মোনেম মুন্নার স্মরণে দোয়া অনুষ্ঠান।
মোনেম মুন্নার স্মরণে দোয়া অনুষ্ঠান। সৌজন্য ছবি

বাংলাদেশ ও কলকাতার ফুটবলে ছিলেন সমান জনপ্রিয়। দেশের গণ্ডি ছাপিয়ে মোমেন মুন্না নিজেকে নিয়ে গিয়েছিলেন ভিন্ন উচ্চতায়। কিন্তু বেশি দিন তা উপভোগ করার সুযোগ হয়নি প্রয়াত ডিফেন্ডারের। ২০০৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অকালে চলে গেলেন কিংবদন্তি ফুটবলার। কিডনি জটিলতার কাছে হার মানেন মাত্র ৩৮ বছর বয়সে।

প্রতিবছর ১২ ফেব্রুয়ারি দিনটি ভারক্রান্ত করে তোলে দেশের ফুটবল অঙ্গনকে। স্মরণ করা হয় প্রয়াত তারকাকে। আজ মোনেম মুন্নার ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকী নানাভাবে পালন করেছে বিভিন্ন সংগঠন। মতিঝিল ফুটবল ভবনে কোরআনখানি, মিলাদ ও দুস্থ ব্যক্তিদের মধ্যে খাবার বিতরণ করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। মুন্নার জন্মস্থান নারায়ণগঞ্জে মুন্না স্মৃতি সংসদ ও নারায়ণগঞ্জ সোনালী অতীত ক্লাবও স্মরণ করছে দিনটি। সকালে শোক র‌্যালি রের হয় শহরে। হয়েছে কোরআনখানিও।

বিজ্ঞাপন

নারায়ণগঞ্জ থেকে জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার আজমল হোসেন (বিদ্যুৎ) আজ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা সকাল সাড়ে দশটায় শোক র‌্যালি বের করেছি। নারায়ণগঞ্জ বন্দর খেয়াঘাট থেকে এই র‌্যালি বের হয়। মুন্না ভাইয়ের বাসায় কোরআনখানি হয়েছে। বন্দরে আমরা মিলাদের আয়োজন করেছি। সব মিলিয়ে প্রতিবছরই আমরা শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় প্রিয় মুন্না ভাইকে স্মরণ করি। তিনি ছিলেন আমাদের কাছে বড় এক আদর্শ ও অনুপ্রেরণা।’

default-image

নারায়ণগঞ্জের অনেক ফুটবলারই বেড়ে ওঠেন মুন্নাকে আদর্শ মেনে। জাকির, গাউস, বিদ্যুৎ, সুজন, ওয়ালী ফয়সালসহ অনেক ফুটবলার জাতীয় স্তরে প্রতিষ্ঠিত করেছেন নিজেদের। সবার কাছেই মুন্না ছিলেন বড় ভাইয়ের মতো। অনুজরা মুন্নাকে কখনোই ভুলবেন না।

ভুলবেন না অগ্রজেরাও। নারায়ণগঞ্জের সাবেক ফুটবলার আশরাফউদ্দিন আহমেদ চুন্নু বলেন, ‌‘মুন্নার আলোয় আলোকিত ছিল নারায়ণগঞ্জ তথা দেশের ফুটবল। ওর অকালে চলে যাওয়া দেশের ফুটবলের জন্যই বিরাট ক্ষতি।’

১৯৮২ সালে দ্বিতীয় বিভাগে শান্তি নগর ক্লাব দিয়ে ঢাকার ফুটবলে যাত্রা শুরু মুন্নার। পরের তিন বছর ছিলেন মুক্তিযোদ্ধায়। ‌১৯৮৭ থেকে ১৯৯৭ পর্যন্ত কাটান আবাহনীতে। দিনে দিনে তিনি হয়ে ওঠেন তুমুল জনপ্রিয় এক ফুটবলার। খেলা ছেড়ে হয়েছেন আবাহনীর ম্যানেজার।

জাতীয় দলের সাবেক কোচ অটো ফিস্টার একবার আক্ষেপ করে বলেছিলেন, ‘মুন্নার জন্ম ইউরোপে হলে অনেক উঁচুতে থাকত তার অবস্থান।’ ফিস্টার ভুল বলেননি, সুযোগ–সুবিধা পেলে হয়তো আরও অনেক দূর যেতেন জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক। মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মৃতিচারণায় এ কথাগুলো ঘুরেফিরে আসে সবার মুখেই।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন