default-image

বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপ শেষ, টিকিটপ্রত্যাশীদের ভিড় আর নেই। তবে দুপুর গড়াতে না-গড়াতেই বাফুফে ভবনে কাল গণমাধ্যমকর্মীদের ভিড়। বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের ব্যস্ততার শেষ নেই। পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা আসছেন। আসছেন সম্প্রচার স্বত্ব পাওয়া টেলিভিশন চ্যানেলের লোকজন। ক্লাবের কর্মকর্তারাও শুভেচ্ছা জানাতে ফুল নিয়ে উপস্থিত বাফুফে সভাপতির কক্ষে।
ঢাকা, সিলেট—পরশু শেষ হওয়া বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপ ফুটবলের দুই ভেন্যুতেই অজস্র দর্শক হয়েছে। একটুর জন্য শিরোপা হাতছাড়া হয়ে যাওয়াটাও ফুটবলের প্রতি মানুষের ভালোবাসাকে ম্লান করতে পারেনি। এসবই এখন নতুন করে স্বপ্ন দেখাচ্ছে সালাউদ্দিনকে। বেশি দল নিয়ে আরও বড় পরিসরে বঙ্গবন্ধু কাপ আয়োজন করতে চান তিনি।
টুর্নামেন্ট সফলভাবে শেষ করতে পারার তৃপ্তি ছুঁয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের ফুটবল কিংবদন্তিকে, ‘বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপের সফল আয়োজন করতে পেরেছি বলে ভালোই লাগছে। সিলেট ভেন্যু নিয়ে শুরুতে একটু ভয় পেয়েছিলাম। কিন্তু সিলেটের গ্যালারিতে ছিল উপচে পড়া দর্শক।’ ভবিষ্যতে সিলেটে আরও ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা আছে তাঁর। বাফুফে সভাপতি স্বীকার না করে পারেননি যে প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের পরাজয়ে তিনি হতাশ হয়ে পড়েছিলেন, তবে যেভাবে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়ে ফাইনালে খেলেছে তাতে তিনি মুগ্ধ।
বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের দর্শক দেখে আপ্লুত সালাউদ্দিন বারবার ফিরে যাচ্ছিলেন নিজের খেলোয়াড়ি জীবনে, ‘বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড ম্যাচে আমার মনে পড়ে যাচ্ছিল সেই সব দিনের কথা। মনে হচ্ছিল ২৫-৩০ বছর আগে আমার খেলার দিনে ফিরে গেছি।’
ফাইনালের শুরুতেই হেমন্তকে হারানোয় হতাশ হয়ে পড়েন তিনি, ‘যখন অর্থমন্ত্রীকে সঙ্গে করে আমরা খেলোয়াড়দের সঙ্গে হাত মেলাতে যাই তখনই দুঃসংবাদটা শুনি। আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ি। কারণ মালয়েশিয়া অনেক শক্তিশালী দল।’ ৭ মিনিটের মাথায় চোট নিয়ে মাঠ ছাড়েন উইঙ্গার জাহিদ, যেটি তাঁর মন ভেঙে দেয় আরও, ‘বার্সেলোনায় মেসি আর ইনিয়েস্তা না থাকলে যা হয়, বাংলাদেশের তখন ওই অবস্থা। কারণ আমার দলের মেসি ও ইনিয়েস্তা এই দুজন।’ তবে স্কোরলাইন ০-২ হয়ে যাওয়ার পর ম্যাচে ফেরায় কোচের প্রশংসা করেছেন সালাউদ্দিন, ‘ডি ক্রুইফ যেভাবে খেলোয়াড়দের মানসিকভাবে উজ্জীবিত করেছেন, তা অসাধারণ।’
বাংলাদেশ ফাইনালে লড়াই করে হেরেছে বলেই হতাশ নন সালাউদ্দিন, ‘আমরা শুধু চ্যাম্পিয়নই হতে পারিনি। কিন্তু দর্শক মাঠে এসে খেলা উপভোগ করেছেন। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সেমিফাইনালে থাইল্যান্ডের সঙ্গে জেতার পর একজন দর্শকও নড়ছিল না। এটাই ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা। আমি দর্শকদের কাছে কৃতজ্ঞ।’
প্রতিবছরই নিয়মিত বঙ্গবন্ধু কাপের আয়োজন করতে চান বাফুফে সভাপতি, সেটি হতে পারে আরও বড় পরিসরে, ‘এবার ছয়টা দল নিয়ে টুর্নামেন্ট করেছি। ভবিষ্যতে হয়তো ৮টা দল নিয়ে হতে পারে।’ বঙ্গবন্ধু কাপের দর্শক উন্মাদনাকে কাজে লাগিয়ে ফুটবল উন্নয়নের ছক আঁটছেন এখন তিনি।
কাল ভোরেই ডাচ কোচ লোডভিক ডি ক্রুইফের সঙ্গে এক দফা আলোচনা সেরেছেন সালাউদ্দিন। দুপুরে অন্যতম সহসভাপতি তাবিথ আউয়ালকে সঙ্গে নিয়ে আবারও কোচের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপরই কোচের সঙ্গে নতুন করে চুক্তি করার সিদ্ধান্ত হয়। আগামীকাল দেশে ফিরে যাবেন কোচ। ফিরবেন ১৪ মার্চ। এসেই এএফসি অনূর্ধ্ব-২৩ টুর্নামেন্টের জন্য অনুশীলন শুরু করবেন।

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন