বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কাল বাংলাদেশের বিপক্ষে হার এড়াতে পারলেই নতুন এক ইতিহাস রচিত হবে নেপালের ফুটবলে। ফাইনালে গিয়ে শিরোপা জিততে পারলে সেটি অবশ্য আরও বড় ইতিহাস। সে হিসাব পরে। আপাতত ফাইনালে ওঠাটাই তাদের লক্ষ্য। কান্তিপুর পরিসংখ্যান ঘেঁটে বলছে, নেপাল ও বাংলাদেশের মুখোমুখি লড়াইয়ে পাল্লা ভারী নেপালের দিকেই। ২০০৫ সালে সাফে করাচিতে শেষবার নেপালকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। এরপর ২০১১, ২০১৩ ও ২০১৮ সালে টানা তিনটি সাফে নেপালের বিপক্ষে হেরেছে বাংলাদেশ।

সাফ গেমসের ফুটবলে একাধিকবার সোনা জিতেছে নেপাল। কিন্তু সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে কেন যেন কখনোই শিরোপা জেতা হয়নি তাদের। এবার মালেতে তাদের যাত্রাটা সুন্দর হয়েছে। প্রথম ম্যাচেই মালদ্বীপকে হারিয়ে দিয়েছে তারা। দ্বিতীয় ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে ৬ পয়েন্ট তুলে নেওয়া নেপাল হেরেছে ভারতের কাছে। সব মিলিয়ে এবার সাফ জয়ের একটা বড় সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছে নেপাল। বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচে কোনোরকম ‘অঘটন’ ঘটলে সেটি নেপালি ফুটবলের জন্য হৃদয়বিদারক ঘটনাই হবে বলে মনে করছে কান্তিপুর।

default-image

ম্যাচটি যদি নেপালের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়, তাহলে বাংলাদেশের জন্যও তো অনেকটা তেমনই। ২০০৩ সালে একবারই সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। ফাইনালে খেলেছে বাংলাদেশ ১৯৯৯ ও ২০০৫ সালে। সেমিফাইনালের হতাশায় পুড়তে হয়েছে ১৯৯৫ ও ২০০৯ সালে। ২০১১ সালের পর থেকে সাফে বাংলাদেশের দৃশ্যপটটা গেছে পুরোপুরি পাল্টে।

সবশেষ চারটি সাফে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে বাংলাদেশকে। সবচেয়ে হতাশার ছিল ২০১৮ সালে। গ্রুপের প্রথম দুই ম্যাচ জেতার পর বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীরা যখন সেমিফাইনালের টিকিট কেনা শুরু করেছেন, তখনই নেপালের বিপক্ষেই হয় স্বপ্নভঙ্গ। গোলকিপার শহিদুল আলম সোহেলের অমার্জনীয় ভুলে গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়ার পর নেপালের কাছে ২-০ গোলে হেরে বিদায় নিতে হয় বাংলাদেশকে।

default-image

এমন একটা অতীতকে সঙ্গে নিয়ে মালেতে এসে বাংলাদেশ একেবারে মন্দ করেনি। শ্রীলঙ্কাকে প্রথম ম্যাচে হারানোর পর ১০ জন নিয়ে খেলেও ভারতকে ১-১ গোলে রুখে দেওয়া গিয়েছিল। কিন্তু সমস্যাটা হয়েছে শেষ ম্যাচে মালদ্বীপের কাছে ২-০ গোলে হেরে। তবে ভারতের কাছে নেপাল হেরে যাওয়ায় সুযোগ এসেছে বাংলাদেশের সামনে। ফুটবল ইতিহাসে যে কটি দেশের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি জয়ের রেকর্ড বাংলাদেশের, সেই নেপালের বিপক্ষেই অঘোষিত সেমিফাইনাল। তবে জিততে হবে। জিতলে ২০০৫ সালের পর ফাইনাল। দেশের ফুটবলকে আবারও সাফল্যের রাস্তায় নিয়ে আসতে এ ফাইনালের বিকল্প নেই। ইতিহাসের গুরুত্ব যদি বিচার করা হয়, নেপালের চেয়ে কোনো অংশে তা কম নয় বাংলাদেশের।

বাংলাদেশ কি পারবে নেপালের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচকে কান্নায় পরিণত করতে?

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন