default-image
>আমেরিকাজুড়ে চলতে থাকা বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনে সায় দিয়েছেন পিএসজি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আমেরিকান ফুটবল তারকা ওয়েস্টন ম্যাকেনি।

শুধু কৃষ্ণাঙ্গ বলে দোষ না থাকা সত্ত্বেও সাবেক বাস্কেটবল খেলোয়াড় জর্জ ফ্লয়েডকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশের বিরুদ্ধে। মানবাধিকারবিরোধী স্পর্শকাতর এই ঘটনার প্রেক্ষিতে তোলপাড় চলছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশে। শুধু তাই নয়। আমেরিকা ছাড়িয়ে এই আন্দোলনে বিশ্বব্যাপী কৃষ্ণাঙ্গ মানুষ সামিল হয়েছেন। বাড় পড়েননি কৃষ্ণাঙ্গ তারকারাও।

আগে এই তালিকায় নাম লিখিয়েছিলেন টেনিস তারকা কোকো গফ থেকে শুরু করে এনবিএ তারকা লেব্রন জেমস। এবার আন্দোলনে সুর মেলালেন পিএসজি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে ও জার্মান ক্লাব শালকে জিরো ফোরের কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকান মিডফিল্ডার ওয়েস্টন ম্যাকেনি।

গত ২৫ মে মিনেপোলিসের শ্বেতাঙ্গ পুলিশ অফিসার ডেরেক শভিন জর্জ ফ্লয়েডের মাথায় হাঁটু চেপে ধরে তাঁকে মেরে ফেলেন। শভিনের বিরুদ্ধে আনা চার্জে লেখা, ৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড ওভাবে ফ্লয়েডের মাথায় হাঁটু চেপে রেখেছিলেন শভিন, এর মধ্যে ২ মিনিট ৫৩ সেকেন্ড ছিল ফ্লয়েড নিস্তেজ হয়ে যাওয়ার পর! ফ্লয়েডের হাতে তখনই হ্যান্ডকাফ পরা ছিল, পুলিশের নির্দেশনা মেনে মাথা মাটির দিকে রেখে মাটিতে শুয়েই ছিলেন তিনি। তবু শভিনের ওভাবে হাঁটু দিয়ে মাথা চেপে ধরা। ঘটনার সময়ে আশপাশের মানুষের ধারণ করা ভিডিওতে প্রকাশ পায়, ফ্লয়েড বারবার বলছিলেন, 'আমি নিঃশ্বাস নিতে পারছি না।'

পুলিশের কথা, ফ্লয়েডের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ ছিল। তাঁকে গ্রেপ্তার করতে গেলে তিনি পুলিশের কাজে বাধা দিয়েছিলেন। কিন্তু পাশের এক রেস্টুরেন্টের সারভেইলেন্স ভিডিওতে দেখা যায়, ফ্লয়েডকে পুলিশ নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি দুবার পড়ে গিয়েছিলেন।

এ ঘটনার ভিডিও স্থানীয় এক টিভিতে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হতেই ফুঁসে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র। কৃষ্ণাঙ্গদের বিরুদ্ধে মানবাধিকারবিরোধী কাজের অভিযোগ তো সব সময়ই থাকে। সেটি এখন যেন চূড়ান্ত রূপ পেয়েছে।

গত শনিবার বুন্দেসলিগায় শালকে বনাম ওয়ের্ডার ব্রেমেনের ম্যাচে 'ফ্লয়েডের জন্য ন্যায়বিচার' লেখা একটা বাহুবন্ধনী পরে খেলতে নামেন শালকের আমেরিকান মিডফিল্ডার ওয়েস্টন ম্যাকেনি। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে নিজের অবস্থানের কথা আরও পরিষ্কার করেছেন ম্যাকেনি, 'আমার দেশে যে সমস্যা চলছে, সে ব্যাপারে নিজের মতামত এই প্লাটফর্মে প্রকাশ করতে পেরে বেশ ভালো লাগছে। আমি নিজে যা বিশ্বাস করি, যে নীতি মেনে চলি, তার পক্ষে দাঁড়াতে কখনও কুণ্ঠাবোধ করব না।'

ওদিকে 'জাস্টিস ফর ফ্লয়েড' একই হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে টুইট করেছেন ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। পরে নিজের স্পনসর নাইকির একটা ভিডিওবার্তা রি-টুইট করেছেন পিএসজির ফরাসি মহাতারকা। যাতে লেখা, 'অন্তত এই একবার এই কাজটা করবেন না। এই ভানটা ধরবেন না যে আমেরিকাতে কোনো সমস্যা নেই। বর্ণবাদের সমস্যাটা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন না। আমাদের কাছ থেকে নিরীহ প্রাণগুলোকে এভাবে কেড়ে নেওয়া মেনে নেবেন না। আর কোনো অজুহাত দেবেন না। ভাববেন না এটাতে আপনার কিছু যায়-আসে না। চুপটি করে ঘরে বসে থাকবেন না। এমন ভাববেন না যে আপনি এই বদলের অংশ হতে পারবেন না। চলুন সবাই এই বদলের সঙ্গী হই।'

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0