ফুটবলে বাংলাদেশের ‘দুঃখ’ কে? এ প্রশ্নের উত্তরে বারবারই চলে আসবে একটা নাম—বাইচুং ভুটিয়া। ভারতের সাবেক এই তারকা অনেকবার বাংলাদেশকে হতাশার সাগরে ভাসিয়েছেন। এমনও হয়েছে, বাইচুং একাই বাংলাদেশের বিপক্ষে ভারতকে জিতিয়ে নিয়ে বেরিয়ে গেছেন। ১৯৯৯ কিংবা ২০০৫ সালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে এই বাইচুংয়ের কাছেই হেরেছিল বাংলাদেশ।
দোহায় বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে আজ ভারত-বাংলাদেশ মুখোমুখি। ২০১৯ সালের অক্টোবরে প্রথম পর্বে কলকাতায় দুই দলের লড়াই ছিল অমীমাংসিত। ফিফার তালিকায় এগিয়ে থাকা ভারত যেকোনো বিচারেই বাংলাদেশের চেয়ে শক্তিশালী। তবে কলকাতার ম্যাচটি বলছে অন্য কথা, সেদিন জিততে জিততে শেষ মুহূর্তে গোল খেয়ে ১-১ গোলের ড্র-তে সন্তুষ্ট থাকতে হয় বাংলাদেশকে। কাগজে-কলমের শক্তি এ দুই প্রতিবেশীর ফুটবল দ্বৈরথে খুব একটা প্রভাব রাখে না। হাড্ডাহাড্ডি একটা লড়াই-ই যে এ দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াইয়ের বিশেষত্ব।
ভারতের হয়ে ১০৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন বাইচুং। তাঁর গোল ২৭টি।বাংলাদেশের বিপক্ষে বাইচুংয়ের গোল ৪টি।
ভারতের সাবেক তারকা বাইচুং অবশ্য আজকের ম্যাচে বাংলাদেশ কিংবা ভারত কাউকেই আলাদা করে এগিয়ে রাখতে রাজি নন। প্রথম আলোর সঙ্গে এক হোয়াটসঅ্যাপ আলাপচারিতায় তিনি মনে করেন আজকের ম্যাচে দুই দলেরই সমান সম্ভাবনা, ‘আমি মনে করি এ ম্যাচে পরিষ্কার কোনো ফেবারিট নেই। দুই দলেরই জয়ের সম্ভাবনা সমান।’
বাইচুং খেলা ছেড়েছেন অনেক দিন হয়েছে। তবে বাইচুংয়ের সময়ের ভারতের চেয়েও এখনকার ভারত আরও অনেক বেশি শক্তিশালী। এখন বাইচুং নেই, আছেন সুনীল ছেত্রীর মতো বিপজ্জনক তারকা। যিনি বাইচুংয়ের মতোই এক হাতে গড়ে দিতে পারেন যেকোনো ম্যাচের ভাগ্য। সুনীল ছেত্রী কতটা কী করতে পারেন, সেটি বাংলাদেশের চেয়ে ভালো বোঝে আর কোন দল!
তবে কলকাতায় ২০১৯ সালে ছেত্রীকে আটকে রাখার অভিজ্ঞতা আছে বাংলাদেশের। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে আফগানিস্তানের বিপক্ষে চার দিন আগে ১-১ গোলে ড্র ম্যাচ থেকে পাওয়া আত্মবিশ্বাস। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটায় ৮৪ মিনিটে গোল করে সমতা ফিরিয়েছিল বাংলাদেশ। সে ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধের ৪৮ মিনিটে গোল খেয়ে পিছিয়ে গেলেও এরপর আফগানদের বাংলাদেশ যেভাবে চেপে ধরেছিল, তা উৎসাহ জাগানিয়াই। ম্যাচটা যদি শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ জিতেও যেত, তাহলে অবাক হওয়ার কিছুই থাকত না।
বাইচুং মনে করেন ওই ম্যাচটা ড্র হওয়াতেই আজ বাংলাদেশ ভারতের বিপক্ষে অনেকটাই তেতে থাকবে। অন্যদিকে কাতারের বিপক্ষে হারের স্মৃতি থেকেও ভারত আজ বেরিয়ে আসতে চাইবে ‘আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটা ড্র করেছে বাংলাদেশ। সে কারণে আজ ভারতের বিপক্ষে তারা তিন পয়েন্টই তুলে নিতে চাইবে। একই কথা প্রযোজ্য ভারতের বেলাতেও। কাতারের বিপক্ষে ম্যাচটা ড্র হওয়ায় তারাও বাংলাদেশকে হারাতে চাইবে যেকোনো মূল্যে।’
ভারতের হয়ে ১০৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন বাইচুং। তাঁর গোল ২৭টি। ১১৫ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে ৭২ গোল করা সুনীল ছেত্রী বাইচুংয়ের চেয়ে যোজন ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও বাইচুং তো তাঁর আদর্শই। বাংলাদেশের বিপক্ষে বাইচুংয়ের গোল ৪টি। ১৯৯৭ সালে কাঠমান্ডু সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথমবার বাংলাদেশের রক্ষণ ভেঙেছিলেন তিনি। এরপর ১৯৯৯ গোয়া ও ২০০৫ করাচি সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালেও বাংলাদেশের হৃদয় ভেঙেছিলেন তিনি। বাইচুং আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাংলাদেশকে শেষ আঘাতটি করেছিলেন ২০০৭ সালে দিল্লিতে নেহরু কাপের ম্যাচে।
ফিফা স্বীকৃত আন্তর্জাতিক ম্যাচের বাইরেও এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের বিপক্ষে গোল আছে বাইচুংয়ের। ২০০২ সালে বুসান এশিয়াডে ভারতের বিপক্ষে ৩-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দল। তাতে একটি গোল ছিল গ্যাংটকে জন্ম নেওয়া ভারতীয় ফুটবলের অন্যতম সেরা এই তারকার।