default-image

দলে তারকা খেলোয়াড়ের উপস্থিতি, স্কোয়াড শক্তি, দলের ফর্ম—সবকিছুই বিবেচনায় রেখে বাজিকর প্রতিষ্ঠানগুলো বাজির দর ঠিক করে। ধরা যাক, কোনো এক দলকে সবচেয়ে শক্তিশালী ধরা হচ্ছে। আর সে দলের ইউরো জেতার সম্ভাবনা বলা হচ্ছে ৩/১। অর্থাৎ প্রতি ১ টাকা বাজি ধরলে টুর্নামেন্ট শেষে মাত্র ৩ টাকা পাওয়া যাবে। অর্থাৎ দলটি এতই শক্তিশালী যে তাদের টুর্নামেন্ট জেতার সম্ভাবনার পক্ষেই বেশি বাজি ধরা হবে, এটা জেনে এমন দর দিচ্ছে সে প্রতিষ্ঠান।

ইউরোর শুরুতে সেই দলটি ছিল ফ্রান্স। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন তারা। স্কোয়াডে জায়গা না পাওয়া খেলোয়াড়দের দিয়েই ইউরোতে লড়াই করার মতো আরেকটি দল গড়া সম্ভব। খেলোয়াড়ের এমন প্রাচুর্যে দিদিয়ের দেশমের দলের পক্ষে বাজি ছিল (৪.৭৫/১)। অর্থাৎ প্রতি ১০০ টাকার বাজিতে ৪৭৫ টাকা জেতার সুযোগ।

পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ঘরের মাঠে গুরুত্বপূর্ণ সব ম্যাচ খেলার সুবিধা পেয়ে যায় ইংল্যান্ড। আর তাই বাকি ফেবারিটদের চেয়ে বাজিকরেরা ইংল্যান্ডকে দুইয়ে (৬/১) রেখেছিল টুর্নামেন্টের শুরুতে। এরপর একে একে স্থান পেয়েছিল বেলজিয়াম (৭.৫/১), ইতালি (৮/১), পর্তুগাল (৮/১), জার্মানি (৯/১), স্পেন (৯/১), নেদারল্যান্ডস (১৫/১)। অর্থাৎ সেরা আট দল এরাই।

default-image

টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার পর পারফরম্যান্স দেখার পর অবশ্য বাজির দর বদলে গেছে। অনেক দলই দাপুটে শুরু করেছে। অনেক দলই আবার খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে গ্রুপপর্ব পার করেছে। ফলে বাজির দরও ওঠা–নামা করেছিল দলগুলোর।

শেষ ষোলোতে তাই ফ্রান্সের পক্ষে বাজির দর আরও কমে এসেছিল (৪.২/১)। গ্রুপ পর্বে দারুণ খেলার সুবাদে লাফ দিয়েছিল ইতালিও (৬/১)। এরপরই ছিল ফাইনালের পথে সহজ দিকটায় থাকা ইংল্যান্ড (৬.৫/১) ও জার্মানি (৭/১)। সম্ভাবনা বাড়িয়ে নিয়েছিল স্পেন (৭/১) ও নেদারল্যান্ডসও (৯/১)। ওদিকে কঠিন দিকে পড়ায় এবং পর্তুগালের মুখোমুখি হওয়ায় বাজির দরে পিছিয়ে গিয়েছিল বেলজিয়াম (১০/১)। তৃতীয় হয়ে শেষ ষোলোয় ওঠা পর্তুগালও পিছিয়ে গিয়েছিল অনেক (১৪/১)।

ইউরোর শেষ ষোলো চমকে দিয়েছে সবাইকে। চারটি দল একে অপরের মুখোমুখি হওয়ায় দুই ফেবারিটের বাদ পড়া নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু অন্য দুই ম্যাচে আরও দুই ফেবারিটও ছিটকে পড়েছে। বেলজিয়াম ও ইংল্যান্ডের সঙ্গে খেলা পর্তুগাল ও জার্মানি বাদ পড়েছে। ওদিকে সব বাজির দরকে অমূলক বানিয়ে দিয়ে ছিটকে পড়েছে ফ্রান্স ও নেদারল্যান্ডস।

default-image

কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পথে জার্মানিকে হারানোয় এখন ইংল্যান্ডের রমরমা। এ কারণেই ইতালিকে পেছনে ফেলে আবার বাজিকরদের ফেবারিট ইংল্যান্ড (২.০৫/১)। এখন ইংল্যান্ড ইউরো জিতবে—এ আশায় ১০০ টাকা বাজি ধরলে মাত্র ২০৫ টাকা পাওয়া যাবে। এরপর আছে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়া স্পেন (৩.২/১)।

আগামীকালের অন্য ম্যাচে ইতালিই (৩.৭/১) ফেবারিট। চার ম্যাচেই জেতা বেলজিয়ামের (৭/১) বাজির দরে পিছিয়ে থাকার কারণ দলের দুই মূল খেলোয়াড়—কেভিন ডি ব্রুইনা ও এডেন হ্যাজার্ডের চোট।

অবশ্য বাজির দরে কিছুই যে আসে যায় না, সেটা বোঝা যাচ্ছে গ্রুপ ‘এফ’–এর অবস্থা দেখে। টুর্নামেন্টের শুরুতে এই গ্রুপ থেকে কারও শিরোপা জেতার সম্ভাবনা ছিল সবচেয়ে বেশি (১.৫/১)। কোয়ার্টার ফাইনালে নেই ফ্রান্স, জার্মানি, পর্তুগাল বা হাঙ্গেরির কেউই!

default-image

ওদিকে টুর্নামেন্টের শুরুতে কোয়ার্টারের বাকি চার দল ডেনমার্ক, সুইজারল্যান্ড, ইউক্রেন ও চেক প্রজাতন্ত্রের ইউরো জেতার পক্ষে বাজির দর ছিল যথাক্রমে ২৫/১, ৬০/১, ১০০/১, ১২৫/১! নকআউট পর্বে ওঠার পরও বাজিতে খুব বেশি উন্নতি হয়নি। ডেনমার্ক ও চেকের তবু বাজির দর একটু কমেছিল (২০/১ ও ১০০/১)।

ওদিকে ফ্রান্স ও সুইডেনের সামনে পড়ায় সুইজারল্যান্ড ও ইউক্রেনকে গোনাতেই ধরা হচ্ছিল না। টুর্নামেন্ট শুরুর অবস্থার চেয়েও পিছিয়ে রাখা হয়েছিল তাদের! কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালে ঠিকই উঠে গেছে ১০০/১ ও ১২৫/১ বাজির দর নিয়ে নামা সুইজারল্যান্ড ও ইউক্রেন।

সর্বোচ্চ আর তিন ম্যাচ বাকি দলগুলোর। তাই ধীরে ধীরে সম্ভাবনা বেড়ে উঠেছে এই আন্ডারডগদের। তাই সুইজারল্যান্ডের ইউরো জেতার সম্ভাবনা এখন ২৫/১-এ দাঁড়িয়েছে। চেক প্রজাতন্ত্রেরও তাই। ইংল্যান্ডের সামনে পড়ায় ইউক্রেনকে একটু পিছিয়ে রাখছে বাজিঘর (৩৩/১)। তবে ক্রিস্টিয়ান এরিকসেনের দলের সম্ভাবনা কিন্তু এখন ফেবারিটের তকমা লাগানোর মতোই (১০/১)।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন