বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

ম্যাচে একটি গোলের জন্য হাপিত্যেশ করতে হচ্ছিল বাংলাদেশকে। পুরো ম্যাচের নাটাই নিজেদের হাতে থাকলেও খোলা যাচ্ছিল না ভারতের গোলমুখ। কখনো বাংলাদেশের স্ট্রাইকার তহুরা খাতুনের আলতো টোকা গোললাইন থেকে বিপদমুক্ত করছেন ভারতীয় ডিফেন্ডার, কখনো আনাই মগিনিরই ক্রস ফিরে এসেছে সাইডপোস্টে লেগে, ক্রসবারে লেগে ফিরে এসেছে শামসুন্নাহার জুনিয়রের ভলিও।

বারবার বল পোস্টে লিগে ফিরে আসায় গ্যালারিভর্তি স্টেডিয়ামের বাতাস তখন সংশয়ে ভারী—নিয়তি কি আজ খালি হাতিই ফিরিয়ে দেবে বাংলাদেশকে? ৭৯ মিনিটে আশীর্বাদ হয়ে এলেন ডিফেন্ডার আনাই মগিনি। বক্সের বাইরে ডান প্রান্ত থেকে তাঁর ক্রস ভারতীয় গোলকিপার লুফে নিতে ব্যর্থ হলে বল জড়িয়ে যায় জালে।

default-image

আনাই মগিনি মূলত একজন ডিফেন্ডার। আরও স্পষ্ট করে বললে রাইটব্যাক। সাধারণত গোল ঠেকানোই তাঁর কাজ। কিন্তু গোল ঠেকিয়ে ওপরে উঠে গোল করতে পারাই তো তারকা ডিফেন্ডারদের কাজ। আনাইকে বলা যায় আধুনিক রাইটব্যাক। রক্ষণভাগ সামলে ওভারল্যাপিং করে ওপরে উঠে ক্রস করতে পারেন। আবার সময়মতো নিচে নেমে রক্ষণভাগের দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে যান।

আজ তো গোল করে বাংলাদেশকে জেতালেন। আর ডিফেন্ডার হিসেবে তার পারফরম্যান্স? পুরো টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ যে একটি গোলও খায়নি, সেখানেও তো আছে আনাইয়ের বড় অবদান।

default-image

খাগড়াছড়ি জেলার মেয়ে আনাইয়ের জমজ বোন আনুচিং মগিনিও জাতীয় দলে খেলেন। এই চ্যাম্পিয়ন দলেও আছেন তিনি। মা-বাবা এবং চার বোন ও তিন ভাই মিলে বড় পরিবার। মা–বাবা দুজনই কৃষক। আর ভাইয়েরা মিস্ত্রি। এমন পরিবারে দুই ফুটবলার যমজ বোনই এখন আশার প্রদীপ।

২০১১ সালের বঙ্গমাতা ফুটবল দিয়ে আনাইয়ের শুরু। এরপর খাগড়াছড়ি জেলা দলের হয়ে খেলে ২০১৫ সালে অনূর্ধ্ব-১৪ জাতীয় দলে জায়গা করে নেওয়া। বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দল পেরিয়ে এখন জাতীয় দলে খেলছেন। বয়স ১৯ না পেরোনোয় থাকায় বয়সভিত্তিক দলেরও নিয়মিত মুখ আনাই।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন