default-image

বিশ্ব ফুটবলে অনন্য এক স্থান ব্রাজিলের। বিশ্বকাপে সবচেয়ে সফল দল বলেই নয়, প্রতিনিয়ত দারুণ সব প্রতিভা উপহার দেওয়াটাও তাতে ভূমিকা রাখে। ঈর্ষা জাগানো সব প্রতিভা কিছুদিন পরপরই হাজির হন। এমন সব প্রতিভা যাঁদের একজনকে পেলেই হয়তো বর্তে যায় অনেক দেশ। আর সেখানে ব্রাজিলের প্রতিটি ক্লাবেই যেন ভূরি ভূরি সব প্রতিভা ঘুরে ফিরছেন। এঁদের অনেকেই হয়তো হারিয়ে যান, তবু যাঁরা টিকে থাকেন তাঁদের সংখ্যাটাও কম নয়। এ কারণেই তো ফুটবলার রপ্তানিতে শীর্ষে আছে দেশটি।

গত কিছুদিন ধরে ব্রাজিলের ফুটবলে সবচেয়ে বেশি প্রতিভার বিচ্ছুরণ দেখা যাচ্ছে মাঠের কিছু নির্দিষ্ট পজিশনে। উইং দিয়ে ছুটতে পারা দারুণ সব প্রতিভা উঠে আসছে দেশটিতে। ইউরোপিয়ান ফুটবলের বড় বড় ক্লাবগুলো তাঁদের টেনেও নিচ্ছে আকর্ষণীয় বেতনের টোপ দিয়ে। কিন্তু ব্রাজিলের তাতে প্রতিভার কমতি হচ্ছে না কোনো। এই তো নতুন এক বিস্ময়বালক পেয়ে গেছে সান্তোস। পেলে, নেইমার, রবিনিওদের ক্লাবটির হয়ে দারুণ এক কীর্তি গড়েছে অ্যাঞ্জেলো গ্যাব্রিয়েল। সান্তোসের জার্সিতে অভিষেকে পেলের করা রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে এই বালক।

বিজ্ঞাপন

গত রবিবার ফ্লুমিনেন্সের কাছে ৩-১ গোলে হেরে গেছে সান্তোস। এ হারে শিরোপা দৌড়ে অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে ক্লাবটি। কিন্তু ম্যাচ শেষে এ নিয়ে পড়ে থাকেনি ক্লাব। বরং ম্যাচের ৬০ মিনিটে গ্যাব্রিয়েলের করা কীর্তিতেই মেতেছে তারা। ২-১ গোলে পিছিয়ে থাকা অবস্থায় এই উইঙ্গারকে নামিয়েছিলেন কোচ। তাতে ফল না বদলালেও ইতিহাস গড়ায় সেটা কোনো বাধা হয়নি। রোববার মাঠে নামার সময় গ্যাব্রিয়েলের বয়স ছিল ১৫ বছর ১০ মাস ৪ দিন। এতে সান্তোসের হয়ে পেলের অভিষেকের রেকর্ড ভেঙে গেছে। ১৯৫৬ সালে সান্তোস অভিষেকের সময় পেলের বয়স ছিল ১৫ বছর ১০ মাস ১৫ দিন।

আর্থিক দুর্দশায় বাজে সময় যাচ্ছে সান্তোসের। ক্লাবের দুর্দশায় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়ে ফিরেছিলেন এ ক্লাব থেকেই তারকা বনে যাওয়া রবিনিও। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা থাকায় চুক্তি বাতিল করতে হয়েছে সান্তোসকে। সে ঘটনায় বেশ সমালোচনা হয়েছে ক্লাবের। এমন অবস্থায় ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার মতো কিছু খুঁজে পেয়ে স্বস্তি পেয়েছে ক্লাবটি, ‘হারের পরও এ দিনটি সান্তোসের জন্য ঐতিহাসিক। ১৫ বছর ১০ মাস বয়সী স্ট্রাইকার গ্যাব্রিয়েল সান্তোসের জার্সি গায়ে দেওয়া দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড়, শুধু কুতিনিও তার চেয়ে কম বয়সে খেলেছে। অভিনন্দন।’

default-image

২০০৪ সালের ২১ ডিসেম্বর জন্ম নেওয়া গ্যাব্রিয়েল এখন তাঁর আগে পরে থাকা দুই কিংবদন্তির পথে হাঁটতে পারলেই হলো। পেলেকে তো নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কুতিনিও (বর্তমানের ফিলিপ কুতিনিও নন) ব্রাজিল দলে বড় তারকা বনতে না পারলেও তাঁর শুরুটাও ছিল স্বপ্নের মতো। ১৯৬২ বিশ্বকাপ জয়ী দলে থাকলেও চোটের কারণে খেলা হয়নি। সান্তোসের হয়ে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হওয়ার রেকর্ডটি পেলের কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছিলেন ১৪ বছর ১১ মাস ৬ দিন বয়সে। পেলের চেয়ে প্রায় তিন বছরের ছোট কুতিনিও দারুণ এক জুটি গড়েছিলেন ফুটবল সম্রাটের সঙ্গে। সান্তোসের ইতিহাসে পেলের পর সেরা বলেই ভাবা হয় তাঁকে। এমন দুজনকে মনে করিয়ে দেওয়া গ্যাব্রিয়েলের কাঁধে তাই অনেক প্রত্যাশা পূরণের চাপ। সেটা সামলাতে পারলেই হয় এখন!

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0