এভাবেই ফাঁকা মাঠে খেলে যাচ্ছে ক্লাবগুলো।
এভাবেই ফাঁকা মাঠে খেলে যাচ্ছে ক্লাবগুলো।ছবি : রয়টার্স

গত মৌসুমের কথা চিন্তা করুন। শোনা যাচ্ছিল, রাইট উইংয়ের সমস্যা সমাধান করতে বরুসিয়া ডর্টমুন্ড থেকে ইংলিশ উইঙ্গার জেডন সাঞ্চোকে দলে আনবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ওদিকে নতুন এক স্ট্রাইকারের প্রতি আগ্রহী ছিল ম্যানচেস্টার সিটি, কারণ আগুয়েরোর বয়স বেড়ে যাচ্ছে, গাব্রিয়েল জেসুসেরও সে রকম ধার নেই। গার্দিওলার দলের স্ট্রাইক-ভার সামলাতে আনা হতে পারে লাওতারো মার্তিনেজকে, এমনটাই শোনা যাচ্ছিল। লিভারপুল আবার এক কাঠি সরেস যেন। গতবারের প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়নরা নিজেদের নতুন পৃষ্ঠপোষক নাইকির সহায়তার পিএসজি থেকে ফরাসি স্ট্রাইকার কিলিয়ান এমবাপ্পেকে আনতে পারবে বলে জোর গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিন ফুটবলপাড়ায়। আসতে পারেন জার্মান স্ট্রাইকার টিমো ভেরনার, সেটাও শোনা যাচ্ছিল।

শেষমেশ কোনোটাই হয়নি। এখনো রাশফোর্ড-গ্রিনউড-জেমসদের দিয়েই রাইট উইংয়ের কাজ চালাচ্ছেন ইউনাইটেডের কোচ ওলে গুনার সুলশার, এমবাপ্পে-ভেরনারকে না পেয়ে উলভস থেকে দিওগো জোতাকে দলে এনেছে লিভারপুল। সিটি আবার কাউকেই কেনেনি। টটেনহাম ওদিকে আগেভাগেই ব্যাংকের কাছ থেকে বিশাল পরিমাণ ধার নিয়ে রেখেছিল। কারণ আর কিছুই না, করোনাভাইরাস। এই করোনার কারণে নিজেদের আয়-ব্যয়ের ব্যাপারে আরও বেশি সতর্ক হতে হয়েছে প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলোকে। ক্লাবগুলো যে করোনার কারণে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেটারই এক চিত্র ফুটে উঠেছে সম্প্রতি।

বিজ্ঞাপন
default-image

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের বার্ষিক আয় এক ধাক্কায় কমেছে ৯ শতাংশ। ২০১৯-২০ মৌসুমের অর্থনৈতিক রিপোর্টে বের হয়ে এসেছে সেটা। হুট করে এই আয় কেন কমেছে, সেটার কারণ বের করার জন্য বেশি চিন্তাভাবনা করতে হয় না। আয়ের দিক দিয়ে প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলোর এমন দুরবস্থার কারণ আর কিছুই না—করোনাভাইরাস।

২০২০ সালের জুলাই মাসের শেষ পর্যন্ত হিসাব-নিকাশ করা হয়েছে এই রিপোর্টে। তার কয়েক মাস আগে থেকেই করোনার প্রকোপ বিভিন্ন দেশে বেশ ভালোভাবেই অনুভূত হয়েছিল। লকডাউন শুরু হয়ে গিয়েছিল দেশে দেশে। খেলা স্থগিত করা হয়েছিল। সবকিছুর প্রভাবই পড়েছে এই রিপোর্টে।

default-image

২০১৯ সালে সর্বমোট আয় যেখানে ৩.৩ বিলিয়ন বা ৩৩০ কোটি পাউন্ড ছিল, ২০২০ সালের জুলাইয়ে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২.৯ বিলিয়ন বা ২৯০ কোটি পাউন্ডে। কমেছে ৪০ কোটি পাউন্ডের মতো। আন্তর্জাতিক সম্প্রচারস্বত্ব বাবদ ২০২০ সালে এসেছে ১৩৫ কোটি পাউন্ডের মতো, মাত্র এক বছর আগেই যার চেয়ে ৫ কোটি পাউন্ড বেশি কামাই করেছিল প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলো। সব মিলিয়ে আর্থিক ক্ষতি ৯ শতাংশের মতো। মার্চ থেকে জুন মাস পর্যন্ত খেলা বন্ধই ছিল। তখন সম্প্রচারকারীদের ক্ষতিপূরণ বাবদ বেশ টাকাপয়সা দিতে হয়েছিল। ক্ষতির কারণ মূলত এটাই।

যদিও ডিসেম্বরের দিকে প্রিমিয়ার লিগ ক্লাবগুলোকে মোট ৫ কোটি পাউন্ড সাহায্য দিয়েছিল, এই করোনার কারণেই।

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন