বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

একই সঙ্গে ব্রুজোনও পাস করলেন বাংলাদেশ দলের কোচ হিসেবে প্রথম পরীক্ষায়।
এত দিন ক্লাব ফুটবলের কোচের জার্সিটাই দেখা গিয়েছিল ব্রুজোনের গায়ে। আজ মালদ্বীপের জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রথমবার জাতীয় দলের ডাগআউটে কোচ হিসেবে দাঁড়ালেন।

২০১২-১৪ মৌসুমে ক্লাব ফুটবলে ব্রুজোন প্রথম কোচিং করিয়েছেন ভারতের আই লিগের ক্লাব স্পোর্টিং গোয়াতে। এরপর ২০১৫-১৬ মৌসুমে ভারতের মুম্বাই সিটি ও ২০১৬-১৭ মৌসুমে ছিলেন স্পেনের ক্লাব রিয়াল মায়োর্কার সহকারী কোচের দায়িত্বে। ব্রুজোনের কোচিং ক্যারিয়ারের মাইলফলক বলা যায় সেটি।

default-image

এরপর ২০১৭ সালের ২২ মার্চ আবারও ফিরে আসেন ভারতে। মুম্বাই এফসি, মালদ্বীপের নিউ রেডিয়েন্ট হয়ে ২০১৮ সালে আসেন বাংলাদেশ। বসুন্ধরা কিংসের দায়িত্ব নিয়েই দলকে অপরাজেয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন ঘরোয়া ফুটবলে।

প্রিমিয়ার লিগে ২৪ ম্যাচে মাত্র ১টি ম্যাচে হেরেছিল ব্রুজোনের বসুন্ধরা কিংস। সেই হারও শিরোপা নিশ্চিত হওয়ার পর। প্রিমিয়ার লিগ দুবার, স্বাধীনতা কাপ, ফেডারেশন কাপ—বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলের সব শিরোপা জেতা হয়ে গেছে ব্রুজোনের।

এএফসি কাপেও বসুন্ধরা কিংসকে নিয়ে গেছেন ব্রুজোন। সব মিলিয়ে ব্রুজোনের অধীন ৮৩ ম্যাচ খেলেছে বসুন্ধরা কিংস। এর মধ্যে ৬৪ ম্যাচে জয়, ১১ ড্র ও ৮ ম্যাচে হার বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়নদের।

default-image

গত ১৭ সেপ্টেম্বর জেমি ডেকে অব্যাহতি দিয়ে ব্রুজোনের হাতে বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব তুলে দেয় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। দায়িত্ব নেওয়ার পর সাফে প্রথম ম্যাচেই জয় পেলেন তিনি। অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে শুরুতেই ব্রুজোন বলেছিলেন, ‘প্রথমবারের মতো একটি দেশের প্রতিনিধি হয়ে ডাগআউটে দাঁড়ানো অনেক সম্মানের ব্যাপার। সাত দিনের মধ্যে দলকে বদলে দেওয়া সম্ভব নয়। তবে আমি লড়াকু সৈনিক।’

ব্রুজোন হতে চেয়েছিলেন ফুটবলার। সেলতা ভিগোর ‘বি’ দলের হয়ে দ্বিতীয় বিভাগে খেলতেন। কিন্তু ২৪ বছর বয়সে চোটের কাছে হার মেনে ফুটবল ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। ক্যারিয়ার শেষ হলেও ফুটবল ছাড়েননি। কোচিং লাইসেন্স নিয়ে পেশাদার কোচ হয়ে গেলেন একসময়।

প্রায় পাঁচ বছর ধরে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল নিয়ে কাজ করছেন ব্রুজোন। প্রতিপক্ষ দলগুলো সম্পর্কে ভালো ধারণাই আছে তাঁর। ফুটবলারদের লড়াই করার স্বপ্ন দেখিয়েছেন।

টুর্নামেন্ট জয়ে শুরু করতে পেরে খুশি ব্রুজোন। ম্যাচ জেতার পর আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে এসে বলেন, ‘জয়ের ব্যবধান বাড়লে ভালো লাগত। তবে ফুটবলারদের পারফরম্যান্সে আমি খুশি।’

default-image

শ্রীলঙ্কার রক্ষণাত্মক ফুটবল নিয়ে বেশ বিরক্তই হয়েছেন ব্রুজোন, ‘প্রথমার্ধে ওরা অনেক রক্ষণাত্মক খেলেছে। আমাদের তিন ডিফেন্ডার ও দুই মিডফিল্ডার ভালোভাবে রক্ষণ সামলেছে। শেষ ১০ মিনিটে আমরা ভালো সুযোগ পেয়েছিলাম। আমরা ৪-৪-২ ছকে খেলেছি। তবে আমাদের আরও উন্নতি করতে হবে। আমাদের কিছু ভালো রিজার্ভ ফুটবলার আছে। শেষ কয়েক মিনিট বাংলাদেশ ভালো ফুটবল খেলেছে। আবারও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ছেলেরা। আমার ছেলেদের মধ্যে বোঝাপড়া ছিল অসাধারণ। তারপরও বলব, আমাদের উন্নতির অনেক জায়গা আছে। আমি পরের ম্যাচ নিয়ে বেশ সতর্ক। আমাদের আরও কাজ করতে হবে।’

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন