বছরে ৬ গোল করা স্ট্রাইকারকে বিদায় করে দিচ্ছে বার্সেলোনা
ডাচ্ স্ট্রাইকার লুক ডি ইয়ংয়ের সামর্থ্যের ওপর বার্সেলোনা কোচ জাভির যে বিশেষ ভরসা নেই, সেটা আগেই বোঝা গিয়েছিল। বার্সায় জাভির পূর্বসূরি রোনাল্ড কোমান গত আগস্টে দলবদলের শেষ দিনে সেভিয়া থেকে ধারে ন্যু ক্যাম্পে নিয়ে এসেছিলেন এই ডাচ্ স্ট্রাইকারকে। কোমানের পরিকল্পনা ছিল যেসব ম্যাচে আনসু ফাতি, ফিলিপ কুতিনিও কিংবা মেম্ফিস ডিপাইয়ের টিকিটাকা দিয়ে কাজ হবে না, সেসব ম্যাচে শেষ দিকে লুক ডি ইয়ংকে নামিয়ে তাঁর শক্তি ও উচ্চতাকে কাজে লাগিয়ে গোল বের করার।
বেশ যৌক্তিক পরিকল্পনা। কিন্তু সে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার জন্য কোচ থাকা লাগবে তো? লুক ডি ইয়ংয়ের কপাল খারাপ, তাঁর ওপর ভরসা করা সেই কোমান এখন আর বার্সার ডাগআউটে নেই, সে জায়গায় এসেছেন জাভি। আর জাভির পরিকল্পনার কোনো অংশেই ৩১ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকারের স্থান নেই। সব মিলিয়ে জাভির অধীনে মাত্র ৮ মিনিট খেলেছেন এই স্ট্রাইকার।
ডি ইয়ংকে নিয়ে জাভির অনাগ্রহের ব্যাপারটা আরও স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে এখন। ধারে আনা ডি ইয়ংকে আরেক স্প্যানিজ ক্লাব কাদিজে পাঠানোর সব ব্যবস্থা প্রায় পাকা করে ফেলেছেন জাভি। স্পেনের বার্সেলোনাভিত্তিক নির্ভরযোগ্য সব সাংবাদিকের খবর, লুক ডি ইয়ংকে ধারে কাদিজে পাঠানোর ব্যাপারে সেভিয়া, বার্সেলোনা ও কাদিজের ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা হয়ে গেছে। বাকি শুধু খেলোয়াড়ের সম্মতি।
এখানেই এখনো একটু ধোঁয়াশা আছে। কাদেনা কোপের নির্ভরযোগ্য সাংবাদিক হেলেনা কন্দিস জানিয়েছেন, বার্সেলোনা ছেড়ে কাদিজে যাওয়ার ব্যাপারে অতটা আগ্রহী নন ডি ইয়ং। আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ কোনো ক্লাবে যাওয়ারই ইচ্ছা তাঁর। কিন্তু সেটা করতে গিয়ে যদি খেলাই না হয়, তাতে আখেরে সেই ডি ইয়ংয়েরই তো ক্ষতি! শেষমেশ তাই কাদিজেই যাচ্ছেন এই স্ট্রাইকার।
ব্যাপারটা আরও স্পষ্ট হয়েছে কাদিজের হিন্দি অফিশিয়াল টুইটার অ্যাকাউন্টের একটি টুইটে। ডি ইয়ং–সংক্রান্ত এক টুইটে ইতিবাচক ইমোজি দিয়ে ডি ইয়ং যে কাদিজেই যাচ্ছেন, সেটি যেন অনানুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে দিয়েছে সেই টুইটার অ্যাকাউন্ট।
কাদিজের কোচ আলভারো সারভেরা অনেক দিন ধরে একটা স্ট্রাইকার খুঁজছিলেন। যে কারণে এখন আতলেতিকো মিনেইরোতে খেলা চেলসি ও আতলেতিকো মাদ্রিদের সাবেক স্প্যানিশ স্ট্রাইকার দিয়েগো কস্তার দিকেও নজর পড়েছিল তাঁর।
কিন্তু শেষমেশ লুক ডি ইয়ংকেই ভরসা মানছেন তিনি। যদিও গোল করার ক্ষেত্রে ডি ইয়ংয়ের তেমন নাম-ডাক নেই, এ বছর গোল পেয়েছেন মোটে ৬টি।
এমনিতেই চোটের কারণে বার্সেলোনার আক্রমণভাগের নাজেহাল অবস্থা। মেম্ফিস ডিপাই থেকে শুরু করে আনসু ফাতি, মার্টিন ব্রাথওয়াইট, সের্হিনিও দেস্ত, ইউসুফ দেমির—সবাই পড়েছেন চোটে। সুস্থ আছেন শুধু উসমান দেম্বেলে আর লুক ডি ইয়ং। সুস্থ দুজনের মধ্যে একজনকে ক্লাব থেকে বের করার জন্য জাভির এই আয়োজন দেখেই বোঝা যায়, ডি ইয়ং জাভির পরিকল্পনায় ঠিক কতটা অপাঙ্ক্তেয়!