অনেকেই। দেখাটাও অস্বাভাবিক কিছু ছিল না। যে চ্যাম্পিয়নস লিগ জিততে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে দলে ভিড়িয়েছিল জুভেন্টাস, পর্তুগিজ তারকা আসার পর তার দেখা নেই। টানা দ্বিতীয় মৌসুম ছিটকে পড়তে হয়েছে শেষ ষোলো থেকে। বিশেষ করে ফিরতি লেগে তাঁর এক ভুলেই বাদ পড়েছে জুভেন্টাস। এরপর থেকেই গুঞ্জন উঠেছে, রোনালদো ফুরিয়ে গেছেন। কেউ কেউ তো তাঁকে জুভেন্টাসেও আর দেখছেন না! রিয়াল মাদ্রিদের নাম জড়িয়ে বাজারে তাঁর দামও বলে দিয়েছিল কিছু সংবাদমাধ্যম। সর্বকালের অন্যতম সেরা এই তারকার দাম নাকি মোটামুটি মানের খেলোয়াড়ের সমান—২ কোটি ৯০ লাখ ইউরো। ভাবা যায়!

অন্তত রোনালদো ভাবতে পারেননি। আর বিশ্বমানের পারফরমাররা যেমন হয়ে থাকেন—সাধারণের ভাবনাকে উল্টে দেওয়া—ঠিক সেভাবেই পাশার দান উল্টে দিতে রোনালদোর লাগল মাত্র ৩২ মিনিট! সিরি ‘আ’ তে কাল কালিয়ারির বিপক্ষে এ সময়ের মধ্যে হ্যাটট্রিক করেন জুভেন্টাস ফরোয়ার্ড। ৩–১ গোলের জয়ে ২৬ ম্যাচে ৫৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তিনে উঠে এল জুভেন্টাস।

চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে জুভেন্টাসের বিদায়ের পর রোনালদোর সমালোচনা করেন ফাবিও কাপেলোর মতো কোচ। জুভেন্টাস কোচ আন্দ্রেয়া পিরলোও সেভাবে আড়াল করার চেষ্টা করেননি তাঁর শিষ্যকে। রোনালদো এ সবকিছুর জবাব দিয়েছেন ‘পারফেক্ট’ হ্যাটট্রিকে—মানে, মাথা ও দুটি পা দিয়েই গোল করেছেন পর্তুগিজ তারকা। ১০ মিনিটে হুয়ান কুয়াদ্রাদোর কর্নার থেকে শূন্যে লাফিয়ে হেডে গোল করেন রোনালদো। এর মধ্য দিয়ে পেশাদার ফুটবলে ব্রাজিল কিংবদন্তি পেলের ৭৬৭ গোলের কীর্তি ভেঙে ফেলেন তিনি। যদিও পেলের গোলের সঠিক সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক আছে। ১৫ মিনিট পর পেনাল্টি থেকে ডান পায়ে করা গোলে জুভেন্টাসের এগিয়ে যাওয়ার ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রোনালদো।

default-image
বিজ্ঞাপন

৩২ মিনিটে তাঁর হ্যাটট্রিকসূচক গোলটি ছিল চিরায়ত—ফ্রেদরিকো চিয়েসার পাস পেয়ে বক্সে এক ডিফেন্ডারকে ড্রিবলিংয়ে ছিটকে বাঁ পায়ের শটে গোল করেন তিনি। পেশাদার ফুটবলে অফিশিয়াল ম্যাচে এ নিয়ে মোট ৭৭০ গোল করলেন রোনালদো। ম্যাচের ৬১ মিনিটে জিওভান্নি সিমিওনের গোলে হারের ব্যবধান কমায় কালিয়ারি। তবে একদম শেষ মুহূর্তে আরেকটি গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন রোনালদো।

ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেননি রোনালদো। পরে পেলের রেকর্ড ভাঙা নিয়ে একটা পোস্ট দেন ইনস্টাগ্রামে। সেখানে সমর্থকদের তিনি স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন নতুন দিনের। তাঁর ক্যারিয়ারের সোনাঝরা দিনের গল্প যে এখনই শেষ হয়নি, তা বুঝিয়ে রোনালদো লিখেছেন, ‘এখন পরের ম্যাচ ও চ্যালেঞ্জের অপেক্ষা! পরবর্তী ট্রফি এবং রেকর্ডও। বিশ্বাস করুন, গল্পের এখনো অনেক বাকি। সামনে এখনো ভবিষ্যৎ এবং জুভেন্টাস ও পর্তুগালকে এখনো অনেক কিছু জেতানোর বাকি।’

default-image

চ্যাম্পিয়নস লিগ শেষ ষোলো ফিরতি লেগে পোর্তোর বিপক্ষে সেই ম্যাচের পর অনেকেই রোনালদোকে রিয়ালে ফেরার পথে দেখেছিলেন। কিছু সংবাদমাধ্যম মৌসুম শেষে তাঁর রিয়ালে ফেরার হিসাব–নিকাশ কষাও শুরু করে দিয়েছিল। কিন্তু জুভেন্টাস পরিচালক ফাবিও পারাতিচি এই গুঞ্জনের উত্তর দিয়েছেন, ‘হাসি থামাতে পারছি না। নিজের ক্যারিয়ারে কখনো ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে নিয়ে বিতর্ক শুনতে হবে, তা ভাবিনি। সে সিরি আ তে সর্বোচ্চ গোলদাতা (২৩)। পাঁচবার ব্যালন ডি অ’র জিতেছে। তাকে পাওয়াটা আমাদের জন্য সৌভাগ্য, সে জুভেন্টাসের ভবিষ্যৎ।’

জুভেন্টাস কালিয়ারির মুখোমুখি হওয়ার আগে স্কাই স্পোর্ট ইতালিয়াকে কথাগুলো বরেছিলেন পারাতিচি। এরপরই হ্যাটট্রিক করে রোনালদো কি ক্লাব পরিচালকের কথার সত্যতাই প্রমাণ করলেন!

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন