বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

ফিফার এমন প্রস্তাবের মূল কারণ কী
ফিফার মূল যুক্তি হচ্ছে তাদের আয় বাড়বে। আর বাড়তি সেই আয় আফ্রিকা, এশিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকার ফেডারেশনগুলোর মধ্যে ভাগ করে দেওয়া যাবে। বিত্তবান ইউরোপিয়ান লিগগুলোর চেয়ে ফিফার তহবিলের ওপর অনেকটাই বেশি নির্ভরশীল এ অঞ্চলের ফুটবল।

এ ছাড়া ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ‘ফুটবলকে সত্যিকার অর্থে বৈশ্বিক’ করে তুলতে চান এবং ছোট দলগুলোর জন্য টুর্নামেন্টটি আরও উন্মুক্ত করতে চান। এ কারণেই ২০২৬ সাল থেকে বিশ্বকাপ ৪৮ দলের করতে যাচ্ছে ফিফা। ইউরোপ আর দক্ষিণ আমেরিকার বাইরে এখন পর্যন্ত কোনো দেশ বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলতে পারেনি। আগামী বছরের বিশ্বকাপ হবে কাতারে। এর আগের ২১টি বিশ্বকাপের ১৬টিই আয়োজন করেছেন উয়েফা ও কনমেবলের সদস্যদেশগুলো। ইনফান্তিনো শুধু বেশি বিশ্বকাপই চান না, বেশি যৌথ আয়োজকও চান।

কোন ফেডারেশনগুলো সমর্থন দিচ্ছে
ফিফার পরিকল্পনায় গত মাসে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে আফ্রিকার ফুটবল কনফেডারেশন। উত্তর ও মধ্য আমেরিকা অঞ্চলের দেশগুলোর ফেডারেশন আর এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন বলেছে, এ পরিকল্পনা নিয়ে তাদের কোনো সমস্যা নেই। ওশেনিয়া অঞ্চলের মতামতও একই।

আগামী বছর কাতার বিশ্বকাপে জায়গা পেয়েছে আফ্রিকার মাত্র পাঁচটি দেশ। বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব উতরাতে না পারা আফ্রিকার দেশ আইভরিকোস্টের কোচ প্যাট্রিক বুমেলে তো বলেই ফেলেছেন, ‘ফিফা আফ্রিকার ফুটবলকে মেরে ফেলছে।’ কনকাকাফের কর্মকর্তারা গত সেপ্টেম্বরে বলেছেন, ফিফাকে তাঁরা পুরুষ ও নারী এবং যুব ফুটবলে আন্তর্জাতিক ম্যাচ বাড়ানোর প্রস্তাব দেবেন। এতে বৈশ্বিকভাবে আরও ভারসাম্যপূর্ণ কাঠামো গঠিত হবে।

default-image

দুই বছর পরপর বিশ্বকাপ অন্য টুর্নামেন্টে কী প্রভাব ফেলবে
ফিফার বৈশ্বিক উন্নয়ন বিভাগের প্রধান আর্সেন ওয়েঙ্গার পরামর্শ দিয়েছেন প্রতিবছরই অন্তত একটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজন করার। বিশ্বকাপের পাশাপাশি থাকবে মহাদেশীয় টুর্নামেন্টগুলো। এই যেমন ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ ও কোপা আমেরিকা। অক্টোবর বা অক্টোবর ও মার্চে বাছাইপর্বের ম্যাচগুলো আয়োজন করলে প্রতিবছর অন্তত একটি করে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের সময় পাওয়া যাবে বলেই মনে করেন ওয়েঙ্গার। কিন্তু ছেলেদের আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট বেশি বেশি আয়োজন করলে মেয়েদের ফুটবল থেকে মনোযোগটা সরে যেতে পারে বলে মনে করেন অনেকেই।

ফুটবলারদের ওপর প্রভাব
এভাবে বেশি বেশি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজন করলে ফুটবলারদের ওপর তীব্র চাপ তৈরি হবে, এমন যুক্তি মানতে নারাজ ওয়েঙ্গার। তাঁর কথা, দেশের হয়ে গ্রীষ্মের টুর্নামেন্ট খেলার পর বিশ্রাম নেওয়ার জন্য কমপক্ষে ২৫ দিন সময় পাবেন খেলোয়াড়েরা।

ফিফার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার সুনির্দিষ্ট সময় এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। ঐকমত্যের ভিত্তিতে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সূচি নির্ধারণ করা আছে এখন। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার আগে এ বিষয়গুলো পরিবর্ধন-পরিমার্জন করতে হবে।
ম্যানচেস্টার সিটির বেলজিয়ান তারকা কেভিন ডি ব্রুইনা অবশ্য একবার বলেছেন, ‘দুই বছর পরপর বিশ্বকাপ আয়োজনের পরিকল্পনাটা খারাপ নয়।’ তবে মৌসুম শেষে খেলোয়াড়দের পর্যাপ্ত বিশ্রাম দেওয়ার পক্ষে তিনি।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন