বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

মেসি, নেইমার, এমবাপ্পে কেউই যে আজ খুব বেশি বাজে খেলেছেন এমন নয়। এমবাপ্পে বেশ কয়েকটি সুযোগ হাতছাড়া করেছেন বটে, তবে ম্যাচজুড়ে পিএসজির আক্রমণভাগে সবচেয়ে প্রাণচঞ্চল ছিলেন তিনিই।

মেসির দারুণ একটি ফ্রি-কিক বারে লেগে ফিরেছে। প্রথমার্ধে মেসি ও নেইমার মিলে তিন-চারবার এমবাপ্পেকে দারুণ থ্রু বাড়িয়েছেন, যেগুলোতে গোলের দারুণ সব সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি ফ্রেঞ্চ ফরোয়ার্ড। দ্বিতীয়ার্ধে এমবাপ্পের একটা গোল বাতিল হয়েছে অফসাইডে।

কিন্তু সব ছাপিয়েও এটা পরিষ্কার হয়ে গেছে, মেসি-নেইমার-এমবাপ্পের সঙ্গে দি মারিয়াকেও একাদশে নামালে দলের ভারসাম্য কীভাবে ঠিক করবেন, তা এখনো বুঝতে পারেননি পিএসজি কোচ পচেত্তিনো।

আর্জেন্টাইন কোচের খেলোয়াড় বদল নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে! দল যখন ২-০ গোলে পিছিয়ে, এমন অবস্থায় মেসিকে একা করে দিয়ে, এমবাপ্পেকে প্রতিপক্ষের গোলের সামনে থেকে বাঁ প্রান্তে নিয়ে গিয়ে নেইমার আর ভেরাত্তিকে উঠিয়ে নেন পচেত্তিনো! তখনো ম্যাচের ১৫ মিনিট বাকি!

default-image

আরেকবার চোখে লেগেছে প্রতিপক্ষের চাপের মুখে পিএসজির রক্ষণের নিজেদের অর্ধ থেকে বল বের করে আনতে না পারার ব্যর্থতাও। রেনে যে পিএসজিকে রুখতে খুব বেশি নতুন কিছু করেছে, এমন নয়। এর আগে চ্যাম্পিয়নস লিগে ব্রুগা কিংবা ম্যান সিটি যা করেছে, রেনে কোচ ব্রুনো জেনেসিও-ও আজ সে কৌশলেই খেলিয়েছেন দলকে।

কোন কৌশল? পিএসজির স্বপ্নের মতো আক্রমণত্রয়ী থাকতে পারে, মাঝমাঠে ভেরাত্তির মতো একজন থাকতে পারেন, কিন্তু তাঁরা তো তখনই ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারবেন যখন তাঁদের পায়ে বল যাবে। ব্রুগা আর ম্যান সিটির মতো করে দারুণ প্রেসিংয়ে রক্ষণ থেকে মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগে বল যাওয়ার সে পথটাই বন্ধ করে দিয়েছে রেনে। পিএসজির রক্ষণ ও মাঝমাঠে প্রতিপক্ষের চাপের মুখে বল পায়ে যাঁদের দুর্বলতা, সেই কিমপেম্বে, ইদ্রিসা গানা গেয়ে, হাকিমিদের কাছে বল গেলেই দল হয়ে ঝাঁপিয়েছে রেনে।

ম্যাচের প্রথম মিনিট দশেক পিএসজির বক্সের সামনে গিয়ে রেনের দমবন্ধ করা প্রেসিংয়ের সামনে পিএসজি বেশ অসহায়ই ছিল। এরপর মেসি ও নেইমার নিচে নেমে এসে খেলার নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করেন, পিএসজিও বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করে। মেসির সঙ্গে এমবাপ্পের রসায়নটা বেশ চোখে পড়েছে এ সময়ে।

default-image

২৫ মিনিটে মেসির দুর্দান্ত থ্রু ধরে গোলকিপারকে একা পেয়ে গিয়েছিলেন এমবাপ্পে, কিন্তু কয়েক গজ দূর থেকে ফরাসি তারকার শট যায় বারের অনেক ওপর দিয়ে। ৩১ মিনিটে মেসির ধনুক-বাঁকা ফ্রি-কিক ফেরে বারে লেগে। লিগে পিএসজির জার্সিতে প্রথম গোলের খুব কাছে গিয়েও আরেকবার ফিরতে হলো ৩৪ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডকে।

সে সময় মনে হচ্ছিল পিএসজির গোল শুধুই সময়ের ব্যাপার। কিন্তু হলো উল্টো! ৪৫ মিনিটে পাল্টা আক্রমণে উল্টো গোল করে বসে রেনে। বাঁ দিকে রেনের দশ নম্বর জার্সিতে বেশ নজর কাড়া সুলেমানা দারুণ ক্রস করেন বক্সে, দৌড়ে বক্সে উঠে আসা লাবোর্দ পিএসজির লেফটব্যাক নুনো মেন্দেসকে ফাঁকি দিয়ে বল জড়িয়ে দেন জালে।

বিরতিতে পিছিয়ে পড়া পিএসজি দ্বিতীয়ার্ধের বাঁশি বাজতে না বাজতেই আবার খেল ধাক্কা। এবারও উৎস পাল্টা আক্রমণ। পিএসজির দলের ভারসাম্য যে নেই—সেটা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে পাল্টা আক্রমণে উঠে লাবোর্দ ডান প্রান্ত দিয়ে দৌড়ে উঠলেন। গোললাইনের কাছে গিয়ে বক্সে নিচু ক্রস করেন লাবোর্দ, বক্সে থাকা টেইট সেটি জড়িয়ে দেন জালে।

দুই গোল পেয়ে রেনে আরও রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ে, মেসি-নেইমারদের পায়ে বল গেলেই তখন সামনে দুজন প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডার ঘিরে ধরতে থাকেন। পিএসজি সে সময় আরও অসহায়ই হয়ে পড়ে। ৬২ মিনিটে রেনের সুলেমানার বুলেট গতির শট পিএসজির বারে বাতাস লাগিয়ে চলে যায়।

পিএসজিকে আরও অসহায় করে দেয় ভিএআরের সিদ্ধান্ত। ম্যাচে অনেক সুযোগ নষ্ট করা এমবাপ্পে ৬৮ মিনিটে অসাধারণ দক্ষতায় বল জালে জড়ান। মাঝমাঠ থেকে মেসি বল দিয়েছিলেন এমবাপ্পেকে। এমবাপ্পে বক্সের সামনে বল দি মারিয়াকে দিয়েই ভেতরে ঢুকে যান, এমবাপ্পের দৌড় লক্ষ্য করে দি মারিয়া থ্রু বাড়ান। সেই থ্রু ধরে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারকে আড়াল করে, গোলকিপারকে বোকা বানিয়ে দারুণ ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়ান এমবাপ্পে। কিন্তু ভিএআর জানাল, মেসি এমবাপ্পেকে পাস দেওয়ার সময়ে এমবাপ্পে অফসাইড ছিলেন!

৭৪ মিনিটে আরেকবার ফ্রি-কিক পায় পিএসজি, আবার মেসির শট। এবার আর বারে লাগেনি, তবে পোস্টে বাতাস লাগিয়ে চলে যায় বল। এরপর পিএসজি কোচ পচেত্তিনোর ওই হতভম্ব করে দেওয়া দুই বদল। খেলোয়াড় তিনজন বদল করেছিলেন, কিন্তু এর মধ্যে ইদ্রিসা গের পাশাপাশি নেইমার ও ভেরাত্তিকে কেন উঠিয়ে নিলেন, সে ব্যাখ্যা হয়তো আজ সংবাদ সম্মেলনে দিতে হতে পারে পচেত্তিনোকে। এই তিনজনের বদলে পিএসজির হয়ে মাঠে নামেন ভাইনালডাম, এরেরা ও ইকার্দি।

মেসি তখন রেনে বক্সের সামনের অঞ্চলে একা হয়ে পড়েন, রক্ষণ সামলে পাল্টা আক্রমণের কৌশলে যাওয়া রেনে তাঁকে ঘিরে রাখে। এমবাপ্পেকে স্ট্রাইকার থেকে সরিয়ে লেফট উইংয়ে নিয়ে যান পচেত্তিনো, ফলে এমবাপ্পের দাপট যায় কমে। নির্ধারিত সময় আর যোগ করা ছয় মিনিট সময়েও পিএসজি তখন হয়ে পড়ে নখদন্তহীন।

উল্টো দিকে পিএসজি আরেকটি গোল খেয়ে যাওয়ার শঙ্কাও জাগে। ৮২ মিনিটে হাকিমি নিজেদের বক্সে রেনের লাবোর্দকে ফাউল করেছেন—এই অভিযোগে রেনের পক্ষে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। কিন্তু ভিএআরে দেখা যায়, হাকিমির পা বলেই লেগেছিল। পেনাল্টি বাতিল হয়।

কিন্তু তাতে পিএসজির আর বেশি লাভ হলো কই! রেনের বরং দাপট জারি থাকল। ২০১১ সালে পিএসজি কাতারি মালিকানায় আসার পর যে দলের কাছে লিগে পিএসজি সবচেয়ে বেশি ৫ বার হেরেছে, লিওঁর পাশাপাশি সে তালিকায় উঠে গেল রেনের নাম।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন