বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালে সময় রাত জেগে খেলা দেখেছি ব্রাজিল–আর্জেন্টিনার। বন্ধুদের বাসায় গিয়ে খাবারদাবার রান্না করে মহা উৎসবে খেলা দেখেছি। তখন খেলাগুলো হতো (বাংলাদেশ সময়) গভীর রাতে। রাত জেগে খেলা দেখতাম। প্রিয় দল হারলে একসঙ্গে কেঁদেছি, জিতলে হেসেছি, মজা করেছি। গোল করলে হইহুল্লোড় করেছি, কিন্তু এর মধ্যে দ্বন্দ্ব–সংঘাত ছিল না। খেলাধুলায় হারজিতে এই নির্মল আবেগটা খুব ভালো লাগে। খেলা তো নির্মল আনন্দের, এই আনন্দটুকু না নিয়ে শুধু সমর্থনের খাতিরে বিভেদ সৃষ্টি করলে খেলার মজাটাই থাকে না।

ছোটবেলায় ব্রাজিল–আর্জেন্টিনার খেলা দেখার সময় এসব ছিল না। এখন আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। নির্ভেজাল ভালো খেলোয়াড়ের খেলাটা আগে উপভোগ করতে হবে। ছোটবেলায় পাঠ্যবইয়ে পেলের কথা পড়েছি। এরপর ম্যারাডোনাকে চিনলাম। দুজনই আমার প্রিয়। পছন্দের দল তো সবারই থাকে। তাই বলে এ নিয়ে দ্বন্দ্ব–সংঘাতে জড়ানোর সঙ্গে খেলার নির্মল আনন্দের কোনো সম্পর্ক থাকতে পারে না। পছন্দের দল নিয়ে দুটো কথা ফেসবুকে লিখব, তা নিয়ে সবাই অসহিষ্ণু আচরণ করবে, এসব আসলে খেলার আনন্দের সঙ্গে বেমানান।

ঢাকায় আসার পর আমরা খেলা দেখেছি বন্ধুর বাসায়। এখন সেভাবে দেখা না হলেও একসময় ব্রাজিল–আর্জেন্টিনা ম্যাচ কখনো হাতছাড়া করিনি। না দেখে থাকতে পারিনি। দুই দলের শৈল্পিক খেলাই ভীষণ ভালো লাগত। ভালো খেলা দেখলে আমার ভালো লাগে। সেটা শুধু ফুটবল নয়, ক্রিকেট কিংবা যেকোনো খেলাতেই। আমি কট্টর সমর্থক নই।

এমন সমর্থকেরা কিছু সময় বিপত্তি বাধিয়ে ফেলেন। কট্টর বলতে—নিজে যে দল সমর্থন করে তার বাইরে অন্য কোনো দলকে সম্মান করে না। দুঃখজনক বিষয় হলো, কট্টর সমর্থকদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। তাতে খেলার নির্মল মজাটা আর থাকছে না। একসময় যে ব্রাজিল–আর্জেন্টিনা ম্যাচ ছিল উৎসবের আবহ, এখন সে ম্যাচ ঘিরেই দ্বন্দ্ব–সংঘর্ষের শঙ্কা তৈরি হচ্ছে। কোপা আমেরিকা ফাইনালে ব্রাজিল–আর্জেন্টিনা ম্যাচ দিয়ে এই বিভেদ ধুয়েমুছে শৈশবের সেই উৎসবের আবহ ফিরে আসুক—এই আশায় ম্যাচটা দেখব।

লেখক: অভিনেতা