বিলাসবহুল গাড়ির প্রতি আলাদা টান আছে করিম বেনজেমার। নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে মাঝে–মধ্যেই গাড়ির ছবি পোস্ট করে থাকেন রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরাসি তারকা।
বিলাসবহুল গাড়ির প্রতি আলাদা টান আছে করিম বেনজেমার। নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে মাঝে–মধ্যেই গাড়ির ছবি পোস্ট করে থাকেন রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরাসি তারকা।ছবি: ইনস্টাগ্রাম

তারকা ফুটবলার মানেই বিলাসী জীবন। ব্যতিক্রম থাকতে পারে খুব সামান্যই। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, লিওনেল মেসি, জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচদের জীবনে আর যা–ই হোক বিলাস-ব্যসনের অভাব নেই।

তাদের এই বিলাসী জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ বোধ হয় গাড়ি। সম্ভবত এমন কোনো ফুটবলার খুঁজে পাওয়া যাবে না, যাঁর গাড়ির প্রতি আগ্রহ নেই। আর তারকা হলে তো কথাই নেই। অভিজাত ও বিলাসবহুল গাড়ির পেছনে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা খরচ করে থাকেন তারকা ফুটবলাররা।

রিয়াল মাদ্রিদের ফরাসি স্ট্রাইকার করিম বেনজেমার কথাই ধরুন, তাঁর গ্যারেজে যত গাড়ি আছে, সেসবের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৬০ লাখ পাউন্ড (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭০৩ কোটি ৭১ লাখ টাকা)।

বিজ্ঞাপন

রিয়াল মাদ্রিদ তারকা বিশ্বের নামজাদা স্ট্রাইকারদের একজন। মাদ্রিদের ক্লাবটিতে সাপ্তাহিক ২ লাখ ৯৪ হাজার পাউন্ড পারিশ্রমিক পেয়ে থাকেন তিনি। এ ছাড়া নানা রকম স্পনসর ও এনডোর্সমেন্ট থেকে বেশ বড় অঙ্কের অর্থ উপার্জন করে থাকেন ফরাসি স্ট্রাইকার।

কথায় যেমন আছে ‘শখের তোলা আশি টাকা’, তেমনি বেনজেমাও গাড়ির প্রতি তাঁর শখ মেটাতে প্রচুর টাকা খরচ করে থাকেন। এ বছরের শুরুর দিকে নিজের গাড়িবহরে যোগ করেছেন আড়াই মিলিয়ন পাউন্ডের বুগাত্তি চিরন। ফ্রান্সের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বুগাত্তি বিলাসবহুল স্পোর্টস কার বানানোর জন্য খ্যাতি কুড়িয়েছে। তাদের এই দুই আসনের চিরন গাড়িটি বেনজেমার বিশেষ পছন্দের।

default-image

বেনজেমার সম্ভবত বুগাত্তির প্রতিই আলাদা ভালোবাসা আছে। যেমনটা আছে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোরও। বুগাত্তির বানানো গাড়ি পর্তুগিজ তারকার ভীষণ পছন্দের। সে যা হোক, বেনজেমার সংগ্রহশালায় বিরল বুগাত্তি ভেরন মডেলের গাড়িও রয়েছে। বিবিসির টিভি অনুষ্ঠান ‘টপ গিয়ার’-এ ২০০০ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে এক দশকের সেরা গাড়ির মর্যাদা লাভ করেছিল এই বুগাত্তি ভেরন।

দেড় মিলিয়ন পাউন্ড দামের এই গাড়ির ঘণ্টায় সর্বোচ্চ গতিসীমা ৪০৭ কিলোমিটার। এ ছাড়া ইতালিয়ান গাড়ি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ফেরারির ৪৫৮ ইতালিয়া মডেলের স্পোর্টস কারও রয়েছে বেনজেমার গ্যারেজে। এই গাড়িটি ফেরারির এফ ৪৩০ মডেলের বদলি হিসেবে বাজারে ছাড়া হয়েছিল, সিসি ৪,৪৯৭।

সম্প্রতি নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে বুগাত্তি চিরন গাড়িটির একটি ছবি পোস্ট করেন ৩৩ বছর বয়সী এ স্ট্রাইকার। পারফরম্যান্সে বুগাত্তি চিরন কিন্তু ভেরনকে ইতিমধ্যেই টেক্কা দিয়েছে। অন্তত গতি বিচারে।

default-image

ঘণ্টায় ৪২০ কিলোমিটার বেগে ছুটতে পারে বুগাত্তি চিরন। ৯৯ কিলোমিটার গতি তুলতে পারে মাত্র আড়াই সেকেন্ডে। ১৩.৬ সেকেন্ডে ওঠে ২৯৯ কিলোমিটার! মার্সিডিজ বেঞ্জ এসএলআর মডেলের গাড়িও আছে বেনজেমার গ্যারেজে।

সাড়ে সাত লাখ পাউন্ড দামের এই গাড়ির স্টিয়ারিং বিশেষভাবে বানানো। ৯৬ কিলোমিটার গতি ওঠে মাত্র সাড়ে ৩ সেকেন্ডে। ২০১৭ সালে অডি আরএস ৬ মডেলের গাড়ি নিয়ে দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়ার পর নিজের এই মার্সিডিজ গাড়ির একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন বেনজেমা।

default-image

ফেরারির সঙ্গে ফুটবলারদের কেমন একটা ‘ইয়ে’ আছে। মানে, বেশির ভাগ তারকা ফুটবলারই ফেরারির পাগল। গ্যারেজে আর কিছু না থাকুক, ফেরারি থাকবেই। বেনজেমারও আছে। ৪৫৮ স্পাইডার মডেলের গাড়িটি নিয়ে রাতবিরাতে মাদ্রিদের রাস্তায় ছুটে থাকেন বেনজেমা। ২ লাখ পাউন্ড দামের এই গাড়ি মেসুত ওজিল, থিও ওয়ালকট ও ফ্র্যাঙ্ক ল্যাম্পার্ডের গ্যারেজেও আছে।

এদিকে জার্মান গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অডির সঙ্গে রিয়াল মাদ্রিদের স্পনসর চুক্তি থাকায় লাভ হয়েছে ক্লাবটির খেলোয়াড়দের। বেনজেমা চাইলে অডির যেকোনো গাড়ি গ্যারেজে নিয়ে আসতে পারেন। অডির দুটো গাড়ি শোভা পাচ্ছে বেনজেমার বাসায়। ৯০ হাজার পাউন্ডের অডি আরএস ৬ এবং ৪০ হাজার পাউন্ডের এসইউভি মডেলের কিউ৫।

বিজ্ঞাপন

বুগাত্তি, ফেরারি, অডি ও মার্সিডিজ থাকলে রোলস রয়েস কেন নয়! বিলাসবহুল গাড়ি বানানোয় ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠানটির জুড়ি মেলা ভার। পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘হার্ডটপ’ গাড়ির বডি অনুসরণ করে বানানো রোলস রয়েস রেইথ মডেলের গাড়িটি আড়াই লাখ পাউন্ডে কিনেছেন বেনজেমা। অন্যান্য কনভার্টিবেলের মতো রেইথের সব জানালা ও ছাদ নামিয়ে ফেলা যায়। এখন যেকেউ প্রশ্ন তুলতে পারেন, এত কিছু যেহেতু আছে, তাহলে ল্যাম্বরগিনি কেন নয়?

default-image

আছে আছে, সেটাও আছে। ল্যাম্বরগিনি গ্যালার্দোর নাম নিশ্চয়ই শুনেছেন? ইতালিয়ান এই স্পোর্টস কার প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ২০০৩ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে ১৪,০২২টি গ্যালার্দো মডেলের গাড়ি বানিয়েছিল। এর মধ্যে একটি বেনজেমার। ভি১০ ইঞ্জিনের এই গাড়ির নামকরণ করা হয়েছে স্প্যানিশ বুলফাইটিংয়ে এক জাতের ষাঁড়ের নাম অনুসারে। ল্যাম্বরগিনির ইতিহাসে এই মডেলের গাড়িই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে।

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক স্ট্রাইকার ওয়েইন রুনির একসময় এই মডেলের গাড়ি ছিল। ম্যানচেস্টার সিটিতে থাকতে কিনেছিলেন ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার রবিনিও-ও। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩২৫ কিলোমিটার বেগে ছুটতে পারে ল্যাম্বরগিনি গ্যালার্দো। ইঞ্জিনের স্থায়িত্ব, মডেল ও অন্যান্য সুবিধা বিচারে ল্যাম্বরগিনি গ্যালার্দোকে বলা হয় ইতালিয়ানদের হাতে বানানো সেরা উপহার।

default-image

এ ছাড়া মার্সিডিজ এএমজি ক্লাসি জি৬৩ মডেলের এসইউভি মডেলের জিপ রয়েছে বেনজেমার। গাড়ি বিশেষজ্ঞরা বলে থাকেন, এসইউভির জগতে এটি অন্যতম সেরা। বেনজেমা যে প্রথম বুগাত্তি ভেরন কিনেছিলেন সেটি ছিল ‘কালেক্টরস আইটেম’। দেড় মিলিয়ন পাউন্ডের এই গাড়ি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪৩১ কিলোমিটার গতিতে ছুটতে পারে। বানানো হয়েছিল মাত্র ৪৫০টি।

বেনজেমার সংগ্রহশালা দেখে দীর্ঘশ্বাস বের হচ্ছে? হতেই পারে, তিনি যে বেনজেমা!

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন