ম্যারাডোনা ও মেসি যখন গুরু–শিষ্য। ২০১০ বিশ্বকাপে
ম্যারাডোনা ও মেসি যখন গুরু–শিষ্য। ২০১০ বিশ্বকাপেছবি: এএফপি

ধারাটাই এমন। বর্তমানের সেরাদের সঙ্গে তুলনা চলে অতীতের সেরাদের। সেই ধারা মেনেই পেলে-ম্যারাডোনাদের সঙ্গে এখনো তুলনা চলে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো-লিওনেল মেসিদের। কিংবা তাঁদের কোনো বৈশিষ্ট্য খুঁজে পাওয়া যায় কি না—সেসব সুলুকসন্ধান চলে। ডিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যুর পর এমন তুলনার কথা উঠে আসছে নতুন করে।

জর্জ জেসুসের কথা মেসি–ভক্তদের মনে ঝড় তুলতে পারে। ম্যারাডোনাকে সর্বকালের সেরা হিসেবে মানেন বেনফিকার এই কোচ। আর্জেন্টাইন কিংবদন্তির ফুটবলের দরদ, আবেগ ও ভালোবাসার কখনো কোনো কমতি ছিল না। ঠিক এ জায়গাতেই মেসি-রোনালদোর মধ্যে পার্থক্য খুঁজে পাচ্ছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সাবেক ক্লাব স্পোর্তিং লিসবনের সাবেক এই কোচ। জেসুসের মতে, ফুটবলের প্রতি ম্যারাডোনার যে ‘প্যাশন’ তা রোনালদোর মধ্যে ‘কিছুটা আছে’ কিন্তু মেসির মধ্যে তাঁর ছিটেফোঁটাও ‘নেই’।

বিজ্ঞাপন
এখন বিশ্বসেরাদের মধ্যে রোনালদোর কিছুটা আছে (ম্যারাডোনা যেমন ছিলেন), মেসির কিছুই নেই। তার ফুটবলের প্রতি আবেগটা নেই।
জর্জ জেসুস, বেনফিকার কোচ

মেসি-রোনালদো গত এক দশকের বেশি সময় ধরে বিশ্বসেরা। বয়স বাড়লেও খেলার ধার তেমন পাল্টায়নি। পেলে-ম্যারাডোনা-ক্রুইফদের সর্বকালের সেরার কাতারে এর মধ্যেই নাম লিখিয়েছেন দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। স্পোর্তিংয়ের বয়সভিত্তিক দল থেকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ মাতিয়ে এখন জুভেন্টাসে আছেন রোনালদো। মেসি বের হয়েছেন বার্সার ফুটবল খামার ‘লা মাসিয়া’ থেকে, বাকিটা ইতিহাস গড়ে চলছেন বার্সেলোনার জার্সিতে। মাঠে দুই তারকাই ম্যারাডোনার মতো সাফল্য অর্জনের দাবি তুলতে পারেন। যদিও বিশ্বকাপটা এখনো দুজনের জন্য ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছে।

default-image

জেসুস মনে করেন, ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ম্যারাডোনা তাঁর দেশকে যেভাবে চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন, সেই বিচারে বর্তমানের অনেক তারকাই আর্জেন্টাইন কিংবদন্তির চেয়ে পিছিয়ে। ম্যারাডোনার ব্যক্তিত্ব, আবেগ, স্পষ্টবাদী আচরণ—এসব বিষয় কেউ টপকে যেতে পারেনি বলেই মনে করেন এই পর্তুগিজ কোচ। সংবাদমাধ্যমকে তাঁর ভাষ্য, ‘এখন বিশ্বসেরাদের মধ্যে রোনালদোর কিছুটা আছে (ম্যারাডোনা যেমন ছিলেন), মেসির কিছুই নেই। তার ফুটবলের প্রতি আবেগটা নেই।’

জেসুস কোনো রাখঢাক না রেখেই বলেন, নাপোলি ও আর্জেন্টিনার হয়ে ম্যারাডোনার যা অর্জন, তাতে তিনিই সর্বকালের সেরা।

বিষয়টি বুঝিয়ে বললেন জেসুস, ‘মেসি অসাধারণ খেলোয়াড়। কিন্তু আমরা জীবন এবং এ নিয়ে নানা অনুভূতির কথা বলছি, ফুটবলের প্রতি আবেগ ও ভালোবাসার কথা বলছি। ম্যারাডোনা এ বিষয়ে যে কারও চেয়ে এগিয়ে।’

default-image

জেসুস কোনো রাখঢাক না রেখেই বলেন, নাপোলি ও আর্জেন্টিনার হয়ে ম্যারাডোনার যা অর্জন, তাতে তিনিই সর্বকালের সেরা। পেলের প্রসঙ্গ টেনে জেসুসের ব্যাখ্যা, ‘পেলে এখনো বেঁচে আছেন। তার সঙ্গে ম্যারাডোনাই সর্বকালের সেরা। তবে ম্যারাডোনা এগিয়ে। সেটি শুধু অমিত প্রতিভার জন্য নয়, খেলাটার প্রতি তার ভীষণ আবেগ ছিল। ফুটবলার হতেই তার জন্ম। সবকিছু নিয়েই সে জন্মেছিল। বিষয়টি এমন নয় যে, তাকে গড়েপিটে ফুটবলার বানানো হয়েছে। সে ওভাবেই জন্মেছে। কিন্তু বলের প্রতি ভালোবাসা কখনো কমেনি।’

গত বুধবার ৬০ বছর বয়সে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান ম্যারাডোনা। এরপর থেকেই শোকতাপে পুড়ছে বিশ্ব। আর্জেন্টাইন কিংবদন্তিকে হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা জানানোর ঢল এখনো থামেনি। বার্সেলোনার সর্বশেষ ম্যাচে ম্যারাডোনার মতোই গোল করে তাঁর নিওয়েলস ওল্ড বয়েজের জার্সি দেখিয়ে পূর্বসূরিকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন মেসি।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন