শিরোনাম দেখে চমকে উঠেছেন নিশ্চয়ই। বাংলাদেশের ফুটবলে এত টাকা!

হ্যাঁ, এবার বাতিল হয়ে যাওয়া প্রিমিয়ার লিগে এক স্ট্রাইকারের ক্ষেত্রে ঘটেছে এমনটাই। মাঠের গোল আর তার পেছনে ক্লাবের খরচের তুলনা করলে ওই স্ট্রাইকারের এক গোলের দাম ১ কোটি টাকাই দাঁড়ায়।

default-image
বিজ্ঞাপন

খুব আশা নিয়ে মাসে ১৪ হাজার ডলার বেতনে ব্রাজিলিয়ান বংশোদ্ভূত তিমুর লেসথে জাতীয় দলের স্ট্রাইকার পেদ্রো হেনরিককে দলে ভিড়িয়েছিল শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র। পেদ্রো ফেডারেশন কাপ ও প্রিমিয়ার লিগ মিলিয়ে শেখ রাসেলের জার্সিতে ম্যাচ খেলেছেন চারটি। এই চার ম্যাচে তাঁর পা থেকে গোল এসেছে মাত্র একটি। চোটের কারণে বেশির ভাগ সময় মাঠের বাইরেই থাকতে হয়েছে ২৮ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকারকে।

ফেডারেশন কাপে উত্তর বারিধারার বিপক্ষে অভিষেক পেদ্রোর। সে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধেই পেশিতে চোট পেয়ে মাঠের বাইরে চলে যেতে হয় তাঁকে। এর পর খেলতে পারেননি ফেডারেশন কাপের আর একটি ম্যাচেও। চোট কাটিয়ে ফেরেন প্রিমিয়ার লিগে। কিন্তু এবারও মাত্র তিনটি ম্যাচ খেলেই অ্যাঙ্কেলের চোটে পড়েন, যেটি শেষ পর্যন্ত তাঁকে পাঠিয়ে দেয় অস্ত্রোপচারের টেবিলেই। এর আগে মোহামেডানের বিপক্ষে ২-১ গোলে হারা ম্যাচেই পেদ্রো করেছিলেন শেখ রাসেলের হয়ে তাঁর একমাত্র গোলটি।

পেদ্রোর সঙ্গে শেখ রাসেলের ৮ মাসের চুক্তিটি ছিল গত বছরের ১৫ নভেম্বর থেকে চলতি বছরের ১৫ জুলাই পর্যন্ত। তবে শর্ত ছিল, চুক্তি শেষের দুই মাস আগে দুই পক্ষের জন্যই খোলা থাকবে চুক্তি বাতিলের সুযোগ। করোনা ভাইরাসের কারণে সেভাবে চুক্তি বাতিলও করে শেখ রাসেল। এ হিসেবে ছয় মাসে বাংলাদেশের ক্লাবটি থেকে পেদ্রোর আয় হওয়ার কথা ৮৪ হাজার ডলার।

কিন্তু পেদ্রো ফিফার কাছে নালিশ করেছেন, শেখ রাসেল ছয় মাসের মধ্যে চার মাসের বেতনই তাঁকে দেয়নি। এখন ফিফার সিদ্ধান্তে তিনি সেই চার মাসের বেতন তো পাচ্ছেনই, সঙ্গে ‘জাস্ট ক্লজ’ আইনের আওতায় পেদ্রোকে ৩৯ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণও দিতে বলেছে ফিফা। কাজেই চার মাসের বেতন, জরিমানা ও চিকিৎসা খরচ মিলিয়ে এখন পেদ্রোকে শেখ রাসেল ক্লাবের দিতে হবে ৯৬ হাজার ডলার। সঙ্গে যোগ করুন প্রথম দুই মাসের বেতন ২৮ হাজার ডলার। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের ক্লাবটি থেকে পেদ্রো পাচ্ছেন এক লাখ ২৪ হাজার ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় এক কোটি ৫ লাখ টাকা।

বিজ্ঞাপন

ফিফার সিদ্ধান্ত জেনে এরই মধ্যে চার মাসের বেতন, জরিমানা ও চিকিৎসা খরচ মিলিয়ে পেদ্রোকে ৯৬ হাজার ডলার পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন শেখ রাসেল ক্লাবের পরিচালক সালেহ জামান সেলিম, ‘খেলা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর পেদ্রো টাকা না নিয়েই দেশে ফিরে যায়। এখন সেই টাকা পরিশোধ করতে বলেছে ফিফা। এরই মধ্যে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সহায়তায় বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে আমরা টাকা পরিশোধ করার প্রক্রিয়া শুরু করেছি।’

default-image

মোটা অঙ্কের এই অর্থের বিনিময়ে পেদ্রো তার ক্লাবকে উপহার দিয়েছেন মাত্র একটি গোল। তাঁর পারফরম্যান্সে ক্লাব তো হতাশই, তাঁর আচরণেও মনঃক্ষুণ্ন সালেহ জামান, ‘ভালো খেলোয়াড় বলেই আমরা তাঁকে নিয়েছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্য সে চোটের কারণে খেলতে পারেননি। তাঁর ব্যাপারে আমরা খুবই হতাশ। এ ছাড়া সে আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। চোটের কারণে খেলতে না পারলেও সে আমাদের কোনো ছাড় দেয়নি। চার মাসের বেতন বুঝিয়ে দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সে ক্ষতিপূরণের ছাড়টাও আমাদের দিল না।’

মন্তব্য পড়ুন 0