দুই দল যেভাবে খেলছে, তাতে আদৌ কেউ পয়েন্ট হারাবে বলে মনে হচ্ছে না। এখন পর্যন্ত ৩৪ ম্যাচে সিটি সম্ভাব্য ১০২ পয়েন্টের মধ্যে হারিয়েছে ১৯ পয়েন্ট (৫ ড্র, ৩ হার), লিভারপুল ২০ (৭ ড্র, ২ হার), বাকি চার ম্যাচে কেউ পয়েন্ট না হারালেও সিটিই জিতবে শিরোপা। ঠিক যেন সেই ২০১৮-১৯ মৌসুমের মতো, যেবার লিভারপুল চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতলেও মাত্র ১ পয়েন্টের জন্য সিটিকে লিগ শিরোপা নিয়ে উল্লাস করতে দেখেছে। সিটি নিশ্চিতভাবেই চাইবে সে ঘটনার পুনরাবৃত্তি হোক। লিভারপুলের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে চার ম্যাচে ১২ পয়েন্ট জোগাড় করার। পাশাপাশি সিটি যেন অন্তত একটা পয়েন্ট হারায়, সে প্রার্থনাও থাকবে।

কারণ দুই দলের পয়েন্ট যদি সমানও হয়ে যায় কোনোভাবে, সে ক্ষেত্রে লাভ হবে লিভারপুলেরই। কারণ, আপাতত গোল ব্যবধানে সিটির (+৬৩) চেয়ে লিভারপুল (+৬৪) এগিয়ে। সেই এগিয়ে থাকাটাও পয়েন্ট ব্যবধানের মতোই। মাত্র এক!

default-image

ফলে হিসাব-নিকাশ এখন সামনে থাকা বাকি চার ম্যাচ ঘিরেই। সামনের রাস্তাটা কার জন্য বেশি কঠিন? শেষ পর্যন্ত সিটি না লিভারপুল—অবিশ্বাস্য এই লড়াইয়ে শেষ হাসি কার হবে? দেখে নেওয়া যাক, বাকি রাস্তাটা কার কেমন!

লিভারপুল-সিটির বাকি ৪ ম্যাচের প্রতিপক্ষ, ভেন্যু ও তারিখ

তবে দল দুটি যে এই চার ম্যাচ নির্ঝঞ্ঝাটে খেলবে, সে উপায় নেই। দুই দলই চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগের ম্যাচ খেলবে এর আগে—লিভারপুল ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে, সিটি খেলবে রিয়ালের সঙ্গে। ভেন্যুর দিক দিয়ে আবার ভাগ্য দুই দলকে সমপর্যায়ে নিয়ে এসেছে, সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগ দুই দলই খেলবে পরের মাঠে। চ্যাম্পিয়নস লিগ ছাড়াও লিভারপুলের চিন্তা আরেকটু বেশি। এই চার ম্যাচের মধ্যে সময় করে আবার এফএ কাপের ফাইনালেও খেলা আছে তাদের, চেলসির বিপক্ষে।

হাতে থাকা চার ম্যাচের মধ্যে সিটি আর লিভারপুল দুই ম্যাচ খেলবে উলভারহ্যাম্পটন আর অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে। মিল বলতে শুধু এটুকুই। উলভারহ্যাম্পটনের বিপক্ষে লিভারপুল ঘরের মাঠে খেললেও সিটি উলভসের মাঠে খেলতে যাবে। ঠিক উল্টোটা হবে অ্যাস্টন ভিলার ব্যাপারে। লিভারপুল অ্যাস্টন ভিলার মাঠে খেলতে গেলেও নিজেদের মাঠে স্টিভেন জেরার্ডের দলকে আতিথ্য দেবে সিটি।

আর অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে তাদের মাঠে লিভারপুলের সাম্প্রতিক ব্যর্থতা ক্লপের চিন্তা বাড়াবে নিশ্চিত। গত বছর এই অ্যাস্টন ভিলার মাঠে লিগের ম্যাচ খেলতে গিয়েই যে ৭-১ গোলে হেরে ভূত হয়েছিল লিভারপুল!

default-image

এই দুই ম্যাচ বাদে সিটি নিউক্যাসলের বিপক্ষে ঘরের মাঠে খেলবে, ওয়েস্ট হ্যামের মাঠে খেলতে যাবে। ওদিকে লিভারপুল ঘরের মাঠে আমন্ত্রণ জানাবে টটেনহামকে, খেলতে যাবে সাউদাম্পটনের মাঠে।

ধারাবাহিকভাবে বিশ্লেষণ করা যাক। লিভারপুলের পরের ম্যাচ আন্তোনিও কন্তের টটেনহামের সঙ্গে। যে টটেনহাম শুরুতে খানিক হোঁচট খেলেও সামনের মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগে জায়গা করে নেওয়ার লড়াইয়ে বেশ ভালোভাবেই আছে। হ্যারি কেইন আর হিউং মিন সন তো আছেনই, এবার দেয়ান কুলুসেভস্কি আর রদ্রিগো বেনতাঙ্কুরদের মতো খেলোয়াড়দের দলে যোগ দেওয়া টটেনহামের চ্যাম্পিয়নস লিগ স্বপ্ন উজ্জ্বল করেছে। আগের লেগে এই টটেনহামের বিপক্ষেই ১ পয়েন্ট হারিয়েছিল লিভারপুল, ড্র করেছিল ২-২ গোলে।

এরপর প্রতিপক্ষ সেই অ্যাস্টন ভিলা। প্রথম লেগে সালাহর পেনল্টি গোলের সুবাদে ১-০ গোলে যাদের হারিয়েছিল লিভারপুল। লিভারপুল–সমর্থকেরা হয়তো আশা করবেন, ক্লাব কিংবদন্তি ও অ্যাস্টন ভিলার বর্তমান ম্যানেজার স্টিভেন জেরার্ড সে ম্যাচে লিভারপুলকে ঠেকানোর কঠিন কৌশল নিয়ে যেন শিষ্যদের না নামান!

চেলসির বিপক্ষে এফএ কাপের ফাইনাল খেলতে হবে, এটা নিশ্চিত হওয়ার পরই সাউদাম্পটনের বিপক্ষে লিগ ম্যাচের তারিখটা বদলে যায় লিভারপুলের। অ্যাস্টন ভিলার পর সেই ম্যাচটাই খেলতে নামবে লিভারপুল। প্রথম লেগে এই সাউদাম্পটনকে হেসেখেলে হারিয়েছিল তারা, ৪-০ গোলে। লিগের শেষ ম্যাচে ঘরের মাঠে উলভারহ্যাম্পটনের বিপক্ষে নামবেন সালাহ-মানেরা। যদি তার আগে লিভারপুল পয়েন্ট হারায়, আর সিটি হাতে থাকা প্রত্যেকটা ম্যাচ জিততে থাকে, তখন এই ম্যাচের গুরুত্বই থাকবে না কোনো। প্রথম লেগে এই উলভারহ্যাম্পটনকে হারাতে ৯৪ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিল লিভারপুলকে। ফলে বলে দেওয়া যায়, ম্যাচটা সহজ হচ্ছে না লিভারপুলের জন্য।

ম্যানচেস্টার সিটির পরের ম্যাচ নিউক্যাসলের বিপক্ষে। কয়েক মাস আগে অবনমন অঞ্চলে ঘোরাফেরা করলেও নতুন কোচ-মালিকের আগমন আর ফর্মের উন্নতির কারণে নিশ্চিত করেছে, আর যা–ই হোক, দ্বিতীয় বিভাগে অন্তত নেমে যেতে হচ্ছে না তাদের। বিশেষ করে জানুয়ারির পর নিউক্যাসল প্রতিপক্ষ হিসেবেও যে আরও শক্তিশালী হয়েছে, সেটা বোঝা গেছে গতকাল। লিভারপুলকে বেশ কঠিন সময়ই উপহার দিয়েছে তারা। সিটি অবশ্য নিউক্যাসলের সঙ্গে নিজেদের আগের লেগের ম্যাচটা খেলেছিল জানুয়ারির আগে, সেবার জিতেছিল ৪-০ গোলে।

এর পরেই প্রতিপক্ষ উলভারহ্যাম্পটন, যাদের বিপক্ষে প্রথম লেগের ম্যাচে জিততে বেশ ঘাম ঝরাতে হয়েছিল সিটিকে। রহিম স্টার্লিংয়ের পেনাল্টি গোল হয়েছিল ম্যাচের নির্ধারক। পরের প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট হ্যামও আগের লেগে যন্ত্রণা দিয়েছিল সিটিকে। গার্দিওলার দল ২-১ গোলে জিতেছিল সেবার।

default-image

প্রতিপক্ষ ৪ দলের এই মুহূর্তে অবস্থান

লিভারপুল: টটেনহাম (৫), অ্যাস্টন ভিলা (১৩), সাউদাম্পটন (১৫), উলভারহ্যাম্পটন (৮) ; ম্যান সিটি: উলভারহ্যাম্পটন (৮), নিউক্যাসল (১০), ওয়েস্ট হাম (৭), অ্যাস্টন ভিলা (১৩)

শেষ লিগ ম্যাচে সিটির প্রতিপক্ষ অ্যাস্টন ভিলা। আগের লেগে যাদের ওই ২-১ গোলের ব্যবধানেই হারিয়েছিল সিটি।

তবে এসব তো কাগজে-কলমের হিসাব। ফুটবল এত কাগজে-কলমের হিসাবের ধার ধারে না বলেই তো লড়াইটা রোমাঞ্চ ছড়াচ্ছে। শেষ দিন পর্যন্তই কি ছড়াবে? এখনই ‘না’ বলার সাহস হয়তো কেউই দেখাবে না!

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন