বার্সেলোনার রাস্তায় মেসির এই ছবি এঁকেছেন পথচিত্রশিল্পী টিভিবয়। সেখানে লেখা ‘আস্তা সিয়েম্প্রে কমাদান্তে’—চিরকালই কমান্ডার।
বার্সেলোনার রাস্তায় মেসির এই ছবি এঁকেছেন পথচিত্রশিল্পী টিভিবয়। সেখানে লেখা ‘আস্তা সিয়েম্প্রে কমাদান্তে’—চিরকালই কমান্ডার। ছবি: এএফপি

বিশ্বাসঘাতক?

প্রশ্নবোধক চিহৃটা রাখাই যৌক্তিক। লিওনেল মেসি–বার্সেলোনা ইস্যুতে ফুটবলবিশ্ব দুই ভাগে বিভক্ত। কেউ চান মেসি বার্সেলোনা ছেড়ে যাক। কারও চাওয়া আবার মেসি–বার্সা রুপকথার মতো গল্পটা আরও এগিয়ে যাক। কিন্তু আর্জেন্টাইন তারকা বার্সা ছাড়তে বদ্ধপরিকর। এ ক্ষেত্রে গুঞ্জন উঠেছে মেসি তাঁর শৈশবের ক্লাবের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছেন কি না? স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘এল চিরিঙ্গিতো টিভি’ এ নিয়ে টুইটারে চালু করেছে ভোটাভুটি। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৫২, ৪৬৬। এর মধ্যে ৫১.৮ শতাংশ ভোট ‘হ্যাঁ—অর্থাৎ মেসি বার্সার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছেন।

এখানেই শেষ নয়। সংবাদমাধ্যমটির সংবাদকর্মী এদু আগিরেও তেমন মনে করেন। তাঁর মতে, ফুটবল ইতিহাসের জঘন্যতম বিশ্বাসঘাতকতা করছেন মেসি। স্পেনের জনপ্রিয় টিভি শো ‘এল চিরিঙ্গিতো দে হুগোনেস’ অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন আগিরে, ‘আমার মতে মেসি ফুটবল ইতিহাসের জঘন্যতম বিশ্বাসঘাতকতা করছে। বার্সেলোনা সমর্থকদের এটা প্রাপ্য ছিল না। মেসি তাদের ফেলে যেতে চাচ্ছে।’

বিজ্ঞাপন
default-image

বার্সার সঙ্গে মেসির সম্পর্কটা দীর্ঘ দুই দশকের। শৈশবে মেসির গ্রোথ হরমোনের ঘাটতি ছিল, চিকিৎসার খরচ বইতে কোনো আর্জেন্টাইন ক্লাব রাজি ছিল না। সুযোগটা বার্সেলোনা নিয়েছিল। মেসির ইনজেকশনের জন্য মাসে ১ হাজার পাউন্ড লাগত, খরচটা বার্সা দিয়ে গেছে। ১৩ বছর বয়সে বাড়ি তো বটেই, দেশ-মহাদেশ ছেড়ে আসা মেসির দেখভালের জন্য তাঁর বাবা হোর্হে মেসি বার্সায় থেকে যান। তাঁকে বছরে ৪০ হাজার পাউন্ড দিয়ে গেছে বার্সেলোনা। এসব ছিল বার্সার বিনিয়োগ। পরে বোঝা গেল, এর চেয়ে লাভজনক বিনিয়োগ আর হয় না। দিন গড়িয়ে চলার সঙ্গে মেসি যেমন ইতিহাসে অন্যতম সেরা হয়েছেন, তাঁর হাত ধরে বার্সাও শিরোপা জিতেছে থরে–বিথরে।

কিন্তু এই মৌসুমের শুরু থেকেই বার্সার বর্তমান বোর্ডের একের পর এক হঠকারী সিদ্ধান্তে মেসির বিরক্তি বোঝা যাচ্ছিল। চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে বার্সার ৮–২ গোলে হারের পর যেন বিস্ফোরণ ঘটে। ওই হারের পর ক্লাব ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন তিনি। কিন্তু বার্সা চুক্তির শর্তবলে তাঁকে ধরে রাখতে মরিয়া। মেসিরও দাবি, শর্তের অধীনে থেকেই তিনি ফ্রি–এজেন্ট হিসেবে যেতে চান। এ নিয়ে মেসির বাবা ও বার্সা আজ বৈঠকে বসেছে। এদিকে মেসির বার্সা ছেড়ে যাওয়ার বিপক্ষে অনেক সমর্থকের মতো আগিরে নিজেও।

বিজ্ঞাপন

মেসির এ মুহূর্তে করণীয় নিয়েও বলেছেন আগিরে, ‘সংবাদ সম্মেলন ডেকে মেসির বলা উচিত “আমি থাকব কারণ এ ক্লাবে আমার স্মৃতি আছে এবং ক্লাবটা আমার কাছে কী তা আমি জানি।” বার্সা যখন ডুবতে বসেছে মেসি তখন সরে যাওয়ার চেস্টা করছে। মেসির এখন বার্সা ছাড়াটা ঠিক হবে না।’

বার্সা এখন মোটেও ভালো সময়ের মধ্যে নেই। বিশাল অঙ্কের ঋণের বোঝা তো আছেই, সঙ্গে ক্লাব সভাপতি জোসেপ মারিয়া বার্তোমেউকে ঘিরে বিতর্কও এন্তার। দলবদলের বাজারে জঘন্যভাবে ব্যর্থ বার্তোমেউ প্রশাসন। দলের প্রয়োজন না বুঝে একের পর এক তারকার পেছনে ছুটেছে, বেশি বেতনে এনেছে তাঁদের। তার প্রভাবে বার্সার দেনা যেমন বেড়েছে, মাঠে তেমনি দল হয়ে পড়েছে ভারসাম্যহীন। এরই পরিণতি হিসেবে গেল মৌসুমে কিছুই জিততে পারেনি বার্সা। এসব মিলিয়ে নানা রকম ক্ষোভের বিস্ফোরণ হিসেবেই ক্লাব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন মেসি।

বিজ্ঞাপন

তবে আর্জেন্টাইন তারকা হয়তো শেষ পর্যন্ত থেকে যাবেন—এমন একটা আশার সলতে টিমটিম করে জ্বলছিল বার্সেলোনায়। কিন্তু সেই সলতেটা গত সোমবার এক ফুৎকারে নিভে গেছে যেন। অনুশীলন শুরুর আগে সোমবার ফিটনেস পরীক্ষা ছিল বার্সা খেলোয়াড়দের। ছিল কোভিড-১৯ পরীক্ষাও। এর কোনোটিই করাননি মেসি। যাননি অনুশীলনেও। অর্থাৎ বার্সেলোনায় থাকার কোনো ইচ্ছাই আর তাঁর অবশিষ্ট নেই।

পিসিআর পরীক্ষা করানোর তারিখ আগেই নির্দিষ্ট করা ছিল। সেই দিন আসার আগেই মেসি বার্সেলোনা কর্তৃপক্ষকে একটি প্রস্তাব দিয়েছিলেন—তাঁর ক্লাব ছাড়ার বিষয়টি যাতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয় তা নিয়ে বার্সার আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চান মেসির আইনজীবীরা। কিন্তু বার্সেলোনা মেসির সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়। এরপরই মেসি করোনা পরীক্ষা ও দলের অনুশীলনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

মন্তব্য পড়ুন 0