বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

দ্বিতীয় ম্যাচটা শেরিফ জিতেছে থিলেরই গোলে—লুক্সেমবার্গের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে চ্যাম্পিয়নস লিগে গোল করলেন থিল। সেটিও চ্যাম্পিয়নস লিগে সবচেয়ে সফল ক্লাবের বিপক্ষে ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে (৮৯ মিনিট) জয়সূচক গোল!

ম্যাচ শেষে থিল তাই সত্যটাই জানিয়ে দিলেন, ‘এটা আমার ক্যারিয়ারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সেরা গোল। দল সাহস নিয়ে খেলেছে। আমি ভাগ্যবান যে দারুণ একটি গোল করতে পেরেছি।’

থিলের দুটি পায়ের ছবি কাল রাত থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরছে। দুটি পায়েই ট্যাঁটু আঁকা। বাঁ পায়ের ট্যাঁটুতে চোখ আটকে যায়। থিলের গায়ে ৩১ নম্বর জার্সি, স্বপ্ন দেখছেন চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপার। শেরিফের মতো ক্লাব যে প্রথমবারেই চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতে বসবে—এমন দুঃসাহসী স্বপ্ন থিল হয়তো দেখেননি।

কিন্তু চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলার স্বপ্ন তো ছিলই—ট্যাঁটুতে সেটিই হয়তো বুঝিয়েছেন ২৭ বছর বয়সী লুক্সেমবার্গের এ ফুটবলার। তাঁর এই স্বপ্ন কাল রাতে শুধু সত্যি হয়নি, দারুণ গোলে রঙিনও হয়েছে। তবে দারুণ কিছু করাটা বোধ হয় থিলের রক্তে, অনেকটাই পারিবারিক সূত্রে পাওয়া!

তাঁর বাবা সের্হে থিল ১৯৯৭ সালে খেলতেন লুক্সেমবার্গের ক্লাব সিএস গ্রেভেনমাচের–এ। কিক অফ থেকে সরাসরি গোলের নিয়মের সুবিধা নিয়ে ম্যাচের প্রথম কিকেই আভেনির বেগেনের বিপক্ষে চোখ ধাঁধানো এক গোল করেছিলেন সের্হে থিল।

সেবাস্তিয়ান তখন শিশু, কিন্তু খেলাধুলায় হাতে খড়ি ঘটেছে বাবা–মায়ের কাছেই। তাঁর মা নাথালিয়ে লুক্সেমবার্গের হয়ে অ্যাথলেটিকসের বিভিন্ন ইভেন্টে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি ফুটবলও খেলেছেন। সেবাস্তিয়ানের মতো তাঁর ছোট দুই ভাই অলিভিয়ের ও ভিনসেন্টও লুক্সেমবার্গ জাতীয় দলের খেলোয়াড়।

সেবাস্তিয়ানের ভাই ভিনসেন্ট মিরালেম পিয়ানিচের মতোই লুক্সেমবার্গের বয়সভিত্তিক দলে খেলে যোগ দেন ফরাসি ক্লাব মেস–এ। তবে পিয়ানিচের মতো জাতীয় দল হিসেবে বসনিয়া–হার্জেগোভেনিয়া বেছে নেননি। এদিকে সেবাস্তিয়ানের ক্যারিয়ারের বড় অংশ কাটছে লুক্সেমবার্গের ক্লাব প্রোগ্রেস নিয়েদারকর্নে। ২০১২ সালে এই ক্লাবে যোগ দিয়ে এ বছরই ধারে শেরিফে যোগ দিয়েছিলেন সেবাস্তিয়ান থিল।

ইউরোপা লিগে ২০১৭ সালে তাঁর গোলেই হেরেছিল স্কটিশ ক্লাব রেঞ্জার্স, বিবিসির চোখে যে হার রেঞ্জার্সের জন্য ‘সবচেয়ে বাজে ফলের একটি।’ প্রোগ্রেস নিয়েদারর্কনে থাকতেই গত বছর রাশিয়ান ক্লাব তাম্বভে যোগ দেন থিল। এরপর গত জানুয়ারিতে শেরিফ তাঁকে দেড় মৌসুমের জন্য ধারে নেয় কেনার পথ খোলা রেখে। কিন্তু কাল রাতে থিল যে গোলটি করলেন তাতে শেরিফ ধরে রাখার আগেই হয়তো ছোঁ মেরে নিতে পারে ইউরোপের কোনো বড় ক্লাব।

রিয়ালের জালে থিলের করা চোখ ধাঁধানো গোলে শেরিফ হয়তো শিরোপা জেতেনি, কিন্তু গোলটা বুড়ো বয়সে নাতি–নাতনিদের কাছে গল্প করার মতো। এই গোলে চ্যাম্পিয়নস লিগ ট্রফিতে শেরিফের নাম হয়তো খোদাই হবে না, কিন্তু টুর্নামেন্টের ইতিহাসে তা অন্যতম সেরা অঘটনের জন্ম দিয়েছে।

থিলের পায়ের ট্যাঁটুতে যে স্বপ্ন আঁকা, সেটি তিনি এক অর্থে বাস্তবে অনূদিত করেছেন এই গোলেই।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন