বিজ্ঞাপন

যেকোনো বার্সেলোনা–সমর্থককে জিজ্ঞাসা করলেই জানা যায়, বার্সার দল কোন কোন পজিশনে দুর্বল। কোন কোন জায়গায় আনা লাগবে নতুন খেলোয়াড়। রক্ষণভাগের খোলনলচে বদলে ফেলা তো বড্ড জরুরি। যে রক্ষণভাগ চ্যাম্পিয়নস লিগে রোমা, লিভারপুল কিংবা পিএসজির বিপক্ষে ডুবিয়েছে বার্সেলোনাকে, এখনো ঘুরেফিরে সেই রক্ষণই খেলায় কাতালানরা। দরকার একজন মিডফিল্ডার, যিনি সের্হিও বুসকেতস কিংবা ডি ইয়ং-পেদ্রিদের পাশে থেকে তাঁদের নিশ্চিন্তে জাদুর ছড়ি ঘোরানোর সুযোগ করে দিতে পারেন। লুইস সুয়ারেজ চলে যাওয়ার পর দরকার একজন বিশ্বমানের স্ট্রাইকারের, যে অভাব মার্টিন ব্রাথওয়াইটের অতটা পূরণ করতে পারেননি।

default-image

এসব জায়গায় নতুন খেলোয়াড় আনার টাকা কোথায় বার্সেলোনার? তাই দলটা এমন খেলোয়াড় এনে শক্তি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে, যাঁদের আনতে দলবদল ফি বাবদ এক কানাকড়িও খরচ হবে না। আগামী জুনে অনেক খেলোয়াড়েরই চুক্তি শেষ হচ্ছে, যাঁরা নিজ নিজ ক্লাবের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করছেন না। যার ফলে চুক্তি শেষের পরেই তাঁরা বিনা মূল্যে দলবদল করতে পারবেন। এমন খেলোয়াড়দের মধ্যেই চারজনকে মনে ধরেছে বার্সেলোনার। তাঁরা হলেন ম্যানচেস্টার সিটির স্প্যানিশ ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়া ও আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার সের্হিও আগুয়েরো, লিভারপুলের ডাচ্‌ মিডফিল্ডার জর্জিনিও ভাইনালডম ও অলিম্পিক লিওঁর স্ট্রাইকার মেমফিস ডিপাই।

default-image

গার্সিয়াকে নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। ম্যানচেস্টার সিটির এই ডিফেন্ডার এককালে বার্সেলোনার বিখ্যাত একাডেমি ‘লা মাসিয়া’তেই খেলতেন। মূল দলে জায়গা পাবেন না বুঝেই ছেড়েছিলেন ক্লাব। ঘরের ছেলে পরের হওয়ার পরেই তাঁর দাম বুঝেছে বার্সা। রক্ষণভাগের শক্তি বাড়ানোর জন্য তাই গার্সিয়াকে এক বছর ধরে নজরে রেখেছে বার্সেলোনা। গার্সিয়াও আঁতুড়ঘরে ফেরার জন্য হয়েছে ব্যাকুল। বার্সেলোনা যেন তাঁকে সহজেই বিনা মূল্যে নিতে পারে এ জন্য সিটির সঙ্গে চুক্তি বাড়াননি। বিশ্বস্ত সূত্রের খবর, বার্সেলোনার সঙ্গে গার্সিয়ার চুক্তিটা হয়েই গেছে। আনুষ্ঠানিকভাবে সিটির সঙ্গে তাঁর চুক্তি শেষ হলে চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালের পরেই নতুন খেলোয়াড় হিসেবে গার্সিয়ার সঙ্গে ভক্তদের পরিচয় করিয়ে দেবে বার্সেলোনা।

একই অবস্থা আগুয়েরোরও। এর মধ্যেই মেডিকেল পরীক্ষা শেষ করে, চুক্তিসংক্রান্ত সমঝোতায় পৌঁছে আর্জেন্টাইন এই স্ট্রাইকার বার্সায় যোগ দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। অপেক্ষা শুধু চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল শেষ হওয়ার। ২০২৩ সাল পর্যন্ত এই আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকারের সঙ্গে চুক্তি করতে যাচ্ছে বার্সা। আরও তিনটা ক্লাব আগুয়েরোকে চাইলেও মেসির এই আর্জেন্টাইন সতীর্থ বার্সা ছাড়া আর কোথাও যেতে চাননি। সেদিন সিটির কোচ পেপ গার্দিওলা নিজেই বিবিসিকে জানিয়েছেন আগুয়েরোর বার্সায় যোগ দেওয়ার খবর, ‘ও হয়তো এমন এক ক্লাবে যোগ দিতে চাইছে, যে ক্লাবটা আমার হৃদয়ের—বার্সেলোনা। বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় লিওনেল মেসির পাশে খেলতে যাচ্ছে সে। আমি নিশ্চিত, ও সেখানে অনেক আনন্দে থাকবে এবং বার্সাকে আরও শক্তিশালী করবে।’

default-image

ওদিকে লিভারপুলের ডাচ্‌ মিডফিল্ডারও কোনো ধরনের ট্রান্সফার ফি ছাড়াই বার্সায় যোগ দেওয়ার ব্যাপারে অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছেন। গতকাল এই মিডফিল্ডারের মুখপাত্র দেখা করেছেন বার্সেলোনার কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে। ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত ভাইনালডমের সঙ্গে চুক্তি হতে যাচ্ছে বার্সার। প্রিয় কোচ কোমানের অধীনে খেলার জন্য, কম বেতনে বার্সেলোনায় খেলার জন্য রাজি হয়েছেন ভাইনালডম, এমনটাই শোনা যাচ্ছে। অনেকটা আগুয়েরোর মতোই। পিএসজি ও বায়ার্নের মতো ক্লাবগুলো ভাইনালডমকে চাইলেও এই ডাচ্‌ মিডফিল্ডার বার্সাতেই যেতে চান।

default-image

ওদিকে আগুয়েরোকে দলে টানা নিশ্চিত হয়ে গেলেই আরেক ‘ফ্রি’ খেলোয়াড় মেমফিস ডিপাইকে দলে আনবে বার্সেলোনা। এর মধ্যেই লিওঁর সতীর্থদের বিদায় জানিয়ে দিয়েছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও পিএসভির সাবেক এই স্ট্রাইকার। এই স্ট্রাইকারকে ২-৩ বছরের চুক্তি প্রস্তাব করেছে বার্সা। সবকিছু ঠিকঠাক হলেই স্বদেশি কোমানের অধীনে খেলতে আসবেন ডিপাইও।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন