কিছুই করতে পারেননি সালাহরা।
কিছুই করতে পারেননি সালাহরা।ছবি : রয়টার্স

এক শহরের দুই ক্লাব হলে যা হয়। ‘ডার্বি ম্যাচ’–এর উত্তেজনা ছাড়িয়ে যায় সবকিছুকে। লিভারপুল শহরের দুই ক্লাব লিভারপুল আর এভারটনের ডার্বি রোমা-লাৎসিও, বোকা জুনিয়র্স-রিভার প্লেট, পার্টিজান-রেড স্টার, চেলসি-আর্সেনাল, এসি মিলান-ইন্টার মিলানের মতো অত বেশি স্নায়ুক্ষয়ী না হলেও শহরের মানুষের কাছে এই ডার্বির আবেদন অন্য রকম। ম্যাচ জেতা মানেই পরবর্তী ডার্বি পর্যন্ত শহরে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ানোর লাইসেন্স পাওয়া যেন। আর প্রতিপক্ষের মাঠে গিয়ে জয় পেয়ে এলে তো কোনো কথাই নেই। আনন্দ ও গর্ব, দুটোই বেড়ে যায় বহু বহু গুণ। যে আনন্দটা গত ২২ বছর ধরে আসেনি এভারটনের নীল শিবিরে।

২২ বছরের এই অপ্রাপ্তিটুকুও গত রাতে ঘুচিয়ে দিলেন এভারটনের কিংবদন্তি ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। লিভারপুলকে লিগ ম্যাচে তাদের মাটিতেই হারিয়ে এসেছেন ২-০ গোলে। এর আগে কোনো লিগ ম্যাচে লিভারপুলের মাঠে গিয়ে এভারটন জিতে এসেছিল, এমনটা হয়েছিল সেই ১৯৯৯ সালে। কেভিন ক্যাম্পবেলের গোলে সেদিন জয়ের উৎসব করেছিল লিভারপুল শহরের নীল অংশ। লাল কার্ড দেখেছিলেন লিভারপুল কিংবদন্তি স্টিভেন জেরার্ড ও গোলরক্ষক স্যান্ডর ওয়েস্টারভেল্ড। ক্যাম্পবেলের যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করেছেন এই এভারটনের ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার রিচার্লিসন ও আইসল্যান্ডের মিডফিল্ডার গিলফি সিগুর্ডসন।

বিজ্ঞাপন
default-image

এই নিয়ে নিজেদের মাঠে টানা চার ম্যাচ হেরে বসল লিভারপুল। এর আগে হেরেছিল বার্নলি, ব্রাইটন, ম্যানচেস্টার সিটির কাছে। অথচ কিছুদিন আগে এই অ্যানফিল্ডই ছিল দুর্গের সমান। দেশ–বিদেশের ক্লাবগুলো যে দুর্গে এসে জয়ের আশা তেমন করত না। প্রায় ১ হাজার ৩৬৯ দিন ধরে নিজেদের দুর্গ অটুট রাখার পর যেভাবে টানা চার ম্যাচে এভাবে হেরে বসেছে তারা, তাতে ফিরে এসেছে প্রায় শতবর্ষী পুরোনো এক স্মৃতি। এর আগে সেই ১৯২৩ সালের ডিসেম্বরে ঘরের মাঠে টানা চার ম্যাচ হেরেছিল। আর চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ঠিক পরের মৌসুমে নিজেদের মাঠে টানা চার ম্যাচ হারার ‘কৃতিত্ব’টা ছিল শুধু এভারটনেরই। ১৯২৮-২৯ মৌসুমে নিজেদের করা ওই কীর্তির ভাগীদার হিসেবে এবার তারা নগর প্রতিদ্বন্দ্বীদেরও পাবে।

সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এর আগে টানা ২৪ ম্যাচে এভারটনের বিপক্ষে অপরাজিত ছিল লিভারপুল। এই হারে সেই রেকর্ডও ভেঙে তছনছ হয়ে গেছে। ম্যাচের তিন মিনিটেই দলকে এগিয়ে দেন রিচার্লিসন। সাবেক রিয়াল মিডফিল্ডফার হামেস রদ্রিগেজের পাস ধরে দুর্দান্ত প্লেসিংয়ে গোল করে অ্যানফিল্ডের মাঠে এভারটনকে এগিয়ে দেন এই ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার। প্রিমিয়ার লিগে এর আগে মার্সিসাইড ডার্বিতে এভারটনের প্রথম গোল করে এগিয়ে যাওয়ার কীর্তি ছিল সেই ১৯৯৯ সালের ম্যাচটায়, যেটায় তারা জিতেছিল। অর্থাৎ নব্বই মিনিট পর কী হতে পারে, তার একটা ইঙ্গিত কিন্তু শুরু থেকেই পাচ্ছিল এভারটন। লিভারপুলের বিপক্ষে লিভের ম্যাচে এত তাড়াতাড়ি গোল এর আগে শুধু একজনই করেছিলেন, ফরাসি মিডফিল্ডার অলিভার দাকোর। তা–ও সেই ১৯৯৯-০০ মৌসুমে।

লিভারপুলের চিন্তার ভাঁজ আরও বেড়ে যায় অধিনায়ক জর্ডান হেন্ডারসন চোট পেয়ে প্রথমার্ধেই মাঠ থেকে বেরিয়ে গেলে। এমনিতেই তিনি মিডফিল্ডার, দলের একাধিক চোট সমস্যার কারণে খেলছেন সেন্টারব্যাক হিসেবে। সেই হেন্ডারসনও যখন চোটে পড়লেন, লিভারপুল কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপের চেহারায় ফোকাস করল ক্যামেরা। দেখা গেল, ঠাট্টাচ্ছলে হাসছেন তিনি। হয়তো ভাবছিলেন, ‘প্রতিদিন এমন নতুন একজন করে চোটে পড়লে কী ম্যাচ খেলা যায়!’

হেন্ডারসনের জায়গায় মাঠে নামানো হয় ন্যাট ফিলিপসকে। আর আগে থেকেই সেন্টারব্যাক হিসেবে ছিলেন দলে নতুন আসা ওজান কাবাক। কাবাক-ফিলিপস খেলা শুরু করার পর নিশ্চিত হয়ে গেল, এই মৌসুমে এই নিয়ে ১৮টা ভিন্ন ভিন্ন জুটিকে সেন্টারব্যাকের জায়গা দুটোয় খেলিয়েছে লিভারপুল। দলের চোট সমস্যা এতটাই প্রকট, ভাবা যায়!

বিজ্ঞাপন

শেষ দিকে বিতর্কিত এক পেনাল্টিতে নিজেদের ব্যবধান বাড়ায় এভারটন। দুর্দান্ত এক কাউন্টারে লিভারপুলের গোলমুখে শট মারেন ইংলিশ স্ট্রাইকার ডমিনিক কালভার্ট-লুইন। লিভারপুলের গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকার সে শট আটকালেও তাঁর ঠিক সামনে থাকা রাইটব্যাক ট্রেন্ট অ্যালেক্সান্ডার-আরনল্ডের মাথায় পা লেগে হোঁচট খেয়ে পড়ে যান এই স্ট্রাইকার। ভিএআরের সাহায্য নিয়ে এই কাণ্ডের জন্য লিভারপুলের বিপক্ষে পেনাল্টি দেন রেফারি। সেখান থেকেই গোল করে দলকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন সিগুর্ডসন। পরে জর্জিনিও ভাইনালডম, রবার্তো ফিরমিনো, মোহাম্মদ সালাহরা চেষ্টা করেও গোল শোধ করতে পারেননি।

default-image

এই পরাজয়ে ২৫ ম্যাচে ৪০ পয়েন্ট নিয়ে ষষ্ঠ স্থানেই থাকল লিভারপুল। শীর্ষে থাকা সিটির সঙ্গে যাদের ব্যবধান এখন ১৬ পয়েন্টের। সিটি খেলেছেও একটি ম্যাচ কম। আজ আর্সেনালের বিপক্ষে মাঠে নামবে গার্দিওলার দল।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন