বিজ্ঞাপন

মেসির অমন সিদ্ধান্তের পেছনে অবশ্যই কোনো কারণ ছিল, এটা বিশ্বাস করেন ফিগো, ‘ও নিশ্চয়ই অমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অনেক কিছুই ভেবেছে। নিশ্চয়ই এমন কিছু ছিল, যার কারণে সে ক্লাব ছাড়তে চেয়েছিল। আমি জানি না সেগুলি কী! কিন্তু জীবন থেকে আমি যেটা শিখেছি। সেটা হলো, কেউ যদি কোথাও থাকতে না চায় এবং সে ব্যাপারে মোটামুটি মনস্থির করে ফেলে, তাহলে কেউ তাঁকে আটকাতে পারে না।’

ফিগো নিজেও হয়তো সে সময়ে বার্সায় থাকতে চাননি একদম। বার্সেলোনার হয়ে ১৭২ ম্যাচে ৩০ গোল করা লুইস ফিগোকে বড্ড ভালোবাসতেন ক্যাম্প ন্যুর দর্শকেরা। সেই ভালোবাসা হয়তো যথেষ্ট মনে হয়নি ফিগোর। ২০০০-০১ মৌসুমে বার্সার সঙ্গে দীর্ঘ পাঁচ বছরের সম্পর্কটা চুকিয়েই ফেলেন তিনি। যোগ দেন অন্য কোনো ক্লাব নয়, চিরশত্রু রিয়ালে! শুধু রিয়াল-বার্সা বলেই নয়, ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত ট্রান্সফার এটি। ছয় কোটি এক লাখ ডলার ট্রান্সফার ফি ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ট্রান্সফারের একটিও বটে। বার্সেলোনা সমর্থকদের কাছে সেই থেকে পর্তুগিজ তারকা চিরদিনের বিশ্বাসঘাতক। ২০০২-০৩ মৌসুমে এল ক্লাসিকো খেলতে ন্যু ক্যাম্পে ফিরলে ফিগোকে বিরূপ অভ্যর্থনা জানানো হয়। একসময়ের ভালোবাসার খেলোয়াড়কেই সমর্থকেরা ঘৃণা উগরে দিয়েছিলেন। তাঁর জন্য রীতিমতো পুলিশি পাহারার ব্যবস্থা করতে হয়েছিল। ম্যাচ চলার সময় কর্নার, ফ্রি-কিক নেওয়ার সময় ফিগোর উদ্দেশ করে গ্যালারি থেকে মুদ্রা, গলফ বলদ, এমনকি শুয়োরের একটা কাটা মুণ্ডুও ছুড়ে মারা হয়েছিল! সঙ্গে উপরি হিসেবে দুয়োধ্বনি তো ছিলই। ফিগো কিন্তু রিয়ালের জার্সিতে বেশ সফল হন। ১৬৪ ম্যাচে গোল করেছেন ৩৬টি। রিয়ালের দুটি লা লিগা ও চ্যাম্পিয়নস লিগ জিততে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

ফিগোর মতো এখন মেসিও ক্লাব ছাড়েন কি না, মৌসুম শেষেই বোঝা যাবে।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন