পিএসজি কোচ টমাস টুখেল
পিএসজি কোচ টমাস টুখেলছবি: টুইটার

পিএসজি কোচ টমাস টুখেলের চাকরি সব সময়ই যায় যায়। দল কোনো ম্যাচে খারাপ খেললে পিএসজিতে টুখেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা ওঠে। জার্মান কোচ এর সঙ্গে ভালোই মানিয়ে নিয়েছেন।

বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের কোচ থাকতে অবশ্য মাঠের বাইরের এক বিষয়ে গুবলেট পাকিয়ে ফেলেছিলেন টুখেল। গুঞ্জন আছে, সেই বোকামির খেসারত হিসেবে বছরখানেক পর চাকরি যায় টুখেলের।

বিজ্ঞাপন
default-image

টুখেলের সেই ঘটনা এখন হঠাৎ করেই আলোচনায়। ফরাসি ফুটবল সাময়িকী ‘ফ্রান্স ফুটবল’ জানিয়েছে, নেইমারদের এই কোচের মুঠোফোনে তাঁর ক্লাব-পরিচালকের নম্বর নেই। বিষয়টি অবশ্যই আশ্চর্য করে দেওয়ার মতো।

পিএসজির পরিচালক লিওনার্দো আর কোচ টুখেল। ক্লাবে যাঁর অধীনে টুখেল চাকরি করেন, তাঁর মুঠোফোন নম্বর রাখবেন না, এ হয় নাকি! টুখেলের ক্ষেত্রে ঠিক এমনটাই হয়েছে।

সেটি তাঁর পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে। অনেকটাই সেই বাংলা প্রবাদটির মতো, টুখেল ভুল করে ‘চুন খেয়ে মুখ পুড়িয়ে’ নেওয়ায় ‘দই দেখে’ এখন তাঁর ‘ভয় লাগে’!

খুলেই বলা যাক। ২০১৫ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত ডর্টমুন্ডের কোচ ছিলেন টুখেল। তখন ডর্টমুন্ডের পরিচালক মাইকেল জোর্কের সমালোচনা করে একদিন মুঠোফোনে একটি খুদেবার্তা লেখেন তিনি।

এই বার্তা তিনি পাঠাতে চেয়েছিলেন ওলাফ মেইনকিংকে—টুখেলের ‘ব্যক্তিগত ম্যানেজার’–এর দায়িত্বে ছিলেন তিনি। টুখেল ভেবে নিয়েছিলেন বার্তাটি তিনি মেইনকিংকেই পাঠিয়েছেন। ভুল। বেখেয়ালে স্বয়ং জোর্কের নম্বরেই পাঠান সেই খুদেবার্তা।

বিজ্ঞাপন

সেই ঘটনার প্রায় বছরখানেক পর ডর্টমুন্ড কোচের চাকরি হারান টুখেল। দুই বছর আগে তিনি দায়িত্ব নেন পিএসজিতে নেইমার-এমবাপ্পেদের। ডর্টমুন্ডে টুখেল নিজের ভুল থেকে পাওয়া ‘শিক্ষা’টা কাজে লাগিয়েছেন পিএসজিতে।

সাবধান থাকতে তিনি পিএসজি পরিচালকের ফোন নম্বর রাখেননি নিজের মুঠোফোনে। পাছে আবার ভুল করে এমন এক বার্তা পাঠাবেন যে যায় যায় চাকরি সত্যিই চলে যাবে! একই ভুলের পুনরাবৃত্তি ঘটতে না দিতে টুখেলের এই অতি সাবধানতার খবর জানিয়েছে ফ্রান্স ফুটবল।

ফরাসি সংবাদমাধ্যম ইঙ্গিত দিয়েছে, লিওনার্দো সঙ্গে সম্পর্কও তেমন ভালো নয় টুখেলের। পিএসজি পরিচালক নাকি টুখেলের বিকল্প খুঁজছেন।

গত অক্টোবরের শুরুতে টুখেলের সঙ্গে স্কোয়াডের শক্তি নিয়ে যুক্তিতর্কও হয় লিওনার্দোর। নেইমারদের কোচের যুক্তি ছিল, আগের স্কোয়াডের চেয়ে এই স্কোয়াড তুলনামূলক কম শক্তিশালী।

লিওনার্দো অবশ্য টুখেলের কথার সঙ্গে একমত হতে পারেননি, ‘কথাটা আমাদের পছন্দ হয়নি। ব্যক্তিগতভাবে আমার ভালো লাগেনি...। দেখা যাক, নিজেদের মধ্যে আমরা কী করতে পারি। ক্লাব তার অবস্থানে পরিষ্কার। কেউ এখানে সুখী না হলে তার সঙ্গে কথা বলা হবে।’

মন্তব্য পড়ুন 0