default-image

সে প্রত্যাবর্তনটাই বা হলো কী দুর্দান্তভাবে! দ্বিতীয়ার্ধে আড়মোড়া ভেঙে জেগে ওঠা লিভারপুল গুনে গুনে তিনবার বল ঢোকালো ভিয়ারিয়ালের জালে। তাতে ৩-২ গোলে ম্যাচ তো জেতা হলোই, দুই লেগ মিলিয়ে টাইটাও জেতা হয়ে গেল ৫-২ গোলে।

আর তাতেই নিশ্চিত হলো, আগামী ২৮ তারিখে স্তাদে দে ফ্রান্সে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে প্রথম দল হিসেবে লিভারপুলই উঠছে। অপেক্ষাটা শুধু প্রতিপক্ষের এখন। রিয়াল মাদ্রিদ না ম্যানচেস্টার সিটি, ফাইনালে লিভারপুলের প্রতিপক্ষ কে হবে, সেটা বোঝা যাবে আগামীকাল রাতে।

ম্যাচের ৩ মিনিটেই এগিয়ে যায় ভিয়ারিয়াল। গত লেগে স্প্যানিশ স্ট্রাইকার জেরার্দ মোরেনো চোটের কারণে খেলতে পারেননি, এবার আর এই ম্যাচ মিস করেননি। আক্রমণভাগে সাধারণত মরেনোর সঙ্গী হিসেবে যে দানুমা থাকেন, এবার চোটের কারণে তাঁকে দেখা গেল না। সুযোগ পেলেন সেনেগালের স্ট্রাইকার বুলায়ে দিয়া। ফরাসি মিডফিল্ডার এতিয়েঁ কাপুর সহায়তায় শুরুতেই দলকে এগিয়ে দেওয়ার কাজটা করলেন এই দিয়া। লিভারপুল ততক্ষণে ঠিকঠাক নিজেদের গুছিয়েও উঠতে পারেনি হয়তো!

পুরো প্রথমার্ধ জুড়েই একই চিত্র দেখা গেল। বয়সী সেন্টারব্যাক রাউল আলবিওল যেভাবে নিজের লাইন থেকে উঠে এসে তেড়েফুঁড়ে রক্ষণ করছিলেন, মানে-জোতাদের পা থেকে বল কেড়ে নিচ্ছিলেন, তাতে মনে হচ্ছিল, নিজেদের মাঠে প্রত্যাবর্তনের গল্পটা লেখার জন্য ভিয়ারিয়াল কতটা মরিয়া।

default-image

তারই পরবর্তী প্রমাণ দেখা গেল ৪১ মিনিটে। আবারও গোল বানিয়ে দেওয়ার ভূমিকায় টটেনহামের সাবেক মিডফিল্ডার কাপু। এবার গোলদাতার ভূমিকায় আরেক ফরাসি মিডফিল্ডার - ফ্রান্সিস কোকুইলান। প্রথম লেগে ২-০ গোলে এগিয়ে থাকা লিভারপুল তখন টুর্নামেন্ট থেকেই বাদ পড়ে যাওয়ার শঙ্কায় কাঁপছে!

তবে ইয়ুর্গেন ক্লপ হয়তো জানতেন, দল একটা গোল পেলেই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেওয়া সম্ভব। দ্বিতীয়ার্ধে নিষ্প্রভ জোতার জায়গায় নামানো হলো লুইস দিয়াজকে, মানে বাম উইং থেকে সরে আসলেন মাঝে। ব্যস, ওটাই টোটকা হিসেবে কাজ করল যেন।

৬২ মিনিটে নিজের রক্ষণ লাইন থেকে সরে একটু সামনে আসতে গিয়ে গড়বড় করে ফেললেন প্রথমার্ধে দুই গোল বানিয়ে দেওয়া কাপু। কাপুর পেছনে থাকা ফাবিনিওকে অফসাইডের ফাঁদ পেরিয়ে বল বাড়িয়ে দিলেন সালাহ। ফাবিনিওর জোরালো শটের জবাব জানা ছিল না ভিয়ারিয়ালের আর্জেন্টাইন গোলকিপার জিরোনিমো রুইয়ির। ব্যস, প্রত্যাশিত এক গোল এসে গেল লিভারপুলের!

ফাইনালে ওঠার জন্য আর গোল না পেলেও হতো লিভারপুলের। কিন্তু অল রেডরা যে ততক্ষণে রক্তের স্বাদ পেয়ে গিয়েছে! পাঁচ মিনিট পরে এবার ট্রেন্ট অ্যালেক্সান্ডার-আরনল্ডের সহায়তায় গোল করে লুইস দিয়াজ বুঝিয়ে দিলেন, কেন তাঁকে দ্বিতীয়ার্ধে নামানো হয়েছে। ৭৪ মিনিটে সাদিও মানে গোল করে নিশ্চিত করলেন, টাই তো বটেই, ম্যাচটাও জিতে মাঠ ছাড়বে লিভারপুল। তিন গোলেই ভিয়ারিয়ালের আর্জেন্টাইন গোলকিপার রুইয়ির বাজে পারফরম্যান্স ভূমিকা রেখেছে।

দ্বিতীয়ার্ধে দলের এমন হতাশাজনক পারফরম্যান্সে বিরক্ত হয়েই যেন উল্টোপাল্টা ফাউল করা শুরু করলেন প্রথমার্ধে দুই গোল বানিয়ে দেওয়া কাপু। ৮৫ মিনিটে তাঁর দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছেড়ে যাওয়া অন্তত সে কথাই বলে!

শেষমেশ প্রত্যেবর্তনের গল্পটা তাই লিভারপুলই লিখল। আর নিশ্চিত করল, ২০১৯ সালের পর আবারও চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে উঠছে তারা।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন