বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

এদিকে পরশু ফাইনালের পরই খুবই নোংরা একটা কাজ করেছে উগ্র সমর্থকগোষ্ঠী। ম্যানচেস্টারের উইদিংটনে একটি চমৎকার দেয়ালচিত্র ছিল রাশফোর্ডের। সেটার গায়ে কদর্য ভাষায় বর্ণবিদ্বেষী কিছু বার্তা এঁকে দেওয়া হয়েছিল। অবশ্য উইদিংটন ও এর আশপাশের মানুষ সেটার প্রতিবাদ জানিয়েছেন আরও দুর্দান্তভাবে। ভালোবাসার বার্তা দিয়ে সে ম্যুরাল রাঙিয়ে দিয়েছেন তাঁরা।

এ ব্যাপারে রাশফোর্ড টুইটারে বেশ বড় এক বার্তা দিয়েছেন। সেখানে বলেছেন, এভাবে পেনাল্টি মিস করায় কতটা মন খারাপ হয়েছে, সেটা বলে বোঝানো যাবে না। এভাবে একটি শিরোপা হাতছাড়া হওয়ায় সতীর্থদের কাছে ক্ষমা চাইছেন। কিন্তু নিজের শিকড়ের জন্য কখনো তাঁর মনে কোনো অস্বস্তি ছিল না, থাকবেও না। আর তাঁর এ দুঃসময়ে যাঁরা পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদেরও ধন্যবাদ দিয়েছেন রাশফোর্ড।

default-image

টুইটারের সে বার্তায় রাশফোর্ড লিখেছেন, ‘কোথা থেকে শুরু করব আমি, তা–ও জানি না এবং এই মুহূর্তে কী অনুভব করছি, তা কীভাবে শব্দে প্রকাশ করব, সেটাও জানি না। আমি মনে করি, এটা স্পষ্ট যে আমি একটি কঠিন মৌসুম কাটিয়েছি। আর ফাইনালে আমি একটু কম আত্মবিশ্বাস নিয়েই নেমেছিলাম। আমরা সব সময়ই পেনাল্টির জন্য এভাবে দৌড়াই, কিন্তু এবার কিছু একটা ঠিক ছিল না। দীর্ঘ এই প্রক্রিয়ায় আমি নিজের জন্য একটু সময় বাঁচিয়েছিলাম এবং দুর্ভাগ্যক্রমে আমি যা চেয়েছিলাম, তা হয়নি।


‘আমার মনে হচ্ছে সতীর্থদের হতাশ করেছি। আমার মনে হচ্ছে, তাঁদের ডুবিয়েছি আমি। আমার মনে হচ্ছে তাঁরা আমাকে দলে অবদান রাখতে বলেছিলেন। আমি ঘুমের মধ্যেও পেনাল্টি থেকে গোল করতে পারি, এটা কেন নয়? শট নেওয়ার পর থেকেই আমার মাথায় এটা ঘুরছে। কেমন লাগছে আমার, সেটা বোঝানোর কোনো ভাষা নেই। ফাইনাল। ৫৫ বছর। একটা পেনাল্টি। একটা গল্প। আমি শুধু এটুকু বলব, অন্য রকম কিছু হোক, এটাই চেয়েছি। এই ক্ষমা চাওয়ার মধ্যেই আমি আমার সতীর্থদের ধন্যবাদ জানাতে চাই।

default-image

‘এবারের গ্রীষ্মেই আমার সেরা প্রতিযোগিতা উপভোগ করলাম এবং তাঁরা সবাই এতে দারুণ ভূমিকা রেখেছেন। এমন এক ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টি হয়েছে, যা অনড়। আপনাদের সাফল্যই আমার সাফল্য। আপনাদের ব্যর্থতা আমার। আমি এমন এক খেলার অংশ, যেখানে আমি নিজের ব্যাপারে অনেক কিছু পড়ি। আমার গায়ের রং, আমি কীভাবে বড় হয়েছি, কীভাবে আমি মাঠের বাইরে সময় কাটাই—এসব নিয়ে।

‘আমি আমার খেলা নিয়ে সমালোচনা গ্রহণ করি, আমার পারফরম্যান্স ভালো হয়নি, আমার আরও ভালো করা উচিত ছিল। কিন্তু আমি যেমন এবং আমার বেড়ে ওঠার বিষয়ে আমি কখনো ক্ষমা চাইব না। জাতীয় দলের জার্সি পরা ও হাজারো মানুষের সামনে পরিবারের উৎসাহ দেওয়ার এ মুহূর্তের মতো গর্ব আর কিছুতে বোধ করিনি। আজ আমি যেসব ইতিবাচক বার্তা পেয়েছি (বিদ্বেষী আচরণের শিকার হওয়ার পর) এবং উইদিংটনের মানুষের প্রতিক্রিয়া দেখে আপ্লুত। আমার চোখ ভিজে উঠেছে। এত চমৎকার সব বার্তার জন্য ধন্যবাদ। আমি আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরব। আমরা আরও শক্তি নিয়ে ফিরব।’

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন